1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘কালশীর ঘটনা হত্যা নয়, গণহত্যা'

মিরপুরের পল্লবী এলাকার কালশী বিহারি পল্লীতে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় এখনও নিন্দার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে৷ কেউ কেউ এটাকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছেন, যার কিছু নিদর্শন তুলে ধরা হলো এখানে৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে আব্দুল হালিম মিয়া লিখেছেন, যে কোনো অবস্থায় নিরীহ নারী শিশুকে হত্যা করার অধিকার কারো নেই৷ তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন৷ লিখেছেন, ‘‘১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বেরে পরে এসে দেখি বিহারীরা জোর করে দখল করে রেখেছে নয়া চাচার বাড়ি৷ উল্লেখ্য, নয়া চাচার তিন ছেলেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন৷ শুনেছি, মিলিটারিরা যখন গোয়ালন্দে আসেন তখন বিহারীরা পাকিস্তানি মিলিটারিদেরকে সাথে করে নিয়ে দেখিয়ে দিতেন কারা কারা মুক্তি বাহিনীতে গেছেন, তাদের বাড়িগুলো চিহ্নিত করে দিতেন৷''

তিনি লিখেছেন, ‘‘এ সব ঘটনার কারণে স্বাধীনতার পর ওরা টার্গেট হলো৷ গোয়ালন্দের মরা পদ্মায় প্রচুর লাশ ভেসেছিল, বাতাসে অনেকদিন যাবত সেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে ছিল৷''

তবে তিনি বর্তমান ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘‘সেসব বিগত হয়েছে আজ থেকে ৪৩ বছর আগে৷ সে দিন যে শিশুটির জন্ম হয়েছে তার বয়স আজ ৪৩ বছর৷ এখন প্রশ্ন হলো এই যে, ওইদিন যে শিশুটির জন্ম হয়েছে তার বাবার অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত কেন সে করছে?

এ ঘটনা মানবতার বিরুদ্ধে জঘণ্য আর একটা অপরাধ ছাড়া আর কিছুই নয়৷ দুর্নীতি, খুন, গুমকে হালাল করতে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তারাই আসলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে৷ তারাই মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সবচেয়ে বড় শত্রু৷''

একই ব্লগে সুরেশ কুমার দাশ লিখেছেন, ‘‘বর্তমান সরকারকে জনগণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সরকারের নীতি নির্ধারকরা তা বুঝতে পারছে না৷ হত্যা খুনের মতো ঘটনাগুলো নৈমিত্তিক হয়ে উঠছে৷ মিরপুরের অবাঙালি কলোনিতে আগুন দিয়ে কে বা কারা একই পরিবারের ১০ জনকে পুড়িয়ে মেরেছে৷ যেখানে দু'জন শিশুও ছিল৷ বর্বরতার যেন শেষ নেই!''

‘‘ঝগড়া-বিবাদ হতেই পারে কিন্তু ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে, তালা দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ড মানে পরিকল্পিত ও সংগঠিত হত্যাকাণ্ড৷ কী কারণে হত্যাকারীরা রাষ্ট্রে কোনো আইন ও বিচার নেই – এমন ভাবনা লালন করে নির্ভাবনায় হত্যা-খুন ও অরাজকতায় মেতে উঠেছে তা বোধগম্য নয়৷ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসতে না আসতেই চারপাশে খুনিরা অনেক বেশি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে৷ যে যেমনভাবে পারছে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে৷ নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় যদি ইন্ডিয়া থেকে আসামি গ্রেফতার করা সম্ভব হয়, তাহলে সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যার আসামি কেন ধরা সম্ভব হয়নি – সেই প্রশ্নটাও যুক্তিযুক্ত৷''

মোহাম্মদ আসাদ আলী আমার ব্লগে লিখেছেন, ‘‘বর্বরতার কোন পর্যায়ে পৌঁছেছি আমরা? তালাবদ্ধ ঘরে অগ্নিসংযোগ করে নিরীহ নারী-শিশুকে কয়লায় পরিণত করার দৃষ্টান্ত বাঙালি জাতির ইতিহাসে ছিল না৷ উগ্রবাদ আমাদের জাতীয় চরিত্রের সাথে কোনো কালেই খাপ খায়নি৷ সর্বমহলে বাঙালি জাতি অন্য জাতির প্রতি শান্তিপ্রিয় হিসেবেই বিবেচিত হয়ে এসেছে৷ কিন্তু বিহারী ক্যাম্পের ঘটনাটিতে শুধু আমাদের উগ্রপন্থাই প্রকাশ পায়নি, রীতিমত দানবীয় চরিত্রের প্রকাশ ঘটেছে৷ নিঃসন্দেহে ঘটনাটি আমাদের জন্য অশনিসংকেত বহন করছে৷''

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘বিহারী কা বাচ্চা, কাভি নেহি সাচ্চা'' প্রবাদটির সাথে আমাদের যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে৷ এই প্রবাদটি তৈরি হবার পেছনে তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কিছু না কিছু প্রভাব রয়েছেই৷ বিহারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি যে সমালোচনাটি করা হয়ে থাকে, তা হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানিদের পক্ষাবলম্বন৷ বস্তুত একই ধর্মবিশ্বাসী হবার পরও বাঙালি মুসলিমদের সাথে বিহারীদের রয়েছে ব্যাপক সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিভেদ৷ কিন্তু তাই বলে তাঁদের চার দশক আগের পূর্বপুরুষদের কৃত পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে, তা তো নয়৷ শুধুমাত্র এই সাংস্কৃতিক ও মানসিক ভিন্নতা থেকেই এমন একটি নৃশংস ঘটনার জন্ম নেবে তা আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না৷''

ফেসবুকে রফিকুল রঞ্জু লিখেছেন, ‘কালশীর ঘটনা হত্যা নয়, গণহত্যা৷' তিনি জেনেভা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ২-এর উল্লেখ করে বলেছেন, গণহত্যা হলো – ‘‘কোনো জাতি, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, সম্প্রদায় অথবা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নীচে বর্ণিত কোনো কাজ করা৷ যেমন-

ক) ওই গোষ্ঠীর (গ্রুপের) সদস্যদের হত্যা করা;

খ) ওই গোষ্ঠীর (গ্রুপের) সদস্যদের মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘শুধু তাই নয়, গণহত্যা করার ষড়যন্ত্র করাও গণহত্যা; গণহত্যা করার জন্য নির্দেশ দেয়া, প্রকাশ্যে উসকানি দেয়াও জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী গণহত্যা৷ এই কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে৷ কালশীতে যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা বিহারীদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই করেছে, সেটা স্পষ্ট৷''

তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘‘গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ্যে বিহারীদের নির্মূল করা, উচ্ছেদ করা, হত্যা করার পক্ষে বক্তব্য রেখে চলেছেন অনেকেই৷ এদের মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করে বিচার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন