1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘কী বই পড়ছেন – আজকাল?’

জানি না, এ প্রশ্ন আজ আর কেউ করে কিনা৷ আমাদের আমলে বই পড়াটা ছিল বড় হওয়া, মানুষ হওয়া থেকে শুরু করে – বেঁচে থাকার অঙ্গ৷ কী বই পড়ছি অথবা পড়েছি, তা দিয়ে প্রেমিকাকে পর্যন্ত ইমপ্রেস করা যেত৷

বলতে কি, যেন বই পড়েই মানুষ হলাম৷ একটা নয়, তিনটে ভাষায়৷ শুরু হয়েছিল জল পড়ে পাতা নড়ে দিয়ে৷ ন'খানা বর্ণপরিচয় তার আগে চিবিয়ে খেয়েছিলাম না পরে, সেটা আজ বলতে পারব না৷ সি-এ-টি ক্যাট, বি-এ-টি ব্যাট, ওঃ নাঃ, তার আগেও তো ছিল এ ফর অ্যাপল, বোধহয় ম্যাকমিলানের, সে যে কী স্বর্গীয় আপেল, তার যে কি শোভা!

DW Bengali Arun Sankar Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

তারপর কবে যেন একটা ছোটদের রবিন হুড হাতে এলো, পাঠ্য বই হিসেবে৷ তা-তে লিটল জন কিংবা শেরউড ফরেস্ট-কে যত না মনে আছে, তার চেয়ে বেশি মনে আছে ইংল্যান্ডের গ্রামের একটা ল্যান্ডস্কেপ: সে যে কী অসাধারণ ডাইনি বুড়ির বিস্কুট দিয়ে তৈরি কুটিরের মতো বাড়ি; কিরকম পেল্লাই মোটা মোটা গরু ঘুরে বেড়াচ্ছে – কিন্তু কোথাও গোবরের তাল পড়ে নেই৷ সত্যিই তো, ইংল্যান্ডে তো কেউ ঘুঁটে দেয় না...

বাংলা থেকে ইংরিজি বেলাইনে চলে যাওয়াটা আমার আগে বঙ্কিম এবং মাইকেলের মতো মহাত্মারা করে গেছেন৷ স্বয়ং রবি ঠাকুর তাঁর একটি নমস্কারে প্রভুর অনুবাদ করেছেন ‘‘ওয়ান স্যালুটেশন টু দ্য মাই লর্ড'' – এবং সেজন্য নোবেল প্রাইজও পেয়েছেন৷

অথচ মা কিন্তু আমাদের থাবড়ে থাবড়ে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি শুনিয়ে ঘুম পাড়াতেন; পরে অবন ঠাকুরের বুড়ো আঙলা আর নালক শুনেছি মা-র কাছে, গরমের দুপুরের আধঘুমে৷ বাংলাটা ছিল রক্ত-মাংস, ইংরিজিটা জামাকাপড়, আজও আছে৷

ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে চলে যাই সেই আমলে, যখন মা বেথুন কলেজ লাইব্রেরি থেকে ইস্পাত, রংরুট, কাল তুমি আলেয়া-র মতো মোটা মোটা উপন্যাস আনছেন আর আমি আর আমার বড়দি সেগুলো গোগ্রাসে পড়ছি – প্রাপ্তবয়স্ক না হয়েই৷ তার পরপরই বাবা রবি ঠাকুরের উপর তাঁর বই লিখতে শুরু করলেন: তেতলার কাঁচের আলমারি থেকে বড়মামি-মার বহুমূল্য রবীন্দ্র রচনাবলী একতলায় নামতে শুরু করল, খণ্ড বাই খণ্ড৷ আমার রাবীন্দ্রিক দীক্ষা হলো: তখন আমি ক্লাস সেভেনে৷

সেখান থেকে সোজা প্রমোশন বড়মামার বইয়ের তাকে – সে-ও তেতলায় – নানা ইংরিজি নভেল: পি জি উডহাউস থেকে শুরু করে আগাথা ক্রিস্টি, সঙ্গে উইলিয়াম সমারসেট মম কি এ জে ক্রনিন৷ সেগুলো ঊর্ধশ্বাসে পড়ে ফেলতে না ফেলতে বাবার পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা কড়কড়ে দু'টাকার নোট ‘‘ধার নিয়ে'' গোল পার্কের কাছে এক বিহারির স্টল থেকে ফরাসি লেখক আলবেয়ার কামু-র সুবিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য ফল' কিনে ফেললাম – অবশ্যই ইংরিজি অনুবাদে: জাস্টিন ও'ব্রায়েন-এর কি?

সেখান থেকে ইংরিজিতে বিএ-এমএ তো আর খুব বেশি পথ নয়৷ তার পর আবার জার্মান প্রবাস, জার্মান ভাষা শিক্ষা, কবি রিলকে, কথাসাহিত্যিক কাফকা-কে নতুন করে আবিষ্কার....কিন্তু প্রবাসে এসে দেখি, স্বদেশ আমার বই সেজে বুকশেল্ফের একটা কোণা আলো করে রেখেছে৷ তারাশঙ্করের হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, কবি, আরোগ্য নিকেতন, গণদেবতা, ধাত্রীদেবতা; শরৎ রচনাবলী (এক খণ্ডে); বঙ্কিম রচনাবলী (প্রথম খণ্ড, সমগ্র উপন্যাস)৷ অন্যদের আর নাম করলাম না – কিন্তু ডাউন টু অতীন ব্যানার্জ্জি অথবা শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, ঝুলিতে সবাই ছিলেন এবং আছেন৷

নতুন বই? তা-ও পড়া হয়, কিন্তু পুরনো বইগুলো যেন আমার হোমিওপ্যাথির বাক্সের মতো: এরাই আমার পালসেটিলা, নাক্সভমিকা৷ এই তো, গতকাল একটা ভাইরাল ইনফেকশন হয়ে কোঁকাচ্ছি৷ শেষে বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী খুলে দীনেশ চন্দ্র সেনের ‘বৃহৎ বঙ্গে' তার ঐতিহাসিক দিকটা চেক করে নিলাম৷ রোগ না সারলেও, মন ভালো হয়ে গেল...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়