1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কাগজের জন্য বন ধ্বংস

পরিবেশ নষ্ট করছে কাগজ! ঠিক তা নয়৷ আসলে কাগজ উৎপাদনের জন্য যে ধরণের গাছ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নষ্ট করছে পরিবেশ৷ আর এই গাছ লাগানোর জন্য উজাড় হচ্ছে বনভূমি৷ এর বিরুদ্ধেই এবার পথে নেমেছেন পরিবেশবাদীরা৷

default

মন্ড বানানোর জন্য কাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কাগজ কলে

ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে কাগজ বা পেপার শব্দটি এসেছে প্রাচীন মিশরের ‘প্যাপিরাস' নামক শব্দ থেকে৷ প্যাপিরাস গাছের বাকল থেকে এই প্যাপিরাস তৈরি হতো৷ তবে চীনে নাকি আরো অনেক আগে আধুনিক কাগজের পুর্বসূরির উদ্ভব হয়েছিল বলেই মনে করেন ঐতিহাসিকরা৷ আজ সেই কাগজই হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম ব্যবহৃত জিনিস৷

এক সময় ভাবা হয়েছিল কাগজের ব্যবহার হয়তো কমে যাবে, কমে যাবে এর উৎপাদন৷ কিন্তু তা হয়নি৷ বরঞ্চ ১৯৫০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত সাতগুণ বেড়েছে কাগজের উৎপাদন৷ কাগজের চাহিদা যেন দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে৷ আর একই সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে বনভূমির ধ্বংসকাণ্ড৷ এক হিসাবে দেখা গেছে ফি বছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বর্গ কিলোমিটার বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে৷ আর এই পরিমাণটা এক কথায় উত্তর আফ্রিকার দেশ টিউনিশিয়ার প্রায় সমান৷ পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে৷ আর এর অন্যতম কারণ, সেখানে কাগজের কলের জন্য বিশেষ গাছ জন্মানো৷

একদিকে বন ধ্বংস করা হচ্ছে আর এরই সঙ্গে লাগানো হচ্ছে পাল্পউড বা কাগজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গাছ৷ দিন দিন এই পাল্প উড থেকে প্রস্তুত কাগজের চাহিদাও বাড়ছে৷ তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, না, এভাবে গাছ কেটে নয়, বরঞ্চ পুরানো ব্যবহৃত কাগজ রিসাইকেল করে অর্থাৎ পুনর্ব্যবহার উপযোগী করে তোলা উচিৎ৷

Deutschland Ausstellung Kompass im Martin-Gropius-Bau

কাগজ বানানোর জন্য বন ধ্বংস হচ্ছে

চলুন একটু পিছনে ফিরে তাকাই৷ সেই ১৯৮০ সাল৷ সে সময়ই আশা করা হয়েছিল এক সময়, হয়তো বছর বিশেকের মধ্যে, সকল অফিস হবে কাগজমুক্ত৷ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনা হবে৷ কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে৷ এ কথাই বলছেন জার্মানির কেন্দ্রীয় পরিবেশ সংস্থার কর্মকর্তা আলমুট রাইশার্ট৷

তিনি বলছেন, ‘আসলে আমরা আমাদের একটা হাত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি, আর বেশি করি অফিসের কাগজের ব্যবহার৷ কারণ, কাগজ দ্রুত ছাপা যায়৷ একটি মাত্র ক্লিক করেই আপনি কিন্তু অনেক কাগজে প্রয়োজনীয় সব ছাপাতে পারেন৷ এই ধরণের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই কাগজ বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে৷' কিন্তু এই কাগজ ব্যবহার বেড়ে যাওয়াটা যে পরিবেশেরও ক্ষতির কারণ - সে কথাটাও বিবেচনায় আনতে হবে৷

অন্যদিকে, ভাবা হয়েছিল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্প্রসারণে সংবাদপত্রের কাটতি কমে যাবে, ফলে কাগজের ব্যবহার কমবে৷ কিন্তু তা হয়নি৷ বরঞ্চ কোন কোন ক্ষেত্রে সংবাদপত্র বেশি বিক্রি হচ্ছে৷ পৃথিবীর মধ্যে চারটি দেশে কাগজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে দেখা গেছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়৷ এই দেশগুলো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান এবং জার্মানি৷ ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে প্রতি বছর মাথাপিছু কাগজের ব্যবহার হয় ২৩০ কেজি৷ একে অত্যাধিক বলেই উল্লেখ করেন আলমুট রাইশার্ট৷

আগেই বলেছি, কাগজের উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে গাছ৷ এর ফলে কমে যাচ্ছে বুনো গাছ৷ লাগানো হচ্ছে এমন গাছ যা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট বনের সঙ্গে মানানসই নয়৷ পাল্প কারখানাগুলোতে সেই গাছ যাচ্ছে, গুঁড়ো করা হচ্ছে এবং বিশেষ ঐ মণ্ড থেকেই তৈরি হচ্ছে কাগজ৷ এই মণ্ড বানানোর জন্য বিশেষ ধরণের গাছ লাগানোর কারণে দক্ষিণ অ্যামেরিকা ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বন কমে যাচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে৷

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের কর্মকর্তা মারকুস রাড্ডের কথায়, ‘সুমাত্রার দিকে তাকালে আমরা কী দেখতে পাই? সেখানে দেখছি কাগজের মণ্ডের জন্য লাগানো হচ্ছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস এবং আকাশিয়া গাছ৷ যা বাদলা বন বা রেইন ফরেস্টের জন্যও খুবই ক্ষতিকারক৷'

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে বন ধ্বংস না করে এবং ক্ষতিকর গাছ না লাগিয়ে বরঞ্চ ব্যবহৃত কাগজই যদি আবার ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যায়, তা হবে পরিবেশের জন্য খুবই ভালো একটি পদক্ষেপ৷ এ জন্যই এখন কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা৷ তাদেরকে সমর্থন জানাচ্ছেন পরিবেশবাদীরা৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়