1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

কাঠের সাহায্যে পানীয় জল শোধন

একটি নতুন ধরনের ‘ওয়াটার ফিল্টার সিস্টেম’ ভবিষ্যতে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারবে৷ এটির নির্মাণ পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ৷ এমনটাই মনে করেন একদল গবেষক৷ তবে প্রশ্ন এই যে, কতটা নিরাপদ এই পদ্ধতি?

ধরা যাক আপনাকে কেউ বললো খুব সাধারণ এক টুকরা কাঠ দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যাবে৷ বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে নিশ্চয়ই৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস-এর ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির এক গবেষক টিম এটির বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন৷

কয়েক বছর আগে জীববিজ্ঞানীদের এক কনফারেন্সে আলোচনা শুনে আইডিয়াটা মাথায় আসে যন্ত্র প্রকৌশলী রহিত কার্নিকের মাথায়৷

জাইলেম-এর ভূমিকা

বিষয়টি ছিল উদ্ভিদ ও তাদের জাইলেম৷ অর্থাৎ উদ্ভিদের এক জটিল কাঠের টিসু৷ এ টিস্যুর মাধ্যমে মাটি ও শেকড় থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ কাণ্ড, ডালপালা ও পাতায় পরিবহণ করে থাকে উদ্ভিদ৷

Holz als Wasserfilter EINSCHRÄNKUNG

কাঠ দিয়ে ফিল্টার তৈরির প্রক্রিয়া

রহিত কার্নিক চিন্তা করলেন, উদ্ভিদের জাইলেমকে প্রাকৃতিক ও সুলভমূল্যের পানির ফিল্টার হিসাবেও তো ব্যবহার করা যেতে পারে!

জাইলেমে রয়েছে অতি ক্ষুদ্র ছিদ্রসহ ঝিল্লি৷ অনেকটা ছাকনির মতো৷ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ন্যানোমিটার আয়তনের কণাও আটকে যায় তাতে৷ এতে প্রাকৃতিক উপায়েই পানি পরিবহণের সময় উদ্ভিদের ভেতরে বুদ্বুদ তৈরিতে বাধার সৃষ্টি হয়৷ তা না হলে উদ্ভিদের জন্য মারাত্মক হতো৷ যেমন হতে পারে মানুষের রক্তপ্রবাহে বাধা পেলে৷

কার্নিকের আশা, এই ঝিল্লি শুধু বাতাসের বুদ্বুদই নয়, ব্যাকটেরিয়াকেও ফিল্টার করতে পারবে৷ এর ফলে দূষিত পানি আবার পান যোগ্য হবে৷

সাদা-মাটা ফিল্টারও কার্যকর

এই বিজ্ঞানী পাইন গাছের কাঠ ও নল দিয়ে সাদামাটা একটা ফিল্টার তৈরি করেন৷ এরপর পানিতে লাল রং মিশিয়ে তা ফিল্টার করেন৷ সত্যি সত্যি ফিল্টার দিয়ে যে তরল পদার্থটা বের হলো, তা একেবারে পরিষ্কার৷ লাল রংটা জাইলেমের ঝিল্লিতে জমা হয়ে থাকে৷

এরপর এই বিজ্ঞানী আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন ব্যাকটেরিয়া নিয়ে৷ এক ধরনের কোলি ব্যাকটেরিয়া ছেড়ে দেন পানিতে৷ ‘‘আমাদের প্রথম প্রচেষ্টাই দেখিয়েছে, ৯৯.৯৯ শতাংশ ব্যাকটেরিয়াই জাইলেম দিয়ে ফিল্টার করা সম্ভব হয়েছে৷'' বলেন কার্নিক৷ মাত্র একটি ফিল্টারই প্রতিদিন চার লিটার পর্যন্ত পানীয়জল পরিষ্কার করতে পারে৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বছরে ১.৬ মিলিয়ন মানুষ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত পানি পান করে নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়৷ এর মধ্যে ৯০ শতাংশ শিশু৷ সাধারণত পানি শোধন করার জন্য ক্লোরিন কিংবা কার্বন ফিল্টার ইত্যাদি পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়৷ এ সব পদ্ধতি হয় বেশ খরচসাপেক্ষ নয়ত বেশি পরিমাণ পানিতে তেমন কার্যকর নয়৷ এছাড়া এ জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতশক্তি৷ যে সব অঞ্চলে পানিদূষণের প্রকোপ বেশি, সেসব অঞ্চলে বিদ্যুৎশক্তির অভাবও প্রকট৷ কার্নিক বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস জাইলেম ফিল্টারের মাধ্যমে সবার জন্য সহজে ও সুলভমূল্যে জলপরিশোধন করা সম্ভব৷ কোনো রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ছাড়াই৷''

প্রয়োজন আরো কিছুটা সময়

তবে প্রচলিত পদ্ধতিগুলির সঙ্গে জাইলেম পদ্ধতির তুলনা করার সময় এখনও আসেনি৷ এজন্যা আরো কিছু সময় লাগবে৷ বলেন এই বিজ্ঞানী৷ বর্তমানে কার্নিক ও তাঁর টিম বিভিন্ন ধরনের কাঠের ফিল্টারের কার্যক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন৷ এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত যে কোনো কোনোটি ব্যাকটেরিয়া দূর করার ব্যাপারে আরো কার্যকর হবে৷

তবে এই পদ্ধতির ফিল্টার কাজে লাগানোর উপযোগী করতে ২/৩ বছর লেগে যেতে পারে৷ আর একটি সমস্যা হলো এই পদ্ধতিতে ২০০ ন্যানোমিটার আকারের ব্যাকটেরিয়া ফিল্টার করা গেলেও কিন্তু আরো ছোট আকারের ভাইরাসকে আটকানো যায় না৷ এছাড়া ফিল্টারের কাঠটিকে সবসময় ভেজা রাখতে হয়, যাতে ফিল্টারের গুণাগুণ বজায় থাকে৷ ফেডারেল পরিবেশ দপ্তরের হার্টমুট বার্টেল সমালোচনা করে বলেন, ‘‘এই ধরনের ফিল্টার পদ্ধতিকে বলা যায় অনেকটা ‘নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো'৷ আমাদের স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়জলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷''

আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে

অন্যদিকে প্রযুক্তি সংক্রান্ত সাহায্য সংস্থা, ‘টেকনিশেস হিল্ফসওয়ার্ক'-এর নিকোল সান্ডার এই পদ্ধতির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন৷ কেননা প্রচলিত ফিল্টার পদ্ধতির সঙ্গে মিল রয়েছে এটির৷ তবে এই পদ্ধতির উন্নয়ন ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে লক্ষ্য রাখা হবে বলে জানান তিনি৷

রহিত কার্নিক জানেন, তাঁর টিমটির সামনে অনেক কাজ বাকি৷ একদিন হয়ত পানির কলে এই ধরনের একটি ফিল্টার লাগিয়ে পাওয়া যাবে জীবাণুমুক্ত পানি৷ এই স্বপ্ন তাঁর৷ ‘‘আমরা আশা করি, আমাদের পদ্ধতি সেইসব জায়গায় কাজে লাগানো যাবে, যেখানে অন্যান্য পদ্ধতি ব্যয়সাপেক্ষ কিংবা সহজলভ্য নয় এবং তা যত দ্রুত সম্ভব ততই ভালো'', বলেন গবেষক কার্নিক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন