1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড বহাল: ‘রিভিউয়ের সুযোগ নেই'

জামাত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখেছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত৷ অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এ রায় আর রিভউয়ের সুযোগ নেই৷ যদি তাই হয়, তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা ছাড়া আর কোনো আইনি সুযোগও নেই৷

Mohammad Kamaruzzaman

জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান (ফাইল ফটো)

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এস.কে. সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ সোমবার এই রায় ঘোষণা করে৷ রায়ে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুর ‘বিধবাপল্লীতে' নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের দায়ে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়৷

ট্রাইবুন্যালের দেয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ও খালাস চেয়ে গত বছরের ৬ই জুন আপিল করেন কামারুজ্জামান৷ তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি৷ চলতি বছরের ৫ই জুন থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়৷ ১৭ই সেপ্টেম্বর শুনানি শেষ হয়৷ অর্থাৎ, এর এক মাস ১৬ দিনের মাথায় সোমবার কামারুজ্জামানের করা আপিলের রায় ঘোষণা করা হলো৷ এটি আপিল বিভাগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তৃতীয় রায়৷ শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুর ‘বিধবাপল্লীতে' নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত ও সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ একমত হলেও, সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতের ভিত্তিতে৷

গোলাম মোস্তফাকে হত্যার দায়ে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইবুন্যাল৷ এই অভিযোগে তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ৷

Kriegsverbrechertribunal verurteilt Abul Kalam Azad zum Tode

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, কামারুজ্জামানের রায় রিভিউ করার আর কোনো সুযোগ নেই

এর আগে দারাসহ ছয়জনকে হত্যার দায়ে কামারুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ট্রাইবুন্যাল৷ আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই দণ্ড বহাল রাখে৷

একাত্তরে শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল হান্নানের প্রতি অমানবিক আচরণের দায়ে কামারুজ্জামানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইবুন্যাল৷ আর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই দণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ৷

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল গঠনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ শুরু হয়৷ ২১শে জুলাই কামারুজ্জামানের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু হয়৷ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে একটি মামলায় একই বছর ২৯ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তারের পর, ২রা আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়৷ ২০১২ সালের ১৫ই জানুয়ারি কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ট্রাইবুন্যালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ৪ঠা জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইবুন্যাল ২-এ কামারুজ্জামানের বিচার শুরু হয়৷ গত বছরের ৯ই মে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল৷

স্বাধীনতার পরের বছর ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন কামারুজ্জামান৷ ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে থেকে মাস্টার্স পাস করার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমনের আমলে ১৯৭৮-৭৯ সালে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন৷

১৯৭৯ সালের অক্টোবরে কামারুজ্জামান মূল দল জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন এবং ঐ বছর ১৬ই ডিসেম্বর রুকনের দায়িত্ব পান৷ ১৯৮২-১৯৮৩ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন৷ ১৯৯২ সাল থেকে তিনি দলে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্বে রয়েছেন৷

আইনী সুযোগ নিয়ে বিতর্ক

আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘‘রিভিউ করার আর কোনো সুযোগ রয়েছে বলে আমি কনে করি না৷ এর আগে কাদের মোল্লার পক্ষ থেকে রিভিউ করেছিল, তা খারিজ করে দেয় আদালত৷ এক্ষেত্রে রিভিউয়ের আর কোনো সুযোগ নেই৷''

তিনি বলেন, ‘‘বিশেষ আইনে এ বিচার হচ্ছে৷ তাই সংবিধানের ১০৫ ধারা কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি, কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে না, রিভিউ চলবে না৷ রায় পাওয়ার পর বাস্তবায়ন পর্যন্ত মাঝের সময়টি জেল কর্তৃপক্ষ ও সরকারের বিষয়৷'' তাঁর কথায়, ‘‘কখন বা কবে ফাঁসি কার্যকর হবে – তা সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়৷ আর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনও জেলকোডের বিষয়৷''

তবে কামারুজ্জামানের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন যে তাঁরা রিভিউয়ের আবেদন করবেন৷ তিনি বলেন, ‘‘রিভিউ সাংবিধানিক অধিকার৷ সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে – রিভিউ করার সুযোগ নেই৷ কাদের মোল্লার রায়ের ক্ষেত্রেও রিভিউ করা হয়েছিল৷ সুতরাং রিভিউ নিষ্পত্তি করতে হবে৷ রিভিউ গ্রহণযোগ্য না হলে খারিজ হতে পারে৷''

কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কিনা জানতে চাইলে আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি আসামির ব্যক্তিগত বিষয়৷'' তিনি বলেন, ‘‘আপিলেও ন্যায়বিচার পেলেন না কামারুজ্জামান৷ কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায় মানতে হবে৷''

হরতাল

এদিকে কামারুজ্জামানের রায় ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামী বুধবার সারাদেশে হরতাল আহ্বান করেছে৷ বুধবার দলটির আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ডাকা হরতাল শেষ হবে মঙ্গলবার৷ আর বৃহস্পতিবার হরতাল ডাকা হয়েছে আরেক জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে৷ ট্রাইবুন্যাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় রবিবার৷

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালে দণ্ডিতদের মধ্যে কামারুজ্জামান হলেন তৃতীয় ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হলো৷ এর আগে তার দলেরই আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তির পর ২০১৩ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয় সর্বোচ্চ আদালত৷ এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়৷ চলতি বছর ১৭ই সেপ্টেম্বর আপিলের দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় সর্বোচ্চ আদালত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়