1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কুর্ট ভাইল রচিত সংগীতের আবেদন এখনও অম্লান

অপেরা ও মিউজিক্যাল সংগীত জগতের এক দিকপাল ছিলেন জার্মান সুরকার, পিয়ানো বাদক ও সংগীত নির্দেশক কুর্ট ভাইল৷ দোসরা মার্চ ছিল এই খ্যাতিমান সংগীতকারের ১১১তম জন্ম বার্ষিকী৷

default

১৯২৮ সালে বিখ্যাত জার্মান নাট্যকার ব্যার্টল্ট ব্রেশ্ট্ রচিত ‘থ্রি পেনি অপেরা' র সুরকার হিসেবে কুর্ট ভাইল পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা৷ ‘থ্রি পেনি অপেরা' র গান ‘দি মোরিটাট ফন ম্যাকি মেসার' বা ‘ম্যাক দ্যা নাইফ' গানটি গেয়েছেন বহু খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী৷ তার মধ্যে প্রবাদপ্রতিম মার্কিন গায়ক ও বাদক লুইস আর্মস্ট্রং উল্লেখযোগ্য৷

কুর্ট ভাইল এর জন্ম ১৯০০ সালে জার্মানির দেসাউ শহরে এক ইহুদি পরিবারে৷ বারো বছর বয়স থেকে পিয়ানোয় তাঁর হাতেখড়ি৷ ১৫ বছর বয়সে তাঁর প্রথম পিয়ানো কনসার্ট৷ তারপর থেকেই বহু খ্যাতিমান কবি ও গীতিকারের কথায় সুর দেন ভাইল৷ বার্লিন সংগীত বিদ্যালয়ে কম্পোজিশন বিভাগে শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি৷ সংগীত জীবনের প্রথম দিকে ধ্রুপদী সংগীতই ছিল তাঁর লক্ষ্য৷ কিন্তু বিশ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে অপেরা, বিষেশ করে মিউজিক্যল এর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি৷ মার্কিন জ্যাজ সংগীতে প্রভাবিত হন তিনি৷ ব্রেশ্ট্'এর সাথে ভাইলের আরোও একটি উল্লেখযোগ্য অপেরা ‘দ্যা রাইজ অ্যান্ড ফল অফ মাহাগনি'৷ এই অপেরার অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গান ‘আলাবামা সং'৷ অনেকে গেয়েছেন এই গান৷ তবে ষাটের দশকে সংগীত গোষ্ঠী ‘দ্য ডোরস' এর পরিবেশনা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য৷

Deutschland Geschichte Musik Kurt Weill Komponist

কুর্ট ভাইল৷

তাঁর সমাজ সচেতন ও বামপন্থি মনোভাবের জন্য তদানীন্তন নাৎসি সরকারের রোষের শিকার হোন কুর্ট ভাইল৷ জার্মানি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন তিনি৷ প্রথমে প্যারিস, পরে লন্ডন এবং অবষেশে ১৯৩৫ সালে থিতু হোন তিনি নিউ ইয়র্কে৷ বিখ্যাত গীতিকার আইরা গার্শউইন ও ম্যাক্সওয়েল অ্যান্ডারসনের সাথে রচনা করেন ‘নিকারবোকার হলিডে' মিউজিক্যল৷ এই মিউজিক্যল এর ‘সেপ্টেম্বর সং' গানটি পায় অসাধারণ সাফল্য৷ ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা এই গানকে আরও জনপ্রিয় করে তোলেন৷

১৯৫০ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিউ ইয়র্কে মৃত্যু বরণ করেন এই বিশিষ্ট সংগীতকার৷ দুই দশকের বেশি সময়ে কুর্ট ভাইল রচনা করেছেন অসংখ্য ছোট অপেরা ও ব্রডওয়ে মিউজিক্যল৷ সেই সাথে রেখে গেছেন একাধিক সিম্ফনি, স্ট্রিং কোয়ার্টেট, পিয়ানো ও বেহালার জন্য রচিত সংগীত৷ বহু সম্মাননায় ভুষিত হয়েছেন তিনি৷ প্রতি বছর তাঁর জন্মস্থান দেসাউ'তে, তাঁকে সম্মান জানাতে অনুষ্ঠিত হয় সংগীত উৎসব৷ নিউ ইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘কুর্ট ভাইল ফাউন্ডেশন'৷ ধ্রুপদি শৈলীর সাথে ব্লুস, জ্যাজ সংগীতের নিপুণ মিশ্রণে উজ্জ্বল তাঁর মিউজিক্যাল আজো বহু সেরা সংগীত শিল্পীদের প্রেরণা জোগায়৷

প্রতিবেদন: মারুফ আহমদ

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়