1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

কার্লসরুয়ে শহরে ইতিহাস ও আধুনিকতার ছোঁয়া

জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমে কার্লসরুয়ে শহর সম্পর্কে বেশিরভাগ বিদেশি পর্যটকদের তেমন ধারণা না থাকলেও শহরটির আকর্ষণ কম নয়৷ ৩০০ বছরের ইতিহাসের অনেক সাক্ষী এখনো অক্ষত রয়েছে৷ সেইসঙ্গে চলছে আধুনিক অবকাঠামো গড়ার কাজও৷

কার্লসরুয়ে শহরের প্রায় সব পথই এক কেন্দ্রস্থলের সঙ্গে যুক্ত৷ আর সেখানেই রয়েছে বারক আমলের মারগ্রেভ কার্ল ভিলহেল্ম-এর কেল্লা৷ প্রায় ৩০০ বছর আগে একেবারে নির্জন এই স্থানে তিনি তাঁর বসতবাড়ি গড়ে তোলেন৷

সম্পত্তি নিয়ে লড়াইয়ের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁর সমসাময়িক অনেক শাসক নতুন কেল্লা গড়ে তুলেছিলেন৷ ডুয়রলাখ এলাকায় কার্ল ভিলহেল্ম-এর বসতবাড়িও রক্ষা পায় নি৷ ফরাসি স্থাপত্যরীতির অনুকরণে তিনি নতুন ভবন গড়তে চেয়েছিলেন৷ প্রদর্শনীর কিউরেটর জাকলিন মাল্টৎসান-রেডলিং বলেন, ‘‘সে সময়ে বারক-রীতি অনুযায়ী একের পর এক সম্প্রসারিত অংশ তৈরি করা হত৷ কার্ল ভিলহেল্ম সম্ভবত সেগুলি সোজা না করে কোণাকুণি সাজাতে চেয়েছিলেন৷ কেল্লা তৈরির সময় শাখাগুলি যেখানে ছড়িয়ে পড়েছিল, ঠিক সেখানেই শহরটি গড়ে ওঠে৷''

Pyramide in Karlsruhe

শহরের কেন্দ্রস্থলে এক চত্বরে শোভা পাচ্ছে কার্লসরুয়ে পিরামিড...

১৭১৮ সালে কার্ল ভিলহেল্ম তাঁর উপপত্নীদের নিয়ে নতুন বাসস্থানে প্রবেশ করেন৷ স্ত্রীকে অবশ্য ডুয়রলাখ-এই ছেড়ে এসেছিলেন৷ পরে বাডেন অঞ্চলের অভিজাত শাসকরা কার্লসরুয়ে শহরকে বাসস্থান হিসেবে বেছে নেন৷ আজ সেই কেল্লায় বাডেন আঞ্চলিক মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে৷ শহরের পত্তন দিবস উপলক্ষ্যে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে৷

কার্লসরুয়ে শহরে বারক যুগের বেশি কিছু অবশিষ্ট নেই৷ তবে তা সত্ত্বেও সুন্দর ভবনের অভাব নেই৷ যেমন গটেসআউয়ে কেল্লায় সংগীত বিশ্ববিদ্যালয়৷ শহরে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো৷ রাজপথে অনেক ট্রাম দেখা যায়৷ ভবিষ্যতে অবশ্য সেগুলি নাকি সুড়ঙ্গের মধ্যেই বেশি চলাচল করবে৷ তাই শহরে প্রচুর নির্মাণকার্য চলছে৷ শহরের কেন্দ্রস্থলে সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আরও কিছুটা সময় লাগবে৷

শহরের কেন্দ্রস্থলে এক চত্বরে শোভা পাচ্ছে কার্লসরুয়ে পিরামিড – যা আসলে শহরের প্রতিষ্ঠাতা কার্ল ভিলহেল্ম-এর সমাধি৷ এই মুহূর্তে সেটি একটি মোড়কের মধ্যে রয়েছে৷ শুধু পোস্টকার্ডেই তার আসল রূপ দেখা যাচ্ছে৷ পাশেই শহরের টাউন হল৷ সেই সঙ্গে শহরের প্রধান প্রোটেস্টান্ট গির্জা৷ ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে গ্রিক মন্দিরের আদলে এটি তৈরি করা হয়েছিল৷

শিল্পের অনুরাগীদের জন্য কার্লসরুয়ে শহরে অনেক আকর্ষণ রয়েছে৷ শিল্প সংগ্রহশালা জার্মানির প্রাচীনতম মিউজিয়ামগুলির অন্যতম৷ এককালে বাডেন অঞ্চলের শাসকদের সংগ্রহশালা ছিল এটি৷

অতীতের এক অস্ত্র কারখানার ভবনে ডিজিটাল যুগের উপযোগী ‘সেন্টার ফর আর্ট অ্যান্ড মিডিয়া' গড়ে তোলা হয়েছে৷ ১৯৯৭ সাল থেকে সেখানে চিন্তার আদান-প্রদান ও পরীক্ষা-নীরিক্ষার ব্যবস্থা এবং একটি মিউজিয়ামও চালু হয়েছে৷ শহরের ৩০০ বছর উপলক্ষ্যে সেখানে বিশেষ প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে৷ পরিচালকমণ্ডলীর সদস্য পেটার ভাইবেল বলেন, ‘‘কার্লসরুয়ে অত্যন্ত সুন্দর এক শহর, সবুজ শহর৷ এই মুহূর্তে শহরটা নির্মাণস্থল হয়ে উঠেছে৷ মিউজিয়ামের মধ্যে আমরা বড় প্রদর্শনী করছি বটে, কিন্তু শহরটিকেও বাদ দিচ্ছি না৷ আমি সব সময় বলি, এই শহর আসলে এক স্টার৷ আমরা শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি৷ তাঁরা এসে নির্মাণস্থলগুলিকেই শিল্পের ইনস্টলেশন করে তুলতে পারেন৷''

তৈরি হয়েছে একটা কৃত্রিম মেঘ – যা প্রদর্শনীর একটা মূল আকর্ষণ৷ এই শিল্প প্রকল্পের নাম ‘ক্লাউডস্কেপস'৷

গ্রীষ্মকাল জুড়ে কার্লসরুয়ে জন্মদিন পালন করবে৷ ৩০০ বছর আগে কার্ল ভিলহেল্ম এখানেই নিজের বসতবাড়ি – তথা গোটা শহরের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক