1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কক্সবাজারের বেলাভূমিতে ঢেউ ভাঙার খেলা

১৯৯৫ সালে জাফরের বয়স ছিল মাত্র আট বছর৷ সে বয়সেই কক্সবাজার সমুদ্রতটে ঘুরে বেড়াত সে৷ একদিন হঠাৎই তার চোখে পড়লো সমুদ্রের ঢেউয়ের উপর দাঁড়িয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক বিদেশি৷ বিস্মিত জাফর সেই বিদেশির কাছ থেকে কিনে নিলেন একটি বোর্ড৷

default

জাফর তখনো জানতেন না, এটিকে বলে সার্ফিং৷ সোজা বাংলায়, ‘একটি সরু ফলকের উপর দাঁড়িয়ে তরঙ্গবাহিত হতে হতে ভারসাম্য রাখার খেলা'৷ এই খেলা বাংলাদেশে প্রায় অজ্ঞাতই ছিল৷ এবং এখনও বস্তুত নেই৷ তবে উন্নত বিশ্বের সমুদ্র সৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর এই খেলা বেশ জনপ্রিয়৷ তাই জাফর চায় সার্ফিংকে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় করতে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি বিদেশে দেখেছি, সার্ফিং এর চর্চা একজন শুরু করে৷ তারপর তা ছড়িয়ে যায় হাজার হাজার মানুষের মধ্যে৷ এভাবে, আমি আমার দেশেও এভাবে শুরু করতে যাচ্ছি৷''

বিদেশে জাফর

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সার্ফিং করতে কয়েকটি দেশ ঘুরেও এসেছেন জাফর আলম৷ গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি৷

Surfen in Bangladesch Flash-Galerie

কক্সবাজারে বিদেশী সার্ফার

১৩০ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল ষষ্ঠ৷ ভাবা যায়, কোন ভালো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এমন অর্জন! কেউ কেউ বলতে পারেন, জাফর তো ইন্দোনেশিয়ায় স্বল্পমেয়াদে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন৷ কিন্তু সেটা কি এমন অর্জনের জন্য যথেষ্ট?

সার্ফিং এর জন্য উপযুক্ত কক্সবাজার

জাফরের মতে, বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত মানে কক্সবাজার নাকি নবীন বা নারী সার্ফারদের জন্য খুবই উপযোগী৷ আর তাই তাঁর চর্চাটা ভালোই হয় সেখানে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হচ্ছে বালি সমুদ্র সৈকত৷ এটি নতুন এবং মেয়েদের জন্য খুবই উপযোগী সার্ফিং এর জায়গা৷ এই সৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে মিস টাইমিং হলেও আঘাত পাবার ভয় নেই৷''

বাংলাদেশ সার্ফিং ক্লাব

অন্যদেরকে এই খেলায় উৎসাহিত করতে, জাফর কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ সার্ফিং ক্লাব৷ নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি এই ক্লাবে তিনি শিশু-কিশোরদের সার্ফিং শেখান৷

Surfen in Bangladesch Flash-Galerie

ঢেউ ভাঙছেন জাফর

আর এই শেখানো একেবারে বিনা খরচায়৷ তিনি বলেন, ‘‘এখন আমার ক্লাবের সত্তর জন সদস্য রয়েছে৷ এর মধ্যে মেয়ে আছে ৩৫ জন৷''

৩৫ জন মেয়ে সার্ফার!

মনে খানিকটা খটকা লাগলো৷ ৩৫ জন মেয়ে সার্ফার! সত্যিই কি বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোতে সেটা সম্ভব৷ উত্তরটা দিলেন জাফর নিজেই, ‘‘এখন যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ সার্ফিং চেনে না৷ পরিবারগুলো সার্ফিং এর গুরুত্ব বোঝে না৷ একারণে তারা মেয়েদেরকে সার্ফিং করতে বাধা দেয়৷''

তবে জাফরের আশা এই অবস্থা থাকবে না৷ একদিন বাংলাদেশের মেয়েরাও সার্ফিংয়ে এগিয়ে যাবে বহুদূর৷

Surfen in Bangladesch Flash-Galerie

সার্ফিং ক্লাবের এক সদস্য

চাই অর্থ সহায়তা

জাফর চান, বাংলাদেশে আরো অনেক সার্ফার তৈরি করতে৷ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক সার্ফিং জোন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে৷ আর সেটা সম্ভব হলে, এই খেলা দিয়েই অনেক বিদেশী পর্যটককে কক্সবাজারে আনা যাবে৷ সম্ভব দেশের পর্যটন খাতে গতি আনা৷ কিন্তু সমস্যা একটাই৷ সার্ফিংকে ছড়িয়ে দিতে জাফরের প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মধ্যে কেউ আমাদের সহায়তা করে না৷ অথচ আমাদের সাহায্য দরকার৷ বিশেষ করে সরকারের কাছ থেকে আমাদের সাহায্য প্রয়োজন৷''

হতাশ নন জাফর

অর্থ সহায়তা না থাকলেও হতাশ নন জাফর৷ বর্তমানে বিদেশী একটি সংস্থার কাছ থেকে সার্ফিং বাবদ মাসে ৩০ মার্কিন ডলার পান তিনি৷ এছাড়া কাজ করছেন, সার্ফিং লাইফ গার্ড হিসেবে৷ সমুদ্র থেকে উদ্ধারও করেছেন সত্তর জনের মতো মানুষকে৷ তবে এসবের চেয়ে এখন শুধু সার্ফিংয়েই বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি৷ চান, বাংলাদেশে সার্ফিং এর প্রচার বাড়ুক৷ বাড়ুক মানুষের আগ্রহ৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়