কিছু মানুষ সব সময় বিতর্ক তোলার চেষ্টা করে | আলাপ | DW | 02.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

কিছু মানুষ সব সময় বিতর্ক তোলার চেষ্টা করে

পহেলা জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে বই উৎসব হয়৷ এবারও সেই প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়৷ সেদিন সারাদেশে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ বই শিশুদের মধ্যে বিলি করা হবে৷ কিন্তু শিশুদের এই বই নিয়ে গেল কয়েক বছর বেশ বিতর্কও উঠছে৷

default

ফাইল ছবি

অভিযোগ আছে বই থেকে প্রখ্যাত সংখ্যালঘু লেখকদের লেখা বাদ দেয়া হচ্ছে বলেও৷ সাম্প্রদায়িকতাকে খানিকটা উসকে দেয়ারও অভিযোগ আছে৷ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ডয়চে ভেলের কাছে এ সব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন৷

ডয়চে ভেলে: এবার পাঠ্যবইয়ে কি নতুন কিছু অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?

নুরুল ইসলাম নাহিদ: নতুন ১২টি বই এসেছে৷ আমরা প্রতিবছরই বইকে আরো সুখপাঠ্য, সহজপাঠ্য ও ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে পড়তে আনন্দ পায় সে চেষ্টা করি৷ আমরা ছবিগুলো রঙিন করেছি৷ ভালো কাগজে ছাপানোর ব্যবস্থা করেছি৷ এছাড়া ছোট খাট ভুল সবসময়ই সংশোধন করা হয়, যেমন বানান ভুলসহ অনেককিছু৷ তবে এবার মাধ্যমিকে আমরা নতুন করে ১২টি বই দিচ্ছি৷

গত বছর বই নিয়ে কিছু বিতর্ক হয়েছিল, এবার সেই বিতর্ক থেকে কি মুক্ত হতে পারব?

বিতর্ক যারা তোলে, যারা কথা বলে, তাদের আপনি বই ছাপাতে দেন, দেখেন পারে কিনা৷ এগুলো বললেই তো আর হবে না৷ প্রতি বছরই আমরা শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের মতামত নেই৷ তারপর বইয়ে সংশোধন বা সংযোজন-বিয়োজন করে থাকি৷ যারা বিতর্ক তোলার তারা সব সময় সেটা করে৷

অডিও শুনুন 05:57
এখন লাইভ
05:57 মিনিট

‘প্রতি বছরই আমরা শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের মতামত নেই’

এবার নারী শিক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?

বইয়ে তো আর নারী-পুরুষ আলাদা করে দেখার কিছু নেই৷ এখানে সবার বিষয়ে সমান গুরুত্ব থাকবে৷ তবে নারীদের অধিকারসহ অন্যান্য বিষয়ে বইয়ে আগেও গুরুত্ব দেয়া ছিল, এবারও থাকবে৷

এবার কত কপি বই শিশুদের মধ্যে বিলি করা হবে?

এবার আমরা ৩৫ কোটি ৪২ লাখ বই শিশুদের মধ্যে বিলি করব৷ মিলিয়নে যদি এই হিসাব বলি, তাহলে ৩৫৪ মিলিয়ন বই আমরা শিশুদের দিচ্ছি৷

বইয়ে যে সংযোজন বা বিয়োজন করা হয়, তা নিশ্চয় শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমেই করা হয়ে থাকে?

প্রখ্যাত সব শিক্ষাবিদদের নিয়ে আমাদের উপদেষ্টা কমিটি আছে, প্রতিটি বিষয়ের কমিটি আছে৷ তারাই প্রতি বছর বইগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করেন, সংযোজন-বিয়োজন করেন৷ এবার আমরা নতুন করে ১২টি বই শিশুদের দিচ্ছি৷ এই বইগুলো তো আমরা লিখিনি৷ এই বইগুলো তো তাঁরাই লিখে দিয়েছেন৷ একটা অনুষ্ঠান করে আমরা তাঁদের হাত থেকে সেই বইগুলো নিয়েছি৷

শিশুদের হাতে আমরা যে বইগুলো দিচ্ছি, তা কি শিশুদের জন্য বেশি হয়ে যাচ্ছে? মানে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে?

