1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

কুর্দ-সংকটের ঢেউ এবার জার্মানিতেও

জার্মানিতে প্রায় ৮ লক্ষ কুর্দ বসবাস করেন৷ তাঁরা ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও তুরস্ক থেকে এসেছেন৷ অবশ্য জার্মানিতে তুরস্ক থেকে আসা কুর্দদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷

স্বাধীন কুর্দিস্তান ও কুর্দদের অধিকার রক্ষার জন্য বহু বছর ধরে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে পিকেকে গোষ্ঠী৷ ইংরেজিতে যাকে বলা হয় কর্দিস্তান ওয়ারকার্স পার্টি৷ জার্মানিতে দলটিকে সন্ত্রাসী দল বলে গণ্য করা হয়৷ সংখ্যার বিচারে পিকেকের ১৩ হাজারের মতো অনুসারী রয়েছে জার্মানিতে৷ বার্লিনের মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গুলিস্তান গ্যুরবাই বলেন ‘‘সংখ্যাটা উপেক্ষা করার নয়৷''

কুর্দ সম্প্রদায়কে স্বদেশে নানা দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়৷ কয়েক দশক তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে চেপে রাখা হয়েছিল৷ কেউ কুর্দি ভাষায় কথা বললে বা বাচ্চার নাম কুর্দি ভাষায় রাখলে তাকে শাস্তি পেতে হতো৷ এমনকি কারাগারেও নিক্ষেপ করা হতো৷ আর নিজ অধিকারের জন্য সোচ্চার হলে তো কথাই নেই, অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যেত৷

Kirkuk nimmit nicht an der Wahl teil. Kirkuk police mounts guard at a gas well in Kirkuk. Copyright: Karlos Zurutuza, DW Mitarbeiter, Kirkuk, March 2013

তুর্কি সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার কুর্দরা...

বৈষম্যের শিকার

ছোটবেলার বৈষম্যের কথা মনে হলে এখনও ক্ষোভ জেগে ওঠে জার্মানিতে বসবাসরত ইসমাইলের মনে৷ কুর্দ সম্প্রদায়ের মানুষ তিনি৷ তুরস্কের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ির কাছের স্কুলে পড়তেন৷ স্কুলে এলে প্রতিদিন সকালে ছেলে-মেয়েদের শপথ নিতে হতো যে, একজন ভালো তুর্কি হতে হবে তাদের৷ আমরা কুর্দি ভাষায় কথা বললে মারধোর করা হতো৷ ‘‘তখন যদি পিকেকে থাকত তাহলে আমি তাদের সঙ্গে যোগ দিতাম৷ '' বলেন ইসমাইল৷

১৯৮৪ সালে দক্ষিণ তুরস্কে একটি স্বাধীন, সমাজতান্ত্রিক কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পিকেকে লড়াই শুরু করলে তুর্কি সেনাবাহিনী তা কঠোর হাতে দমন করে৷ ইসমাইল তখন জার্মানিতে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত৷ তা নাহলে স্বাধিকারের লড়াইতে যোগ দিতেন৷ জানান ইসমাইল৷ আজ কুর্দ-সমিতির সক্রিয় কর্মী ইসমাইল৷ তুর্কি সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার৷ আয়োজন করেন মিটিং মিছিলের৷

Kurden und die Irak -Krise Autor: Munaf Al-Saidy Photo: 1 Main title\ Kurds and the current Iraq crisis. Photo titl\ Kurdish condemnation of the military operation ,Erbil, Iraq. Place and Date: Iraq, Erbil, Apr,28,2013. Copyright\ Photographer: Munaf Al.saidy.

স্বাধীন কুর্দিস্তানের বদলে তুরস্কের ভেতরে থেকেই কুর্দদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সচেষ্ট পিকেকে

গৃহযুদ্ধ চরমে ওঠে

৯০-এর দশকে স্বাধীন কুর্দিস্তানের জন্য গৃহযুদ্ধ চরমে ওঠে৷ জার্মানিতেও এসে পড়ে এই ঢেউ৷ জার্মানির বড় বড় শহরে বিভিন্ন তুর্কি প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ট্রাভেল এজেন্সি ইত্যাদিতে আক্রমণ চালানো হয়৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে পিকেকে পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়৷ কিন্তু পিকেকে তার কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি৷ নিজস্ব টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা ও সাংস্কৃতিক সমিতির মাধ্যমে পিকেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে৷ খরচ চালানো হয় কুর্দ জনগোষ্ঠীর চাঁদার টাকায় ৷

পিকেকের আয়

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জার্মানিতে পিকেকের আয় কয়েক লক্ষ ইউরো হবে৷ কুর্দদের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করা ও গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করার অপবাদ অস্বীকার করেন ইসমাইল৷ তাঁর মতে, কুর্দ সম্প্রদায়ের মানুষরা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন সাহায্য করতে৷ বার্লিনের পুলিশও জানিয়েছে, গত বছরগুলিতে কুর্দদের কাছ থেক জুলুম করে টাকা আদায় করার প্রবণতা অনেক কমে গেছে৷

Residents register their names before voting at a polling station in Baghdad April 20, 2013. Iraqis voted for provincial councils on Saturday in their first ballot since U.S. troops left the country, a key measure of political strength before parliamentary elections next year. Iraqi politics are deeply split along sectarian lines with Prime Minister Nuri al-Maliki's government mired in crisis over how to share power among Shi'ites, Sunni Muslims and ethnic Kurds who run their own autonomous region in the north. Violence and suicide bombings have surged since the start of the year with a local al-Qaeda wing vowing a campaign to stoke widespread confrontation among the country's combustible sectarian and ethnic mix. REUTERS/Mohammed Ameen (IRAQ - Tags: POLITICS ELECTIONS)

নারী অধিকারের জন্য সোচ্চার হলে তো কথাই নেই...

পিকেকের এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুজাফফা আইয়াটা জানান, সহিংসতার পথ পরিহার করার জন্য পিকেকের তরফ থেকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া আছে ৷ ১৯৯০-এর শেষ দিক থেকে এই পরিবর্তনটা শুরু হয়েছে৷ একটি স্বাধীন কুর্দিস্তানের বদলে তুরস্কের ভেতরে থেকেই কুর্দদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হচ্ছে পিকেকে৷ কেননা গত কয়েক বছর ধরে কুর্দি সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ ইস্তাম্বুল ও তুরস্কের বড় বড় শহরে কাজ খুঁজতে যাচ্ছেন৷ সেক্ষেত্রে কুর্দদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা খুব সহজ নয়৷ এছাড়া তুরস্কের সরকার কুর্দদের ব্যাপারে কিছুটা ছাড়ও দিয়েছে৷ যেমন কুর্দদের জন্য নিজস্ব টিভি প্রোগ্রাম ও ভাষাশিক্ষা স্কুলের অনুমোদন দিয়েছে৷ অন্যদিকে পিকেকেও বুঝতে পেরেছে যে, সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়৷

রাজনৈতিক যুদ্ধ

ইসমাইলের মতে, ‘‘এখন রাজনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে৷ পিকেকে ও তুরস্ক সরকারের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ওপর জোর দিতে হবে৷'' তুরস্ক সরকার কুর্দদের অধিকার রক্ষার অনেক দাবি মেনে নেবে বলে অঙ্গীকার করেছে৷ পিকেকেও তাদের নেতা আব্দুল্লাহ ও্যচালানের ডাকে সারা দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ থেকে সরে আসবে জানিয়েছে৷ উল্লেখ্য, পিকেকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ ও্যচালান ১৯৯৯ সাল থেকে তুরস্কের কারাগারে আটক আছেন৷ কারাগারে থেকেই তুরস্ক সরকারের সঙ্গে এই সংকটের ব্যাপারে দরকষাকষি করছেন তিনি৷ মে মাসের প্রথম থেকেই সশস্ত্র কুর্দ গেরিলাদের তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে৷ যার মাধ্যমে প্রায় তিন দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ জার্মানিকেও তখন পিকেকেকে নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়