1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘কর্নাটকে খ্রিস্টানদের ওপর হামলায় হিন্দুত্ববাদীরা দোষী নয়’

ভারতের কর্নাটক রাজ্যে দু’বছর আগে খ্রিস্টানদের ওপর যেসব হামলা হয়, তার বিচারবিভাগীয় তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে আজ৷ রিপোর্টে বলা হয়, ঐসব হামলার পেছনে রাজ্যের হিন্দুত্ববাদী শাসক দল বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের কোন ভূমিকা ছিলনা৷

default

হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র রাজনৈতিক সভা (ফাইল ছবি)

বিচারপতি সোমশেখারা আজ তাঁর তদন্ত রিপোর্ট তুলে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পার হাতে৷ রিপোর্টে বলা হয়, হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি, মূলধারার হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সঙ্ঘপরিবার, রাজনীতিবিদ কিংবা রাজ্য সরকার হামলার ঐসব ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল না৷ বলা হয়েছে, হিন্দুধর্মকে হেয় করে ধর্মান্তরকরণের বিষয়ে যেসব পুস্তিকা প্রচার করা হয়েছিল, সেটাই ছিল এর নেপথ্যের মূল কারণ৷ এতে প্ররোচিত হয়ে কিছু বিপথগামী খ্রিস্টান-বিরোধি মৌলবাদী দুষ্কৃতি এই কাজ করেছে৷ যাদের কোন নাম বা পরিচয় নেই৷ সব হামলা তাৎক্ষণিক নয়৷ কিছু ঘটনা পূর্ব-পরিকল্পিত৷ হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজস ছিল, খ্রিস্টানদের এই অভিযোগ সত্য নয়৷ তবে আক্রান্ত খ্রিস্টানদের প্রতি পুলিশ প্রশাসনের আচরণে সহানুভূতির অভাব ছিল বলে বলা হয় তদন্ত রিপোর্টে৷ বিচারপতি সোমশেখারা বলেন, ১৫০০ পিটিশন জমা পড়েছিল, তারমধ্যে ৮০০টি পিটিশন খতিয়ে দেখা হয়েছে৷

এই রিপোর্টে সবাইকে ‘নির্দোষ' বলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হতাশা ব্যক্ত করে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সবাই জানে খ্রিস্টান ও নিরপরাধ মানুষের ওপর কীভাবে হামলা হয়৷ তার জন্য কাউকেই গ্রেপ্তার বা অভিযুক্ত করা হয়নি৷ আমরা অখুশি কারণ খ্রিস্টানদের প্রতি এটা অবিচার৷ অপর খ্রিস্টান প্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া, রিপোর্টে কেউ দোষী নয়, দায়ী নয় অথচ মিডিয়ার সচিত্র রিপোর্টে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ছিল কিন্তু কমিশন তা দেখেও দেখেননি৷

কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, আমাদের রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন৷ এ বিষয়ে কোন সম্প্রদায়ের মনে যেন কোন আশঙ্কা না থাকে৷

কর্নাটক রাজ্যের ৮টি জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, চার্চ ও প্রার্থনাস্থলে ভাঙচুরের একের পর এক ঘটনা ঘটে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে৷ পুলিশ ও প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংখ্যালঘুদের মনে দেখা দেয় আতঙ্ক৷ নাগরিক সমাজের চাপের মুখে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন সরকার৷ গঠিত হয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সোমশেখরার নেতৃত্বে একজনের তদন্ত কমিশন৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সংশ্লিষ্ট বিষয়