1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘কাদের মোল্লার ফাঁসি ষড়যন্ত্র: রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’

কাদের মোল্লার ফাঁসি স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ব্লগে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন৷ তাদের কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো ডয়চে ভেলের ব্লগওয়াচে৷

সামহয়্যারইন ব্লগে রেজা ঘটক লিখেছেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে৷ তিনি বেশ কিছু প্রশ্ন রেখেছেন৷ প্রথম প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন কি প্রধান বিচারপতির অনুমতি ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত করতে পারেন? যদি পারেন, সেখানে সরকার পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না কেন? শুধুমাত্র আসামি পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে কি চেম্বার আদালত বসতে পারে?

তিনি আরো লিখেছেন, এখন বিষয়টি যদি চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ব্যাখ্যা না করেন, তাহলে এই স্থগিত আদেশ নিয়ে ফুল বেঞ্চে আবার হয়তো উভয় পক্ষের বিতর্ক করতে হবে৷ সেই বিতর্কের শেষে আবার হয়তো কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের উপর রিভিউ আদেশ আসবে৷ সেই রিভিউ করতে আরো সময় লাগবে?

রেজা ঘটক লিখেছেন, কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার নাভি পিল্লাই৷ এর আগে সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের স্বাধীন দুই বিশেষজ্ঞ গাব্রিয়েলা নাউল ও ক্রিস্টফ হেইন্স এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন৷

তিনি কতগুলোপ্রশ্ন রেখেছেন, ‘‘জাতিসংঘ মানবাধিকারের নামে এখন যে কাজটি করতে এতো বেশি তৎপর, ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করার সময়, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সময়, সারা বাংলাদেশে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নি-সংযোগের সময় এই জাতিসংঘ তখন কোথায় লুকিয়ে ছিল? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ন্যুরেমবের্গ আদালতে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময়তো এতো সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি? টোকিও আদালতেতো যুদ্ধাপরাধীদের ওতো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি? কম্বোডিয়া, বসনিয়া, এমনকি ইরাকে স্বয়ং সাদ্দাম হোসেনের বিচারেতো এতো সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি? তাহলে স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে কেন বাংলাদেশে এতো সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিচার করতে হবে?''

তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে কোনো স্বাধীনতা বিরোধী পরাজিত অপশক্তির উপস্থিতি আর দেখতে চাই না৷ কাদের মোল্লার ফাঁসি হবে৷ বাংলার মাটিতেই হবে সেই ফাঁসি৷

আমারব্লগে আল্লামা আব্দুল কাদের লিখেছেন, ‘‘বাঙালি জাতির জেগে ওঠার সর্বশেষ সুযোগ৷'' তিনি লিখেছেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা যাবে কি যাবে না, সেটার ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ৷ এর ওপরই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে সামনের দিকে এগোবে, নাকি আফগানিস্তান, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশের মতো ইসলামি চেতনা ধারণ করে সময়ের পেছন দিকে চলবে৷

জামায়াতে ইসলামী শুধু মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতাই করেনি, তারা তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানিদের সাথে এক জোট হয়ে এদেশের লাখ-লাখ মানুষকে হত্যা করতে বা লাখ-লাখ মা বোনকে ধর্ষণ করতে সাহায্য করেছে৷ ৪২ বছরেও তারা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, ভুল স্বীকারও করে নি৷

তিনি লিখেছেন, তারা দেশ-বিদেশের আর্থিক ও নৈতিক সমর্থনে দেশের মানুষের মধ্যে ধর্মকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারে উদ্যত হয়েছে৷ দেশের একটা উল্লেখযোগ্য অংশকেই তারা তাদের পক্ষে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে৷

একই ব্লগে তৈফুর ভুইয়া নিলয় লিখেছেন, যে দাবিতে সারা বাংলা আজ অবিভক্ত এবং এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে সেই রাজাকারদের বিচার নিয়ে হচ্ছে প্রহসন৷

তিনি লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম ছিল স্বার্থপর৷ এরা নিজেরা এতদিন রাজাকারদের বিচার চায়নি বরং এদের বৃহৎ একটা অংশ বিএনপি আর জামাতকে সাপোর্ট করে এসেছে৷ ‘‘এ দেশে রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবারের খুনিদের বিচার সম্ভব হলেও সমস্ত বাঙালি জাতির খুনিদের বিচার নিয়ে হয় প্রহসন লীলা৷ এ দেশে রাজাকারদের সাপোর্ট না করলে নাস্তিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রিকারী দালালদের সাপোর্ট না করলে রাজাকার, আর মুক্তমনে জনতার কাতারে এসে জনতার দাবি নিয়ে কথা বললেই চাইনিজ বাম, ইত্যাদি নানান রকম উপাধি দিয়ে দেয়া হয়৷ অথচ যে দাবিতে সারা বাংলা আজ অবিভক্ত এবং এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে সেই রাজাকারদের বিচার নিয়ে হয় প্রহসন৷''

সামহয়্যার ইন ব্লগে রাজীব নূর লিখেছেন, ‘‘আজকের তারিখটা খুব সুন্দর ১১/১২/১৩৷ আজ কি কোনো বিশেষ দিন? দেশের অবস্থা ভালো না, হরতাল অবরোধ চলছে৷ জাতিসংঘ থেকে তারানকো এসেও হরতাল-অবরোধ বন্ধ করতে পারলেন না৷....আজ কসাই কাদেরের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল না! কিন্তু হলো না৷ কাদের মোল্লার বউ এর ভি চিহ্ন এর মানে কি? ফাঁসির দেড় ঘণ্টা আগে রায় কার্যকর না করার বিচারিক নির্দেশ বেশ রহস্যময়৷ এত সহজে কসাই কাদের পার পেলে চলবে? সত্যিই বিচিত্র এ দেশ ! সেলুকাস! কাদের মোল্লার মতো নরপশু যেন বাংলাদেশে আর জন্মগ্রহণ না করে৷''

একই ব্লগে শাহ আজিজ প্রশ্ন তুলেছেন, এই ফাঁসি কি আর হবে??

তিনি লিখেছেন, ‘‘ফাঁসির দেড় ঘণ্টা আগে রায় কার্যকর না করার বিচারিক নির্দেশ বেশ রহস্যময়৷ আমি এই ধরনের ঘটনা সিনেমাতে দেখেছি৷ সাধারণত দেখা যায় ফাঁসির পূর্ব মুহূর্তে তা স্থগিত হলে সেই ফাঁসি আর কার্যকর হয় না৷ এটা আবার রিভিউ হবে এবং আসামির উকিলরা এর ভিতরের অসঙ্গতি তুলে ইঞ্জাংসন চাইবেন৷''

খান ইখতিয়ারের প্রশ্ন, মানবাধিকারের জাতিসংঘীয় সংজ্ঞা কি আলাদা? তিনি লিখেছেন, ‘‘মিরপুরের কসাইখ্যাত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার কথা শুনে জাতিসংঘের তথাকথিত মানবাধিকারের সোল এজেন্টদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে৷ ফাঁসি কার্যকর না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, চিঠি পাঠিয়েছে, আবার মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে৷ জানতে বড়ই ইচ্ছে করছে এদের কাছে মানবাধিকারের সংজ্ঞাটা কি? মানবাধিকার কি শুধুই তাদের আজ্ঞাবহদের পৈত্রিক সম্পত্তি?''

তাঁর আরও প্রশ্ন, ‘‘তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল যখন পাক হায়েনাদের সহযোগী হয়ে এসব নরপশুরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলা মায়ের আপামর জনতার উপর? তাদের মানবাধিকার কোথায় থাকে যখন এখনো এসব নরপশুর দোসরদের তাণ্ডবে জীবন্ত দগ্ধ হয় নিরপরাধ মানুষ? নাকি শুধুমাত্র বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য তোমাদের মানবাধিকার উথলে উঠে?''

সংকলন : অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা : জাহিদুল হক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়