1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কাদের মোল্লার ফাঁসির সময় নিয়ে বিতর্ক

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে কারাগারে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে৷ তবে ফাঁসির রায় কবে কার্যকর করা যাবে তা নিয়ে আছে বিতর্ক৷

এদিকে, মৃত্যু পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে জামায়াত৷

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল রবিবার বিকেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে৷ এরপর তা বিকেলেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে দেয়া হয়৷ নিয়ম অনুযায়ী রাতেই কনডেম সেলে কাদের মোল্লাকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়৷ এখন তার ফাঁসি কখন কার্যকর হবে তা নিয়ে রাষ্ট্র এবং আসামি পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷

কাদের মোল্লার আইনজীবী তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ফাঁসির পরোয়ানা জারির পর ২১ দিনের আগে এবং ২৮ দিনের পরে দণ্ড কার্যকর করা যাবে না৷ আর রিভিউ পিটিশনের সুযোগ পেলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড স্থগিত থাকবে৷ তিনি আরো জানান, কাদের মোল্লা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার জন্য ৭ দিন সময় পাবেন৷ এই সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে কাদের মোল্লার দণ্ড কার্যকর করা হলে সেটা হত্যাকাণ্ডেরই শামিল হবে বলে জানান তাজুল ইসলাম৷

তবে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন কাদের মোল্লা রিভিউয়ের কোনো সুযোগ পাবেন না৷ কারণ মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে এই সুযোগ নেই৷ এই সুযোগ সাধারণ দণ্ড বিধির জন্য প্রযোজ্য৷ ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করার যে বিধান আছে তাও ট্রাইব্যুনাল আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়৷ আর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে হয় কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে৷ কিন্তু তিনি যদি প্রাণভিক্ষা না চান তাহলে সাতদিন অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না৷ কাদের মোল্লা প্রাণভিক্ষা চাইবেন না বলে এর আগে তার পরিবারের সদস্যরা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন৷

তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে সোমবার কাদের মোল্লার কাছে তা জানতে চাওয়া হবে৷ তিনি প্রাণভিক্ষা চাইলে তার আবেদন কারা কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন৷

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে গত ৫ই ফেব্রুয়ারি প্রথমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল৷ এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র এবং আসামি উভয়পক্ষ আপিল করে৷ গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের রায়ে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়৷ সেই ৯৭০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় ৫ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়৷

ফেব্রুয়ারিতে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ৷ তাদের আন্দোলনের মুখেই আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগ দেয়া হয়৷ এর আগে শুধুমাত্র আসামিপক্ষের আপিলের সুযোগ ছিল৷

গণজাগরণ মঞ্চ কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর রবিবার রাতে শাহবাগে আলোর মিছিল করেছে৷ গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেছেন কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় আরো স্বার্থকতার দিকে এগিয়ে যাবে৷ স্বাধীনতা হয়ে উঠবে অর্থবহ৷

জামায়াতে ইসলামী বলেছে সরকার পরিকল্পিতভাবে বিচারের নামে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালাতে যাচ্ছে৷ এর প্রতিবাদে সোমবার হরতাল ডেকেছে দলটি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়