1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

১লা মে বিশ্ব শ্রমিক দিবস৷ তাই এই দিনে, বাংলাদেশে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তার দাবিই প্রধান হয়ে উঠেছে৷ বিশেষ করে পোশাক শিল্পে আগুন এবং ভবন ধসে বার বার শ্রমিকদের মৃত্যু বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন সবাই৷

বাংলাদেশের শ্রম আইনে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামুলক৷ কিন্তু শিল্প-কারখানার মালিকরা তা মানছেন না৷ এ কারণে সাভারের রানা প্লাজার হিসেব ধরে গত ১১ বছরে শুধু তৈরি পোশাক কারখানাগুলিতেই ১২০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে৷

মজুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইকতেদার আহমেদ ডয়চে ভেলেকে জানান, মালিকরা শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করছেন৷ শ্রমিকরা গরীব হওয়ায়, তারাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন৷ আর প্রতি বছরই তারা হারাচ্ছেন প্রাণ৷ এর বিরুদ্ধে শ্রম আইন ছাড়াও দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও, ব্যবস্থা নেয়ার তেমন কোনো নজীর নেই৷ তিনি বলেন, আবাসিক এবং বাণিজ্যিক ভবনে কোনো শিল্প কারাখানা গড়ে তোলার সুযোগ নেই৷ এমনকি, আইনও অনুমোদন করা হচ্ছে না৷ অথচ দেশে শিল্প কারাখানা গড়ে তোলা হচ্ছে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক ভবনে৷

বিষয়টা দেখার জন্য শিল্প মন্ত্রণালায়সহ কল-কারখানা পরিদর্শন বিভাগ আছে৷ কিন্তু তারাও কোনো কাজ করছে না৷ যার পরিণতি শ্রমিকদের মৃত্যু৷ ইকতেদার আহমেদ বলেন, সাভারের রানা প্লাজা একটি বাণিজ্যিক ভবন৷ এর মানে হলো, সেখানে দোকান পাট ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অফিস থাকতে পারবে৷ কিন্তু সেখানে পাঁচটি গার্মেন্টস গড়ে উঠেছিল৷ তিনি বলেন, যারা এই ভবনে গার্মেন্টস শিল্প গড়ে তোলার অনুমতি দিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই তাদের দায় দায়িত্ব এড়াতে পারেন না৷

ইকতেদার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে তাহলে যত কম মূল্যেই আমরা পোশাক দেইনা কেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের পোশাকসহ শিল্প খাতে বিপর্যয় নামতে বাধ্য৷ কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার যে চরম অবহেলা – তা আর গ্রহণ করবে না উন্নত বিশ্ব৷

তিনি আরো বলেন, এই চরম ঝুঁকির মধ্যে কাজ করলেও শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হয় খুবই কম৷ ২০১০ সালে পোশাক শিল্পে সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০০০ টাকা৷ কিন্তু গত তিন বছরে তাদের বেতন না বাড়লেও মূল্যস্ফিতি হয়েছে কয়েকগুণ৷ তাই তিনি মনে করেন, মূল্যস্ফিতির সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিদের বেতন বাড়ানো দরকার৷

এদিকে, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ডয়চে ভেলেকে জানান, ঢাকার অর্ধেকের বেশি তৈরি পোশাক কারখানা আবাসিক এবং বাণিজ্যিক ভবনে ৷ ফলে বার বার আগুন ও ভবন ধসসহ নানা দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে৷ এ জন্য তারা ইতিমধ্যেই তালিকা করে নোটিশ দেয়া শুরু করেছেন৷ এতে বলা হয়েছে: আবাসিক এবং বাণিজ্যিক ভবন থেকে তৈরি পোশাকসহ সব শিল্প কারাখানা সরিয়ে নিতে হবে৷ আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরিয়ে না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে, জানিয়েছেন নূরুল হুদা৷

সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশানস-এ আগুনের ঘটনার পর বিজিএমইএ তৈরি পোশাক কারখানার ভবনগুলোর অবস্থা খতিয়ে দেখতে এটি টাস্কফোর্স গঠন করে৷ কিন্তু সেই টাস্কফোর্সের কাজ আজও বিশেষ এগোয়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়