পড়াশোনা করতে হলে, জানতে হলে পড়তে হবে৷ এটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে কিনা, সেটা নিয়ে আমাদের কাজ চলছে৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা হতেই পারে, তবে সেটা বেশি কিছু না৷ আজকের যুগে জ্ঞান বেড়ে যাচ্ছে, জানার প্রয়োজন বেড়ে যাচ্ছে৷ সে কারণেই আমাদের এগুলো করতে হচ্ছে৷ তবে এগুলো যদি বেশি হয়, তাহলে আমরা কমাবার চেষ্টা করব, করছিও৷

এবারও অনেক কিছু করেছি৷ আবার নতুন কিছু প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে৷ আমরা দেখছি, যে ক্লাসের বই, সেই ক্লাসের জন্য ওই বইগুলো ঠিক আছে কিনা৷ যদি বেশি হয়ে থাকে তাহলে কমিয়ে ফেলব৷ আমরা তো সহজপাঠ্য ও শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক বই দেয়ার চেষ্টা করছি৷

সাম্প্রদায়িক বিষয় নিয়ে গেল বছর বিতর্ক হয়েছে৷ এবার সেই বিতর্ক থাকবে না বলেই কি বিশ্বাস?

এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই৷ আমাদের বর্তমান সরকার, আমার মন্ত্রণালয় বা আমি নিজে কখনও সাম্প্রদায়িক ছিলাম না৷ বিতর্ক তুলতে গেলে সময় লাগে নাকি? এগুলো হলো বাজারি কথা৷ আমরা সাম্প্রদায়িকতাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেই না৷ আমরা আধুনিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছি৷ আগে তো মাদ্রাসায় ইতিহাস, গণিত এগুলো পড়ানো হতো না৷ এখন আমরা সেটা ঢুকিয়েছি৷ এখন মাদ্রাসাগুলোতেও এই সব বই পড়ানো হচ্ছে৷

মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার কি সমন্বয় হচ্ছে?

হচ্ছে কি, হয়েই গেছে৷ এখন মাদ্রাসায় সাধারণ বিষয় পড়ানো হচ্ছে৷ আর এটাতে তারাই এগ্রি করেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

মাদ্রাসাগুলো কি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে?

যে মাদ্রাসাগুলো আমাদের ‘কারিকুলাম' ফলো করে, তারা তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছেই৷ কিন্তু যে সব কওমি মাদ্রাসা আমাদের কারিকুলাম ফলো করে না, তাদের আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না৷ তারা স্বাধীন, তারা কোনোদিনই কারো নিয়ন্ত্রণে যায়নি৷

গেল বছর অভিযোগ উঠেছিল, সংখ্যালঘু লেখকদের লেখা বই কমে যাচ্ছে....আপনি কী মনে করেন?

এমন চিন্তা করে আমরা বইয়ে কোনো লেখা দেই না৷

শিশুদের অভিভাবক হিসেবে আপনার উপদেশ কী?

আমাদের শিশুদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে গেলে আমাদের মূল শক্তি তো শিক্ষক৷ আমরা তো আমাদের শিক্ষকদের ট্রেনিং দেয়া, বেতন বাড়ানোসহ সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি৷ তারপরও এখানে অনেক সমস্যা আছে৷ এখন কথা হলো অভিভাবকরা যদি শিশুদের দিকে নজর না রাখেন, তাহলে তারা মানুষ হবে না৷ কারণ একটা শিশু স্কুলে থাকে ৪-৫ ঘণ্টা৷ বাকি সময় তো বাড়িতেই থাকে৷ সেখানে অভিভাবকদের নজর দিতে হবে৷

অভিভাবকদের আপনি কী বলবেন?

ছোটবেলা থেকেই অভিভাবকদের দেখতে হবে যে, তাদের বাচ্চা খারাপ দিকে যাচ্ছে কিনা, সে ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কিনা৷ এটা দেশের সকল অভিভাবকের প্রতি আমাদের আহ্বান৷

সাক্ষাৎকার কেমন লাগলো? এ বিষয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও