1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

কনফেডারেশন্স কাপে জার্মান গোল-লাইন প্রযুক্তি

আখেন শহরের কাছে ছোট্ট জার্মান কোম্পানি: গোলকন্ট্রোল৷ প্রতিষ্ঠা গত বছরের শেষদিকে৷ অথচ তারা গোলরেফ বা হক-আই’এর মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানদের টপকে কনফেডারেশন্স কাপে নিজেদের কেরামতি দেখাবার সুযোগ পাচ্ছে৷

আখেনের কাছে ভ্যুরসেলেন৷ সেখানকার কোম্পানি গোলকন্ট্রোল৷ প্রতিষ্ঠাতা ডিয়র্ক ব্রয়েশহাউজেন প্রযুক্তির লাইনেরই মানুষ৷ তাঁর আদত কোম্পানিটির নাম পিক্সারগাস৷ কোম্পানিটি রাবার আর প্লাস্টিক থেকে উৎপাদনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যামেরা ভিত্তিক সরঞ্জাম তৈরি করে৷

ওদিকে ব্রয়েশহাউজেন নিজে ফুটবল খেলোয়াড়, তলার দিকের কোন একটা ডিভিশনে খেলেন৷ ২০০৯ সালে সেই ধরনের একটি খেলা থেকে ফিরছেন মাথা গরম করে, কেননা রেফারি একটা অত্যন্ত ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

পরদিন অফিসে এসেই ব্রয়েশহাউজেন তাঁর ডেভেলপারদের বললেন, ‘আমাদের ঐ ক্যামেরা কন্ট্রোল দিয়ে রেফারিইং-এ এই ধরনের ভুল আটকানো যায় না?' কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা তাদের অবসর সময়ে সমস্যাটা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে শুরু করে দিলেন, যোগাযোগ করলেন কাছের আখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাথে৷

Infografik GoalControl Torkamera Fußball Englisch

যেভাবে কাজ করে গোল লাইন প্রযুক্তি

প্রযুক্তি থেকে প্রোটোটাইপ

এইভাবেই গোলকন্ট্রোল'এর প্রথম প্রোটোটাইপটা তৈরি হল৷ সেটা একটা ফাঁকা মাঠে পরীক্ষাও করা হলো৷ গোলকন্ট্রোলের পরের পরীক্ষা ছিল আলেমানিয়া আখেন ফুটবল ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়ামে৷ ওদিকে ফিফা কিন্তু ততদিনে গোল-লাইন প্রযুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, বিশেষ করে বলের ভিতরে মাইক্রোচিপ বসিয়ে গোল নির্ধারণের প্রচেষ্টা শুধুমাত্র আংশিক সফল হবার পর৷

গোল-লাইন প্রযুক্তির জন্য আবার শোরগোল শুরু হয় ২০১০ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ফ্র্যাংক ল্যাম্পার্ডের গোলটি রেফারি না দেখার ফলে৷ ঐ ঘটনার পর থেকে ফিফা প্রধান ইয়োসেফ ব্লাটার-ও গোল-লাইন প্রযুক্তির সমর্থক হয়ে দাঁড়ান৷ ব্রয়েশহাউজেনের গোলকন্ট্রোল কোম্পানি লাইসেন্স পায় সবে ২০১৩-য় পা দিয়ে৷ অথচ তারাই যে সোনি'র মতো বড় কোম্পানির পেটোয়া হক-আই, অথবা আডিডাসের মতো বড় কোম্পানির পেটোয়া হক-আই প্রযুক্তিকে টেক্কা মেরে কনফেড কাপে তাদের মেড ইন আখেন প্রযুক্তি দেখানোর সুযোগ পাবে, তা কে ভাবতে পেরেছিল৷

WM 2010 Engalnd Deutschland

২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের এই গোলটি রেফারি না দেয়ায় তখন থেকে গোল লাইন প্রযুক্তির দাবি বাড়তে থাকে

বল চেনাটাই শক্ত!

গোলকন্ট্রোলের প্রযুক্তিগত দিকটা বিশেষ গোলমেলে নয়৷ মাঠের দু'দিকে দু'টি গোলের জন্য ওপরে স্টেডিয়ামের ছাদে সাতটি করে হাইস্পিড ক্যামেরা বসানো থাকে৷ সেই ক্যামেরা থেকে তথ্য যায় স্টেডিয়ামেরই কোথাও একটি কন্ট্রোলরুমে৷ খেলা চলাকালীন বল গোল-লাইন পার হয়েছে কি না, রেফারি এক সেকেন্ডের মধ্যে সে সিগনাল পেয়ে যান তাঁর রিস্টওয়াচে৷

ক্যামেরা প্রণালীর পক্ষে নাকি কোনটা বল আর কোনটা প্লেয়ারের মাথা কিংবা গোলকিপারের ক্যাপ, সেটা আলাদা করাই নাকি সবচেয়ে শক্ত! তার জন্য বিপুল পরিমাণ ‘ডাটা' লাগে কমপিউটারে৷ আপাতত ব্রয়েশহাউজেনের কোম্পানি ব্রাজিলের ছ'টা স্টেডিয়ামে গোলকন্ট্রোল বসানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত৷

ব্রয়েশহাউজেন এখনই ২০১৪-র বিশ্বকাপে গোলকন্ট্রোলের জয়জয়কারের স্বপ্ন দেখছেন না৷ দৃশ্যত আগে তাঁর একজন বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন৷ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ হক-আই প্রযুক্তি চালু করতে চলেছে – সেও এক ধরনের প্রতিযোগিতা বটে৷ তবে অন্যান্য লিগ থেকে নাকি খোঁজখবর করা হয়েছে৷ শুধু জার্মান ফুটবল সমিতি গোল-লাইন প্রযুক্তির ব্যাপারে এতো উদাসীন কেন, তা ব্রয়েশহাউজেন – কিংবা আর কারো জানা নেই৷

এসি/এসবি (ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়