1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘‘কানার হাট-বাজারে ছবির হাট না থাকলে কি আসে যায়''

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেসন কর্তৃপক্ষ সোহরাওয়ার্দি উদ্যান থেকে ‘ছবির হাট'-এর স্থাপনা উচ্ছেদ করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর৷ অভিযানে ছবির হাটে সাজানো শিল্পকর্ম ধ্বংস হওয়ায় সরকারের সমালোচনা অনেকের৷

ছবির হাট হলো চারুকলার শিক্ষার্থী ও শিল্পপ্রেমীদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ৷ ২০০৩ সাল থেকে সেখানে নিয়মিত শিল্পকর্ম ও আলোকচিত্রের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছিল৷ সেই সঙ্গে ছিল শিল্পপ্রেমী মানুষের প্রতিদিনের আড্ডা৷

গত মঙ্গলবার একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উল্টো দিকে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ওই অংশে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়৷ হঠাৎ করেই চালানো এ অভিযানে অন্তত দুই হাজার চিত্রকর্ম নষ্ট করা হয়েছে বলে ছবির হাট সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ৷

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামহয়্যার ইন ব্লগে শাখাওয়াৎ প্রশ্ন করেছেন – আওয়ামী লীগ কি তালেবান লীগ হয়ে গেছে?

‘‘আওয়ামী লীগ সরকার শাহবাগের ছবির হাটের অসংখ্য শিল্পকর্ম ধ্বংস করেছে৷ এত বড় জঘণ্য কাজ করে লজ্জিত হওয়া তো দূরের কথা, উলটো প্রধানমন্ত্রীর এক প্রেস সেক্রেটারি শেখ হাসিনার আঁকা একটি শিল্পকর্ম গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে৷....আমাদের মনে আছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার কীভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বুদ্ধমূর্তিটি ধ্বংস করেছিল৷''

এই অভিযান নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের লেখায় পাওয়া যায় তীব্র শ্লেষের সুর৷ তিনি লিখেছেন, কানার হাট-বাজারে ২/১টা ছবির হাট না থাকলে কি-ই বা আসে যায়! বড়জোর কানার সংখ্যাধিক্য ঘটবে৷

‘‘শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের মিডিয়া সেল ভেঙে জমজমাট আম-লিচুর ব্যবসা চলছে৷ এ সব ছবির হাটের চেয়ে সিজনাল ব্যবসা বেশ লাভজনক....দেশে ছবি আঁকিয়ের অভাব নাই, আম ব্যবসায়ীর অনেক ঘাটতি৷''

ইমরানের লেখার প্রতিক্রিয়ায় মোহাম্মদ রহমান মিজান লিখেছেন, ‘‘সরকার গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে দিয়েছিল, কেউ কিছু বলেনি৷ চোখের সামনে শাহবাগ মরে গেল, জীবাশ্মের মতো পড়ে থাকা মঞ্চও ভেঙে দিল, তার আগে রাতের বেলা কিছু অতি উৎসাহীর সমর্থন নিয়ে সরকার দাবড়ে দিল ‘অচ্ছ্যুতদের'৷ প্রতিবেলাতেই তুমি চুপ ছিলে হে তরুণ তুর্কি!! তরুণ ও প্রবীণের পার্থক্য বয়সে নয়, মননে৷ পার্থক্য চিন্তার নবীনতায়, আজগুবি সৌন্দর্যে, সাহসী ব্যতিক্রমে, নিদারুণ প্রথম ভুলে৷ জরাতন্ত্রে, এই বৃদ্ধদের গণতন্ত্রে তুমি অভ্যস্ত হয়ে উঠছ, তুমি প্রেডিক্টেবল হয়ে উঠছ, তুমি মুখস্ত হয়ে উঠছ৷ তুমি বৃদ্ধ হয়ে উঠছ দিনদিন৷'' নাইম ওয়ারা ফেসবুকে লিখেছেন, নগর কর্তৃপক্ষের এই অভিযানের সঙ্গে তিনি শহীদ মিনার ভাঙচুরের মিল পাচ্ছেন৷ পিচিংমং মারমা ধিক্কার জানিয়েছেন৷ রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন আকিফ রহমান মুন্না৷

ইমাম গাজ্জালি লিখেছেন, সাত খুন মাফ হয়৷ লুটপাট জায়েজ হয়৷ কেবল শিল্পের সাধনায় ওদের যত ভয়৷

ফখরুল আবেদীন মিলন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘আমরা তো কোনো অন্যায় করিনি, আমরা তো কাউকে ধমক দিয়েও কথা বলিনি....আমরা তো শুধুই ছবি আঁকতাম, আমরা শুধুই ঘুড়ি বানাতাম, আমরা গান গাইতাম....আমরা হাসতাম......তবুও আমাদের ছবির হাট ভেঙে ফেলা হলো....ভেঙে ফেলা হলো মাথার উপরের ছাউনি, ছবি রাখার ৪ বাই ৬ ফুটের ছোট্ট ঘরটা, লুট পাট করে নিয়ে গেল শত শত পেইন্টিং....এগুলো তো শুধু একেকটা পেইন্টিংই না, শত শত আর্টিস্ট এর স্বপ্ন....জেগে থাকা রাত...৷'' ‘‘তবে শুনুন, আপনারা যাঁরা এ কাজটি করেছেন, আপনাদের জন্য ছোট্ট একটা দুঃসংবাদ আছে....আর সেটি হলো, আমরা স্বপ্ন দেখি লাখে লাখে....না হয় একটা ছোট্ট ঘর ভাঙবেন, মাথার উপরের ছাউনিটা ভাঙবেন....কিন্তু লাখ লাখ স্বপ্নের কয়টা ভাঙবেন? আমাদের মুখের হাসি কেড়ে নেয়া কি এতই সোজা?''

সংকলন: জাহিদুল কবির

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন