1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কলম্বোয় জাতিসংঘের দপ্তর বন্ধ করলেন বান কি মুন

কলম্বোয় জাতিসংঘের দপ্তরের সামনে এক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিক্ষোভের জের ধরে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দপ্তর বন্ধ করে শীর্ষ প্রতিনিধি প্রত্যাহার করছেন৷

default

কলম্বোয় জাতিসংঘের দপ্তরের সামনে বান কি মুন’এর কুশপুত্তলিকা পোড়াচ্ছে বিক্ষোভকারীরা

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৯ সালের মে মাসে তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কা সরকারের সফল সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে৷ দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের সংঘর্ষের পর বিদ্রোহীরা পরাস্ত হয়৷ কিন্তু সেসময়ে তামিল জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ উঠে আসে৷ সেই সব অভিযোগের তদন্ত করতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কিন মুন গত মাসে এক পরিষদ গঠন করেন৷

Ban ki-Moon besucht Sri Lanka

২০০৯ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে এসে তামিল শরণার্থীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন বান

শ্রীলঙ্কার সরকার তীব্র আপত্তি জানিয়ে এই পরিষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানায়৷ সরকারের বক্তব্য, এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হচ্ছে৷ তাছাড়া এর মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে দু'রকমের মাপকাঠির পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে৷ বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার নির্মাণ দপ্তরের মন্ত্রী ভিমল ভীরাভানসা'র নেতৃত্বে একদল মানুষ জাতিসংঘের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায়৷ বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে ভীরাভানসা অনশন কর্মসূচিও শুরু করেন৷ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভারত, চীন ও রাশিয়ার মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের উদ্দেশ্যে তিনি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার জন্য বান কি মুনের উপর চাপ সৃষ্টি করার আবেদন জানাচ্ছেন৷ এই দাবি পূরণ হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন৷

Flüchtlingslager in Sri Lanka PANO

তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সময় এমন শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন অনেক তামিল

বান বলেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ফলে জাতিসংঘের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে৷ শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবাদ বন্ধ করতে যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ তাঁর মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, দেশের এক মন্ত্রী যেভাবে বিশৃঙ্খল জনতাকে একত্র করে তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার ফলে জাতিসংঘের দপ্তরের কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে৷ ফলে দপ্তর বন্ধ করে স্থানীয় সমন্বয়ক নিল বুন'কে প্রত্যাহার করা হচ্ছে৷ শ্রীলঙ্কার সরকারের উদ্দেশ্যে বান জাতিসংঘের প্রতি দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান, যাতে আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠান শ্রীলঙ্কার মানুষের সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যেতে পারে৷

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই কলম্বোয় জাতিসংঘের দপ্তরের সামনে একের পর এক অপ্রিয় ঘটনা ঘটে চলছিল৷ মঙ্গলবার প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে৷ পুলিশ জাতিসংঘের কর্মীদের নিরাপদে দপ্তর থেকে উদ্ধারের কাজ করার সময় এই ঘটনা ঘটে৷ বৃহস্পতিবার কয়েকজন কর্মীর উপস্থিতিতে দপ্তর আবার খোলা হলেও নির্মাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে আবার বিক্ষোভ শুরু হয়৷ শ্রীলঙ্কার সরকার চলতি সপ্তাহে বার বার জাতিসংঘের কর্মীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও কার্যক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায় নি৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন
সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়