1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কারাভাজ্জোর চুরি যাওয়া চিত্রকর্ম উদ্ধার

৪০০ বছরের পুরনো একটি চিত্রকর্ম উদ্ধার করেছে জার্মান পুলিশ৷ ইতালির অমর শিল্পী কারাভাজ্জোর আঁকা এই ছবি দুই বছর আগে ইউক্রেন থেকে চুরি হয়৷ বার্লিনে বিক্রির সময় এটি ধরা পড়ে৷

The Arrest of Christ / Kiss of Judas

‘দি টেকিং অফ ক্রাইস্ট’ ছবিটি আবার শোভা পাবে জাদুঘরে

‘দি টেকিং অফ ক্রাইস্ট'- ছবিটিকে মিশেলাঞ্জোলো মেরিসি দ্য কারাভাজ্জোর মাস্টারপিস বলা হয়৷ ১৬০২ সালে আঁকা এই ছবি ছিলো ইউক্রেনের ওডেসার জাদুঘরে৷ ২০০৮ সালের জুলাই মাসে এটি চুরি হয়ে যায়৷ এরপর থেকেই এর সন্ধানে চষে বেড়াচ্ছিলো ইউক্রেন পুলিশ৷ ছবিটি জার্মানিতে গেছে এমন তথ্য পাওয়ার পর জার্মান পুলিশের সহায়তাও চাওয়া হয়৷ শুক্রবার বার্লিনে চুরি করে বিক্রি করার সময় ছবিসহ ধরা পড়েন চারজন৷ পুলিশ বলছে, চিত্রকর্ম চুরির আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য তারা৷ এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে আরো ২০ জনকে৷

ইতালির মিলান শহরে ১৫৭১ সালে জন্ম কারাভাজ্জোর জন্ম৷ মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবা এবং এর কিছুদিন পর মাকে হারান তিনি৷ ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকিতে হাত ভালো ছিলো তাঁর৷ কারাভাজ্জোর বয়স যখন ১৯, তখন পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে মিলান ছেড়ে আশ্রয় নেন রোমে৷ সেখানে শুরুতে প্রচণ্ড অর্থকষ্টে পড়তে হয় তাঁকে৷ এক সময় বিখ্যাত শিল্পীদের নকল ছবি আঁকতে থাকেন তিনি৷ অবস্থা কিছুটা ফিরলে বিচ্ছুরণ হতে থাকে তাঁর স্বপ্রতিভার৷ ১৬০৬ সালে একজনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন কারাভাজ্জো৷ এতে ওই ব্যক্তি মারা গেলে হুলিয়া মাথায় নিয়ে মাল্টায় পালান তিনি৷ পরে অবশ্য নেপলস ফেরেন৷ ১৬১০ সালে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর৷

কারাভাজ্জোর জীবনাবসানের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শিল্পকর্মের আবেদনও ফুরিয়ে এসেছিলো৷ কিন্তু বিংশ শতকে এসে নতুনভাবে আবিষ্কার করা হয় ইতালির এই শিল্পীকে৷ তাঁর সৃষ্টিতে অনুপ্রেরণা খুঁজে পেলেন আর্তুর ব়্যাঁবো, জোসেফ দ্য রিবেরা প্রমুখ শিল্পীরা৷ ‘দি টেকিং অফ ক্রাইস্ট'- ছবিটি চোরাই বাজারে অন্তত ১০০ কোটি ডলার বিকোতো বলে ধারণা করছেন শিল্পসমঝদাররা৷ তবে পুলিশ উদ্ধার করাতে চোরদের বিশাল ক্ষতি হয়ে গেলো৷ এই ছবিটি এক সময় ফ্রান্স থেকে রাশিয়ায় আনা হয়৷ মস্কোতেই ছিল এটি৷ রুশ বিপ্লবের পর এটি দেওয়া হয় ওডেসার একটি চারুকলা বিদ্যালয়ে৷ পরে এটি স্থান পায় জাদুঘরে৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক