1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

কমপ্যাক্ট ডিস্ক যখন শিল্পের কাঁচামাল

কমপ্যাক্ট ডিস্ক বা সিডির ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে৷ জার্মানির এক শিল্পী সেই সিডিকে ব্যবহার করছেন ভাস্কর্য তৈরির কাজে৷ অভিনব সেই সৃষ্টিকর্মগুলি যথেষ্ট সমাদরও পাচ্ছে৷

একটি হিট-গান, চিমটা ও সিডি – ব্যাস, মাটিয়াস হিনৎস এই নিয়েই কাজ করতে পারেন৷ ড্যুসেলডর্ফ শহরের কাছে থাকেন এই শিল্পী৷ প্রায় ৯ বছর ধরে তিনি ‘ডেটা ভাস্কর্য’ নিয়ে চর্চা করছেন৷ এর জন্য তিনি কয়েকশো সিডি গরম করে তার উপকরণ ম্যাক্রোলনকে নতুন রূপ দিচ্ছেন৷ মাটিয়াস হিনৎস বলেন, ‘‘তথ্যের বিকৃতি, বা বলতে গেলে ডিজিটাল মাধ্যমে রাখা গোপন তথ্যের মাধ্যমে আমি অ্যানালগ বস্তু তৈরি করি, যা ছুঁয়ে দেখা যায়, ঘেঁটে দেখা যায়৷ তার উপর ধাক্কা মারা যায়, অনুভব করা যায়, এমনকি কিছু শুনতে পাওয়া যায়৷ তার নিজস্ব গন্ধও রয়েছে৷ এই বিষয়টি বেশ রোমাঞ্চকর৷’’

মাটিয়াস হিনৎস নিজের ভাস্কর্যগুলির নাম দিয়েছেন ‘অ্যানালগ-ডিজিটাল’৷ ড্যুসেলডর্ফ-এর শিল্প অ্যাকাডেমিতে শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি বৈপরিত্যের মধ্যে ব্যবধান দূর করার কাজে মনোনিবেশ করেছেন৷ নিজস্ব পদ্ধতি প্রয়োগ করে তিনি কয়েক'শ ‘ডেটা-স্কাল্পচার’ তৈরি করেছেন৷ তাঁর কাজের মূলমন্ত্র হলো – বস্তুর মধ্যে মানুষ৷

ভিডিও দেখুন 04:18

সিডি থেকে শিল্প

তবে মানুষের মূর্তি তৈরির কাজে বেশ কাকতালীয়ভাবে তিনি ভাস্কর্যের কাঁচামাল হিসেবে সিডি ব্যবহার করতে শুরু করেন৷ ২০০৮ সালে এক হাসপাতাল তাঁকে একটি ভাস্কর্য গড়ে তোলার কাজ দেয়৷ নিজের সৃজনশীল সত্তা দিয়ে ক্রোমোজোমের রূপ ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি৷ তখন তাঁর মনে হয়েছিল, কমপ্যাক্ট ডিস্ক বা সিডি শুধু তথ্য ধারণ করার মাধ্যম নয়৷ মাটিয়াস হিনৎস বলেন, ‘‘তথ্যভরা একটি সিডি মানুষের একটি জিনের মতো৷ জিনের উপর জিন বসালে শেষ পর্যন্ত একটা আস্ত মানুষ সৃষ্টি হয়৷ শৈল্পিক ক্ষেত্রে কাজ করার সুবাদে আমি সিডির উপর সিডি বসিয়ে একটি মূর্তি তৈরি করতে পারি৷’’

তবে মাটিয়াস হিনৎস তাঁর ডিজিটাল ভাস্কর্যের অনুপ্রেরণা পান এক অ্যানালগ উপকরণ থেকে – ব্রকোলি নামক সবজি থেকে৷ প্রাথমিক খসড়ার জন্য তিনি সেই সবজির অংশ ব্যবহার করেন৷ কয়েকদিন ধরে শুকিয়ে নিয়ে তার রূপান্তর ঘটান৷ সেটাই হয় তাঁর ডেটা ভাস্কর্যের ভিত্তি৷

মাটিয়াস হিনৎস কাঠ ও ফুলের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ নিয়ে কাজ করেন৷ কিন্তু গলানো সিডিগুলি যোগসূত্র হিসেবে থাকে৷ উপকরণ হিসেবে এর অনেক সুবিধা রয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘কাজের সময় বিরক্ত লাগতো, যে কাঠ ক্ষয়ে যায়, মোমে ফাটল ধরে অথবা রোদ উঠলে গলে যায়৷ পোকায় কাঠ খেয়ে নেয়৷ ম্যাক্রোলন-এর সম্ভাবনা দেখে খুবই উৎসাহ পেয়েছি৷ সেটা নিয়ে কত কী যে করা যায়, নানা রকম রূপ দেওয়া যায়৷ কোনো ভুল করলে বা সন্তুষ্ট না হলে বিনা সমস্যায় সবকিছু ধ্বংসও করে দিতে পারি৷’’

এই কৃত্রিম উপাদানের আরও কিছু সুবিধা রয়েছে৷ এটি হালকা, স্থিতিশীল – যে কোনো আবহাওয়ায় অক্ষত থাকে৷ চার মিটার লম্বা এমন ভাস্কর্য বাড়ির সামনেই সহজে বসানো যায়৷ মাটিয়াস হিনৎস-এর মূর্তিগুলি সত্যি চোখে পড়ার মতো৷ ড্যুসেলডর্ফ শহরের এক গ্যালারিতে যেমনটা শোভা পাচ্ছে৷

গোটা জার্মানিতেই তাঁর ভাস্কর্যের চাহিদা রয়েছে৷ যেমন ২০১০ সালে প্লাস্টিক সংক্রান্ত এক বাণিজ্যমেলা উপলক্ষ্যে তাঁকে একটি ভাস্কর্য তৈরি করতে হয়েছিল৷ ২০১৬ সালে তথ্য প্রযুক্তি মেলা ‘সেবিট’-এও তাঁর সৃষ্টি দেখা গেছে৷ সেগুলির কোনো নাম দেওয়া হয় না৷ সিডির মধ্যে কোন তথ্য লুকিয়ে রয়েছে, শিল্পী তা নিয়ে মাথা ঘামান না৷ হিনৎস বলেন, ‘‘এর কোনো কন্টেট নেই৷ মনের মধ্যেই তা থাকে৷ যার যেমন ইচ্ছা ভেবে নিতে পারে৷’’

মাটিয়াস হিনৎস এখনো নানা উপকরণ নিয়ে কাজ করার সব সম্ভাবনা পরখ করে দেখেন নি৷ তবে ভবিষ্যতেও তিনি তাঁর পছন্দের উপকরণ সিডি নিয়ে কাজ করতে চান৷

ডানিয়েলা স্পেট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়