1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘কক্সবাজারের মানুষ রোহিঙ্গাদের সহ্য করতে পারে না’

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার অঞ্চলে সাংবাদিকতা করছেন তোফায়েল আহমেদ৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটা অংশ কিভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা কী ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে?

তোফায়েল আহমেদ : বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছেন না৷ খুন-খারাপি, চুরি-ডাকাতি, এমনকি জঙ্গিবাদেও জড়িয়ে পড়ছেন তারা৷ রোহিঙ্গাদের প্রতি মানুষের আগে যে ভালোবাসা ছিল, আন্তরিকতা ছিল, তাতে এখন ভাটার টান৷ অব্যাহত অপরাধের কারণে লোকজন এখন তাদের সহ্য করতে পারে না৷ আমরা এমনটাও শুনেছি, খুব শিগগিরই কক্সবাজারের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছেন৷ এই আন্দোলনটা হলো তাদের নোয়াখালির ঠ্যাঙ্গারচরে স্থানান্তরের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে সেটা যেন দ্রুত করে৷

কোন ধরনের জঙ্গিবাদের কথা বলছেন, যাতে এদের সম্পৃক্ততা আছে?

মূলত বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি তাদের সমর্থন নেই৷ তারা বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে না৷ তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে৷

অডিও শুনুন 11:11

‘তারা এই রোহিঙ্গাদের অপরাধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে’

১৯৭১ সালে ভারত আমাদের যেভাবে সমর্থন দিয়েছিল, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ার পরও তারা আমাদের সমর্থন দেয়নি৷ সেখানে যারা গিয়েছিল, তারা আশ্রয় পায়নি৷ তারা আমাদের প্রতি দয়া-মায়া দেখায়নি৷ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-র সঙ্গে জঙ্গি কানেকশন আছে বলেই আমরা জানি৷

আইএস-এর মতো কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এদের সম্পৃক্ততা আছে?

তাদের আইএস-এর সঙ্গে যোগাযোগ আছে কিনা, সে ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবে৷ তবে রোহিঙ্গাদের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী দেশের বাইরে অবস্থান করে৷ তারা এই ধরনের উগ্র জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে৷ আমরা তো এপার থেকে এমন কথাও শুনেছি যে, রাখাইনে সেনাবাহিনীর উপর যে হামলা হয়েছে, তার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে ৭০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল৷

এরা যে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে এর পেছনে মূল কারণটা কী? শুধুই কি জীবিকা নির্বাহ, না অন্য কিছু?

একমাত্র জীবিকার জন্য তারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে, এমনটি নয়৷ বরং অপরাধ করলে তাদের এখানে জীবিকার নিশ্চয়তা থাকে না৷ অথচ অপরাধ না করলে তারা স্বাভাবিকভাবেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারত৷ আসলে ওদের জেনারেশনের পর জেনারেশন অপরাধে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ আমরা আব্দুল হাকিম নামে এমন একজন অপরাধীর নাম জানি, যিনি ডাকাতি দিয়ে পেশা শুরু করেছিলেন, এরপর খুন ও চুরি-ডাকাতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন৷ তিনি তো মধ্যপ্রচ্যের জঙ্গিদের আদলে সীমান্তের আস্তানা থেকে ভিডিও বার্তা পাঠান৷ এপারে অপরাধ করলে ওপারে আশ্রয় নেন এবং ওপারে অপরাধ করলে এপারে আশ্রয় নেন৷ সীমান্তের কোনো এক জায়গায় তিনি ঘাপটি মেরে বসে থাকেন৷ আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে হণ্যে হয়ে খুঁজছে৷ কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাচ্ছে না৷

এদের কোনো আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা কি আপনারা দেখেছেন?

ওদের আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা আমরা দেখিনি৷ যারা এখানে শরণার্থী হয়ে আসে, তাদের সহযোগিতার নামে এনজিও ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো রাতের আঁধারে ক্যাম্পগুলোতে যায়৷ এসবের মধ্যে কোনো একটা ফাঁক-ফোকর নিশ্চয়ই আছে৷ তা না হলে তারা চুরি করে রাতের আঁধারে কেন সাহায্য করতে ক্যাম্পে যাবে৷ কেন সরকারকে কিছু জানাবে না৷ তারা যদি সহযোগিতা করতে চায়, প্রকাশ্যে করুক৷ কিন্তু গোপনে কেন? এ থেকেই তো বোঝা যায় ওখানে কিছু গলদ আছে৷

এই ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তারা কি এখানে এসেই অপরাধে জড়ায়, নাকি যারা দীর্ঘদিন এখানে আছে, তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতাটা বেশি?

বাংলাদেশকে মিয়ানমার থেকে আলাদা করেছে নাফ নদী৷ এই নদী পার হতে মাত্র আধা ঘন্টা লাগে৷ সন্ত্রাসীরা এপারে অপরাধ করে ওপারে চলে যায়৷ আর ওপারে অপরাধ করে এপারে চলে আসে৷ এই কারণে আমাদের এখানে অপরাধ তৎপরতা কমানো যাচ্ছে না, বরং বেড়ে যাচ্ছে৷

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এদের সম্পর্কে কতটুকু অবগত?

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এদের ব্যাপারে অবহিত৷ ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই৷ কক্সবাজারের পাবলিক প্রসিকিউটর, অর্থাৎ পিপি আমাদের বলেছেন, কক্সবাজারে যে ফৌজদারি অপরাধ, তার অধিকাংশেরই আসামি রোহিঙ্গারা৷ কোনো রোহিঙ্গা একবার অপরাধ করে কারাগারে যাওয়ার পর জামিন পেয়ে বের হয়ে আসছে৷ কিন্তু তাকে পুশব্যাক বা অন্য কোনোভাবে মিয়ানমারে পাঠানো যাচ্ছে না৷ মিয়ানমার তাকে নেয় না৷ ফলে সে বাংলাদেশেই থেকে যাচ্ছে৷ আবার নতুন করে অপরাধে জড়াচ্ছে৷ তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো প্রক্রিয়া না থাকায় তারা ভয়ও পায় না৷ রেহাই পেয়ে যাওয়ার কারণে তাদের মধ্যে অপরাধ তৎপরতা বেড়েছে বলে আমার মনে হয়৷

ভিডিও দেখুন 01:07

আরো রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে

আমাদের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা কি তাদের কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন?

রাজনৈতিক নেতারা তাদের প্রশ্রয় দেয়, এটা সত্য নয়৷ রাজনৈতিক নেতারা কেন তাদের প্রশ্রয় দেবেন? তবে হ্যাঁ, একজন ইউপি মেম্বার ও একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ছিল৷ ওই চেয়ারম্যান বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে ভোটার করে৷ এবং ওই চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় বেশ কিছু রোহিঙ্গা বেপরোয়া হয়ে উঠে৷ আবার জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দল আছে৷ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এই রোহিঙ্গাদের অপরাধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে৷ এমনকি তাদের প্ররোচনায় রোহিঙ্গারা জঙ্গি হয়ে উঠছে- এমন কথাও আমাদের কানে আসে৷

বন্ধু, সাক্ষাৎকারটি কেমন লাগলো? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়