1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজি

২০০৯ সাল থেকে কার্লসরুয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কার্লসরুয়ে গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে৷ নতুন নামে আবির্ভূত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি – কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজি৷

default

কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজি

জার্মানির দক্ষিণে অবস্থিত বাডেন-ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্যে অবস্থিত কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজি৷ বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয় নিয়ে গবেষণা এবং পড়াশোনার জন্য কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজি অন্যতম৷

১৮২৫ সালে এখানে পড়ানো হত না৷ গবেষণার জন্য শুধু গবেষকরাই আসা যাওয়া করতেন৷ এরপর ১৮৬০ সালে যোগ করা হয় শিক্ষার বিষয়টি৷ প্রতিষ্ঠিত হয় কার্লসরুয়ে বিশ্ববিদ্যালয়৷ তখন গ্রাজুয়েশন প্রোগ্রাম ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনার জন্যও সুনাম কুড়ায়৷ এরপর ১৯৭২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ করা হয় কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়টি৷ জার্মানিতে সেই সময় হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়টি পড়ানো শুরু হয়৷

সবমিলে ৬টি অনুষদ রয়েছে কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজির৷ এই অনুষদগুলোর অধীনে প্রায় ২৭টি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে৷

Technische Hochschule Karlsruhe

১৯৭২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ করা হয় কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগটি

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান পড়াশোনা করছে প্রায় ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী৷ তার মধ্যে প্রায় তিন হাজার ছয়শ' বিদেশি৷ অর্থাৎ প্রায় ১৭ শতাংশই হল বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী৷ তবে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের সবচেয়ে বড় দলটি আসে এশিয়া থেকে এবং প্রায় ৮০ শতাংশই হল চীনের ছাত্র-ছাত্রী৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা, ভর্তির বিষয়টি দেখাশোনা করছেন ডঃ নিসেন৷ যে ছাত্র- বা ছাত্রী প্রথমবারের মত জার্মানিতে আসে তাঁকে কীভাবে সাহায্য করা হয় ?

ডঃ নিসেন জানালেন, ‘‘সাহায্য করা হয় তখন থেকেই, যখন আমরা প্রথম তাদের আবেদনপত্রটি হাতে পাই৷ এরপর শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলাফল এবং আগ্রহ অনুযায়ী বিষয় খোঁজা হয়৷ এসব হয়ে গেলে তখন আবেদনকারী আমাদের কাছ থেকে ভর্তির অনুমতি পায়৷ সেই সময় তাঁকে আরো বেশ কিছু তথ্য দিয়ে সাহায্য করা হয়৷ যখন ছাত্র বা ছাত্রীটি চলে আসে তখন তাঁর স্বাস্থ্যবীমা, ভিসা বাড়ানো, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা – এসব দায়িত্ব আমরা নিয়ে নেই৷ আমরা শহরটিও ঘুরে ফিরে দেখাই৷ কোথায় কী আছে তাও আমরা জানিয়ে দেই৷ তবে এসব কিছুই করা হয় ক্লাস শুরু হওয়ার আগে৷ অন্তত চার সপ্তাহ আগে৷''

কীভাবে কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজির প্রচার বিভিন্ন দেশে করা হয় ? ডঃ নিসেন এ প্রশ্নের উত্তরে বললেন, ‘‘ভাল প্রশ্ন৷ এক কথায় উত্তর হল কোনো ধরণের প্রচারই আমরা করে থাকি না৷ এর মূল কারণ হল কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজি এবং আগের নাম কার্লসরুয়ে ইউনিভার্সিটির সুনাম থাকায় কোনো প্রচারের প্রয়োজন হয়নি৷ এর ফলে দেশি-বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা নিজ থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, নিজ উদ্যোগেই আমাদের কাছে আবেদনপত্র পাঠাতো৷ এছাড়া যেসব বাবা-মা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে তারাই তাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের পাঠাচ্ছে৷''

এই মুহূর্তে এশিয়া থেকে প্রায় এগারশ' ছাত্র-ছাত্রী কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজিতে পড়াশোনা করছে৷ তবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে খুব বেশি ছাত্র-ছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে না৷ এর মূল কারণ হল জার্মান ভাষায় দক্ষতা না থাকা৷ কারণ গ্র্যাজুয়েশন কোর্সগুলো সাধারণত জার্মান ভাষায় এবং বেশ কিছু মাস্টার্স কোর্স শুধুমাত্র জার্মান ভাষায় পরিচালিত হয়৷ আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয় কিন্তু জার্মান ভাষায় দক্ষতা না থাকায় আবেদন পত্র খারিজ করে দেওয়া হয়৷ তবে ভারতের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম রয়েছে কালর্সরুয়ে ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজির৷ ডঃ নিসেন সে সম্পর্কে জানান, ‘‘ ভারতের আই আই টি অর্থাৎ ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউ অফ টেকনলজির সঙ্গে আমাদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম রয়েছে৷ প্রতি বছর ৮ থেকে ১৫ জন ছাত্র-ছাত্রী এখানে আসে৷ তবে শুধু মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য৷ তারা এখানে কিছুদিন থাকে, মাস্টার্সের থিসিস শেষ করতেই মূলত তাদের এখানে পাঠানো হয়৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