1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কর ফাঁকি দেওয়া রোখার ‘সংগ্রাম'

বার্লিনে ৫০টি দেশ ‘গ্লোবাল স্ট্যানডার্ড' সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসেছে৷ সুইজারল্যান্ড, লিখটেনস্টাইন কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দেশও নাকি – কালে – সেই চুক্তিতে যোগ দেবে৷ কর ফাঁকি দেওয়া নাকি অসম্ভব হয়ে উঠবে৷

ভোল্ফগাং শয়েবলের আগের জার্মান অর্থমন্ত্রী যারা এ দেশ থেকে অন্য দেশে টাকা পাচার করে কর ফাঁকি দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ওয়াইল্ড ওয়েস্টের মতো ক্যাভালরি – মানে অশ্বারোহী সেনা – নামাবেন বলেছিলেন৷ না বলে উপায় ছিল না, কেননা একটির পর একটি কেলেঙ্কারির তরঙ্গাভিঘাতে ফেডারাল সরকারের নাও তখন টালমাটাল৷

এক দিক দিয়ে দেখতে গেলে, কর ফাঁকি দেওয়ার মতো মনুষ্যোচিত কর্ম আর কিছু নেই: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান থেকে শুরু করে আফ্রিকা অথবা দক্ষিণ অ্যামেরিকার ছোট-বড়, বড়-ছোট দেশ, এ পোড়া দুনিয়ায় এমন কোনো স্বর্গদ্বীপ আছে কি, যেখানকার রাজনীতিক-শিল্পপতি-কোটিপতিরা কম-বেশি কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন না?

সুইজারল্যান্ডে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাকি হাল আমলের রাশিয়ান ‘জার'-দেরও আছে৷ ওদিকে সুইজারল্যান্ডকে কর ফাঁকি দেওয়ার স্বর্গদ্বীপ বলে কোনো লাভ নেই, কেননা ক্যারিবিয়ান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অবধি, পৃথিবীতে যে কত আজগুবি দেশ আছে, যেখানে আজগুবি সব ব্যাংকে কালো টাকা রাখা যায়...

তবে জার্মানির ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড একটু বেশি গুরুত্ব নেয় শুধু এই কারণে যে, দেশটা জার্মানির লাগোয়া; সেখানে জার্মান ভাষার চল আছে; আর জার্মানি থেকে গাড়িতে করে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা সীমান্ত পার করে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছাতে পারলেই সে'দেশে নামি-দামি ব্যাংকের কোনো অভাব নেই৷

Symbolbild - EZB

এক দিক দিয়ে দেখতে গেলে, কর ফাঁকি দেওয়ার মতো মনুষ্যোচিত কর্ম আর কিছু নেই

শুধু তাই নয়: সুইজারল্যান্ডে আবার ‘ব্যাংকিং সিক্রেসি', অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের খবর ফাঁস না করাটা হলো ব্যাংকদের প্রাথমিক কর্তব্য – আইন করে বেঁধে দেওয়া আছে৷ সহজ করে বলতে গেলে: জার্মানিতে কোটিপতির অভাব নেই; এখানে কর অন্য অনেক শিল্পোন্নত দেশের চেয়ে চড়া – এই যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে৷ সেই টাকা খোঁজে কর বিভাগের প্রলুব্ধ দৃষ্টি থেকে নিরাপদ আশ্রয় – যে আশ্রয় সুইজারল্যান্ডে পাওয়া যেতে পারে, যদি একবার সীমান্তের কর্মকর্তাদের চোখে ধুলো দিয়ে ওপারে পৌঁছানো যায়৷

আর কিছু নয়, একটা দৃষ্টান্ত দিলেই চলে: বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক প্রেসিডেন্ট উলি হোয়েনেস কোটি বিশেক ইউরো কালো টাকা নিয়ে ঐ সুইজারল্যান্ডেই ফাটকা খেলেছিলেন৷ কম্পিউটারের যুগে হোয়েনেস ও তাঁর সমব্যথীরা যে নতুন বিপদটির সম্মুখীন হন, সেটি হলো: ঐ সব ব্যাংকেরই কে বা কারা, হয়ত নীচু পর্যায়ের কোনো কর্মী, শাঁসালো সব অ্যাকাউন্টের খবরাখবর একটি সিডি-তে প্রিন্ট করে, সেই সিডি নিয়ে সোজা পৌঁছে যায় জার্মানিতে, সেখানকার রাজ্য তথা ফেডারাল সরকার ও কর বিভাগকে সেই সিডি চড়া দামে বিক্রি করার আশায়৷

মজার কথা, সরকারি তরফ সেই সব চোরাই সিডি কেনাও হয় বটে, লাখ লাখ ইউরো নগদ জরিমানা দিয়ে – কেননা সিডিতে উল্লিখিত শাঁসালো খদ্দেরদের ধরতে পারলে লাখ-লাখের বদলে কোটি-কোটি ইউরো বকেয়া কর ফেরত পাওয়ার আশা থাকে৷ সঙ্গে উলি হোয়েনেস-এর মতো মক্কেলদের বছর আড়াইয়ের জন্য জেলের ঘানিও টানতে হতে পারে৷

DW Bengali Arun Sankar Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ

ও হ্যাঁ, যে সব জার্মান জ্ঞানত কিংবা অজ্ঞানত কর ফাঁকি দিয়ে ফেলেছেন, মানে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন, কিন্তু সরকারকে সেটা জানাতে ভুলে গেছেন, তাঁদের জন্য আরো একটি পলায়নের পথ খোলা রাখা ছিল: ধরা পড়ার আগেই সরকারের কাছে নিজের নামেই চুকলি করে, ‘আমি এই পরিমাণ কর ফাঁকি দিয়েছি' হলপ কেটে অর্থদণ্ড অনেক কমিয়ে ফেলা যায় – মানে যেত – কেননা আগামী বছর থেকে ব্যাপারটা আর অতটা সহজ কিংবা সুখকর থাকবে না৷

কাজেই সর্বাধুনিক খবর হলো এই যে, সুইস সীমান্ত থেকে জার্মান কর বিভাগের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন যে, তাঁরা সন্দেহ করে তিনটি গাড়ি থামালে, তার মধ্যে অন্তত একটি গাড়িতে প্রচুর পরিমাণ ক্যাশ, মানে নগদ টাকা পাওয়া যাচ্ছে: ২০১৫ আসার আগেই সুইজারল্যান্ডের মরুদ্যানে টাকা পাচার করার একটা শেষ প্রচেষ্টায়...

এই পরিস্থিতিতে বার্লিনের সম্মেলন এক ধাক্কায় বিদেশে টাকা পাচার করে কর ফাঁকি দেওয়ার মতো সমস্যাটার সমাধান করে ফেলবে, এটা ভাবতে গেলে বেশ উঁচুদরের আশাবাদী হতে হয়৷ টাকা তো শুধু ব্যাংকেই থাকে না....আবার সেই সঙ্গে সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে ইইউ-এর ভেতরেই কর্পোরেট কর ফাঁকি দেওয়া চলে....ওদিকে মার্কিনিরা তো বার্লিন চুক্তির ধারেকাছে আসবে না, ইত্যাদি, ইত্যাদি...৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন