1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কামরুলকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি

১৩ বছর বয়সি শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল সিলেটে৷ ঐ হত্যার আসামি কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করলেও, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি৷ কামরুল এখনও আটক রয়েছে সৌদি আরবে৷

বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান এ কে এম শহীদুল হক জানান, ‘‘কামরুলকে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগর অংশ হিসেবেই ‘রেড নোটিশ' জারি করা হয়৷ তবে আরো কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে৷ সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস অবশ্য এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে৷''

ওদিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমাদের তৎপরতার কারণেই কামরুল সৌদি আরবে আটক হয়েছে৷ এখন তাকে এখান থেকে কীভাবে বাংলাদেশে নেয়া যায়, তা নিয়ে আমরা সৌদি সরকার এবং বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি৷''

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকার অর্থ এই নয় যে, এক দেশের আসামি অন্য দেশে ধরা পড়লে তাকে দেশে ফেরৎ পাঠাতে হবে৷ এমন কোনো বাধ্যবাধকতা এক্ষেত্রে নেই৷ এই যেমন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও রেড নোটিশ আছে৷ অথচ তিনি কিন্তু লন্ডনে প্রকাশ্যেই আছেন৷ রেড নোটিশের পরও যুক্তরাজ্য পুলিশ তারেককে গ্রেপ্তার বা তাঁকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না৷

ঐ সূত্র আরো জানায়, এই নোটিশের মাধ্যমে কোনো দেশের অপরাধীর ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷ আর ফেরত পাঠানো বা আনা নির্ভর করে সেই দু'দেশের সম্পর্কের ওপর৷

এদিকে রেড নোটিশ জারির পর কামরুলের ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য রিয়াদে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) দু-একদিনের মধ্যে পাঠাবে বাংলাদেশ পুলিশ৷ বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরে এনসিবি-র সহকারী মহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, ‘‘রিয়াদ এবং বাংলাদেশ এনসিবি-র মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে৷ যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও চলছে৷''

তবে তাকে ফিরিয়ে আনতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে৷''

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ইন্টারপোলের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পুলিশ পরস্পরের মধ্যে এনসিবি ডেস্কের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকে৷ প্রত্যেক দেশের পুলিশের সদর দপ্তরেই এই ডেস্ক আছে৷ সাধারণভাবে ইন্টারপোল ডেস্কও বলা হয় একে৷ আসলে ইন্টারপোল সরাসরি কোনো আসামি গ্রেপ্তার বা নিজ দেশে পাঠায় না৷ তারা শুধুমাত্র তথ্য সহায়তা দিয়ে থাকে৷

জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই৷ তাই কামরুলকে সেদেশের সরকার চাইলে ‘পুশব্যাক' করতে পারে অথবা তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে৷ তবে এই পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে দু'দেশের আন্তরিকতার ওপর৷ এছাড়া কামরুলের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়, সে জঘন্য অপরাধ করেছে৷ তাই তাকে ফেরত আনতে বেগ পেতে হবে না বলেই খবর৷

গত ৮ই জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর বিদেশে চলে যান সৌদি আরব প্রবাসী কামরুল৷ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় জেদ্দায় তাকে আটক করা হয়৷

কামরুলের ভাই মুহিত আলম এবং এই মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিসহ ১১ জনকে এরইমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷ এদের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মোট চারজন৷

১৩ বছর বয়সি রাজনকে নির্যাতনকারী মানুষগুলোই তাকে পেটানোর দৃশ্য ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়৷ বলাবাহুল্য, এই সমস্ত ভিডিও সারাদেশের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন