কী ছিল সাগর সরওয়ারের ল্যাপটপে? | বিশ্ব | DW | 11.02.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কী ছিল সাগর সরওয়ারের ল্যাপটপে?

তিন বছর আগে নৃশংসভাবে খুন হন সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি৷ এই দীর্ঘ সময়ে তদন্তের কূল-কিনারা করতে পারেনি ব়্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যু সামনে এলেও এখন প্রধান আলোচ্য সাগরের ল্যাপটপট দু’টি৷

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুন হওয়ার পর বাসা থেকে তেমন কিছুই খোয়া যায়নি৷ শুধু দু'টি মোবাইল ফোন এবং দু'টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে এখন খোয়া যাওয়া ঐ দু'টি ল্যাপটপ৷

বর্তমানে দেশের অন্যতম আলোচিত এই মামলাটির তদন্ত করছে ‘ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যটেলিয়ন' সংক্ষেপে ব়্যাব৷ তদন্তকারী সংস্থার মুখপাত্র লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তদন্তের শুরু থেকেই আমরা ল্যাপটপ দু'টি খুঁজছি৷ কিন্তু ল্যাপটপের কোনো ‘ক্লু' পাওয়া যায়নি৷ ফলে গত ৮ই জানুয়ারি আদালতের অনুমতি নিয়ে আমরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দিয়েছি৷ তাদের কাছে ল্যাপটপের ব্যাপারে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে৷ গত ২৯শএ জানুয়ারি বিটিআরসি সবগুলো মোবাইল ফোন কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছে৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো মোবাইল ফোন কোম্পানি তথ্য দিতে পারেনি৷''

প্রশ্ন উঠেছে কী ছিল সাগরের ল্যাপটপ দু'টোয়? সাগরের অন্যতম ঘনিষ্ট বন্ধু, একসঙ্গে এনার্জি সেক্টরে একসঙ্গে কাজ করা সহকর্মী এবং বর্তমানে ‘সমকাল'-এর সিনিয়র রিপোর্টার রফিকুল বাসার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাগর ভাই নিহত হওয়ার ঠিক চার দিন আগে আমার সঙ্গে তাঁর লম্বা সময় আলোচনা হয়েছে৷ আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল তাঁর একটি বই৷ এর আগে ‘সাম্প্রতিক' থেকে সাগর ভাইয়ের একটি বই বের হয়েছে৷ বইয়ের নাম ‘কর্ণেলকে আমি মনে রেখেছি'৷ চার দিন আগের ঐ আলোচনায় সাগর ভাই আমাকে বলেন যে, বইটির পরবর্তী সংস্করণের লেখা তাঁর শেষ হয়েছে৷ এবারের বইমেলাতেই বইটা বের করতে চান তিনি৷'' বইয়ের বিষয়স্তু সম্পর্কে সাগর ভাই বলেন, পার্বত্য এলাকার আদিবাসীদের নিয়ে তাঁর এই লেখা৷ কয়েকদিনের মধ্যেই পান্ডুলিপি আমার কাছে দিতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু তার আগেই তো তিনি পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন৷''

রফিকুল বাসার বলেন, ‘‘বইয়ের পান্ডুলিপি ছাড়াও সাগর ভাইয়ের অভ্যাস ছিল ব্যক্তিগত ডায়েরি লেখা৷ একই সঙ্গে তিনি ব্লগও লিখতেন৷ তাঁর ল্যাপটপ দু'টির মধ্যে একটি বড় সাইজের এবং অপরটি ছোট আকারের৷ বড় ল্যাপটপটি তিনি জার্মানিতে ডয়চে ভেলেতে কাজ করার সময় কিনেছিলেন৷ আর ছোটটি দেশে ফেরার পর কেনেন৷ ছোট ল্যাপটপটি তিনি সব সময় সঙ্গে রাখতেন৷ এছাড়া ল্যাপটপে তাঁর বিভিন্ন সময় করা রিপোর্টগুলোও রেখে দিতেন৷ নতুন কোনো তথ্য পেলেও সঙ্গে সঙ্গে সংযোজন করতেন নিজের ল্যাপটপে৷''

সাগর-রুনি হত্যা মামলার বাদি রুনির ভাই নওশের আলম রোমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ল্যাপটপের বিষয়টি নতুন কিছু নয়৷ এর আগে ডিবি ও ব়্যাবকে আমরা ল্যাপটপ দু'টির সব কাগজপত্র দিয়েছি৷ আমরা ঐ ল্যাপটপ দু'টি সম্পর্কে যা জানি তাও বলেছি৷ কিন্তু ব়্যাব কিছুই করেনি৷ আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও রাখেনি৷''

কী ছিল সাগরের ল্যাপটপে, এ বিষয়ে কী কিছু জানেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নওশের বলেন, ‘‘সাগর ভাইয়ের ল্যাপটপ দু'টি ছাড়াও ঐ বাসায় কিন্তু আরও একটি ল্যাপটপ ছিল৷ সেটি অবশ্য নষ্ট৷ ঐ নষ্ট ল্যাপটপটা পাওয়া গেছে৷ শুধু ভালো ল্যাপটপ দু'টি খোয়া গেছে৷ সাগর ভাইয়ের ল্যাপটপে তাঁর সর্বশেষ বইয়ের একটা পান্ডুলিপি ছিল৷ এটি আসলে তাঁর আগের বই ‘কর্ণেলকে আমি মনে রেখেছি'-র পরের সংস্করণ৷ এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে লেখা৷ এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত ডায়েরি ও বিভিন্ন ধরনের ব্লগও লিখতেন সাগর ভাই৷''

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২, রশিদ লজ অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়৷ এ ঘটনায় রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান বাদি হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন৷ এ মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ব়্যাব তদন্ত করছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়