1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

কুমেরুর বরফ গলছে তলা থেকে

দক্ষিণ মেরুতে আইস শেল্ফ নামধারী ভাসন্ত বরফের পাতগুলো পরীক্ষা করে দেখার পর বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, আইস শেল্ফগুলি সাগরের পানির নীচেই সবচেয়ে বেশি গলছে৷

আইস শেল্ফ বা ‘বরফের তাক' সৃষ্টি হয় যখন কোনো হিমবাহ কি অন্য ধরনের বরফের প্রবাহ উপকূলে পৌঁছে সাগরের পানির উপর এসে পড়ে৷ আইস শেল্ফ শুধুমাত্র দক্ষিণ মেরু, গ্রিনল্যান্ড আর ক্যানাডায় পাওয়া যায়৷ এ ধরনের আইস শেল্ফ একশো থেকে এক হাজার মিটার ঘনত্বের হতে পারে৷

বিশ্বের উষ্ণায়নের ফলে সাগরের পানির তাপমাত্রাও বেড়েছে এবং তার ফলে কুমেরুর আইস শেল্ফগুলি তলা থেকে গলে যাচ্ছে, ‘সায়েন্স' জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষাটিতে বলা হয়েছে৷ ‘‘তলা থেকে'' – এটাই হল লক্ষণীয়৷ আইস শেল্ফের তলা থেকেও যে বরফ গলে, তা বিজ্ঞানীদের অনেক দিন ধরেই জানা৷ পরিভাষায় একে বলা হয় ‘বেসাল মেল্ট', অর্থাৎ ‘ভিত থেকে গলা'৷ তবে বিজ্ঞানীরা ধরে নিচ্ছিলেন যে, আইস শেল্ফ থেকে আইসবার্গ বা হিমশৈল ভেঙে যাওয়ার ফলেই আইস শেল্ফের তলা থেকেও বরফ গলে৷

International Polar Foundation

আইস শেল্ফগুলি সাগরের পানির নীচেই সবচেয়ে বেশি গলছে

গোড়ায় নয়, তলায় গলদ

এবার পুরো ব্যাপারটি ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, আইস শেল্ফের যতো বরফ গলছে, তার বৃহত্তর অংশটি আসছে শেল্ফের তলা থেকে৷ সেখানেই বেশি করে বরফ গলছে৷ পরিসংখ্যান বলছে: ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল অবধি কুমেরুর আইস শেল্ফগুলি থেকে বছরে ১,৩২৫ ট্রিলিয়ন কিলোগ্রাম বরফ খোয়া গেছে বেসাল মেল্ট বা তলা থেকে বরফ গলার কারণে৷ সে তুলনায় আইসবার্গ বা হিমশৈল হয়ে প্রতিবছর খোয়া গেছে ১,০০৮ ট্রিলিয়ন কিলোগ্রাম বরফ৷ যা স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, আইস শেল্ফের তলা থেকেই বেশি বরফ গলছে৷

তবে প্রকৃতিতে কোনো প্রক্রিয়া সরল নয়, সহজ নয়৷ যেমন কুমেরুর সামগ্রিক আইস শেল্ফ এলাকার দুই তৃতীয়াংশ যে তিনটি সুবৃহৎ আইস শেল্ফকে নিয়ে, তাদের সব ক'টি কিন্তু মোট বেসাল মেল্টের মাত্র ১৫ শতাংশের জন্য দায়ী৷ আবার যে আইস শেল্ফগুলিতে বেশি বেসাল মেল্ট ঘটছে, সেগুলোও গোটা দক্ষিণ মেরুতে ছড়ানো৷

ধাঁধা ওখানেই শেষ নয়৷ কুমেরুর উপরিভাগের আস্তরণ যে গতিতে বরফ হারাচ্ছে, আইস শেল্ফগুলি থেকে বরফ গলছে তার দ্বিগুণ গতিতে৷ অবশ্য এ ধাঁধাঁর উত্তরটা সহজ: আইস শেল্ফের উপর ও নীচ, দু'দিক থেকেই বরফ গলার সম্ভাবনা রয়েছে৷ আবার আইস শেল্ফের বরফ গলার মানেই যে শেল্ফটা ছোট হয়ে আসছে, এমন নয়৷ কেননা কুমেরুর মূল অংশ থেকে হিমরাশি এসে সেই ঘাটতি আবার পূরণ করে দিতে পারে৷

জরিপে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এ সব কিছু বিবেচনা করলেও বলতে হয় যে, কুমেরুর কয়েকটি অংশে আইস শেল্ফগুলি বড় তাড়াতাড়ি গলছে৷ এবং তার ফলে কুমেরুর হিমবাহগুলি, এমনকি গোটা মহাদেশটার ধারাপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে৷ মুশকিল শুধু এই যে, পৃথিবীর মোট পানযোগ্য পানির ৬০ শতাংশই রক্ষিত আছে কুমেরুর ঐ বরফের আস্তরণের ভিতরে৷

এসি/ডিজি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়