1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

কংগ্রেস পার্টির ‘জিওনকাঠি' এখন কি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী?

পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটের মুখে পায়ের তলায় মাটি ফিরে পেতে সোনিয়া-কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মাঠে নামিয়েছে কংগ্রেস৷ বিশ্লেষকদের মতে, সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধতে প্রিয়াঙ্কার অগ্রণী ভূমিকার সাফল্য তারই ইঙ্গিত৷

কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার ফলে উত্তর প্রদেশে অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে আসন রফা নিয়ে কংগ্রেসের জোট বাঁধার চেষ্টা যখন ভেস্তে যাচ্ছিল, তখন আসরে নেমে সাফল্যের সঙ্গে হাল ধরলেন প্রিয়াঙ্কা৷ আগেই ঠিক হয়েছিল যে, রাজ্যে উভয় দলের জোট হবে৷ কিন্তু আসন রফা নিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অখিলেশ যাদবের ঐকমত্য না হওয়া শেষ পর্যন্ত বাদ সাধে৷ সর্বভারতীয় দলের ‘ইগো' বা আত্মম্ভরিতা নিয়ে রাজ্যের ৪০৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস দাবি করে ১৩৭টি আসন৷ সমাজবাদী পার্টি ছাড়তে চায় বড়জোর ১০০টি আসন৷ অখিলেশের প্রশ্ন, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের যে ভগ্নদশা তাতে কি করে তারা ১৩৭টি আসন দাবি করতে পারে?

এ অবস্থায় জোট না হবার সম্ভাবনাই বেশি৷ তাই সমাজবাদী পার্টির এক তরফাভাবে ১৯১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে৷ এরমধ্যে গতবারের জেতা কংগ্রেসের ৯টি আসন ছিল৷ কিন্তু জোট না হলে কী হবে, অর্থাৎ উভয় দলের লাভ লোকসান নিয়ে চলে ভাবনা-চিন্তা৷ তুলে ধরা হয় আসাম ও বিহারের উদাহরণ৷ আসামে একা চলতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে কংগ্রেস৷ বিহারে মহাজোটের ফলে কংগ্রেসের কিছুটা ফায়দা অবশ্যই হয়েছে৷ কাজেই উত্তর প্রদেশে জোট না হলে কংগ্রেস পায়ের তলায় জমি পাবে না৷ উপায়ন্তর না দেখে

র নির্দেশে কংগ্রেস হাইকমান্ড প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যস্থতায় ১০৫টি আসনে রাজি হয়ে এ যাত্রায় জোট বাঁচানো সম্ভব হয়৷ অখিলেশ যদবও বুঝতে পেরেছিলেন, বিজেপিকে আটকাতে জোটই হবে কাম্য৷

যদিও রাহুল গান্ধীর ব্যর্থতা ঢাকতে কংগ্রেসের তরফে বলা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও এটা রাহুল গান্ধীকে ভোট ময়দানে স্রেফ সাহায্য করা ছাড়া আর কিছু নয়৷ শুরু থেকেই মায়ের নির্বাচনি কেন্দ্র রায়বেরিলি এবং দাদার নির্বাচনি কেন্দ্র আমেথির রাজনৈতিক দেখভাল প্রিয়াঙ্কাই করে আসছে৷ জোট হবার পর সমাজবাদী পার্টি সংক্ষেপে সপা এবং কংগ্রেস একযোগে ভোট প্রচারে নামতে চলেছে যার প্রথম সারিতে থাকছে দুই দলের দুই নেত্রী৷ একজন অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল যাদব এবং অন্যদিকে রাহুলের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ উভয় দলের নেতাকর্মীরা নাকি এমনটাই চাইছেন৷ উভয়েই তাঁদের রাজনৈতিক নেপথ্য ভূমিকা থেকে উঠে আসতে চলেছেন পাদ প্রদীপে৷ অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন৷

প্রিয়াঙ্কা বাড্রা গান্ধীর এভাবে উঠে আসা নিয়ে রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা৷ শোনা যাচ্ছে, ২০১৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে সোনিয়া গান্ধীর কেন্দ্র রায়বেরিলি থেকে প্রার্থী হতে পারেন প্রিয়াঙ্কা৷ প্রথমত, সোনিয়া গান্ধী তাঁর স্বাস্থ্যজনিত কারণে ইদানীং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে রেখেছেন৷ উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস-সপা জোট সফল করতে প্রিয়াঙ্কা যেভাবে তাঁর স্বভাব লাজুক খোলস ছেড়ে বলিষ্ঠতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন, কংগ্রেসের ভবিষ্যত রাজনীতির স্বার্থে তাঁর দলীয় অবস্থান আরও পাকা করা জরুরি, সেদিক থেকে রায়বেরিলি হবে প্রিয়াঙ্কার পক্ষে সবথেকে অনুকুল কেন্দ্র, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ উল্লেখ্য, এই রায়বেরিলি কেন্দ্র বস্তুত কংগ্রেসের একচেটিয়া৷ প্রথমে ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী তারপর সোনিয়া গান্ধী৷ অবশ্য সোনিয়া গান্ধী প্রথমে ভোটে দাঁড়ান আমেথি থেকে ১৯৯৯ সালে৷ পরে ছেলে রাহুলকে আমেথি কেন্দ্র দিয়ে তিনি সাংসদ হন রায়বেরিলি থেকে৷

সপা-কংগ্রেস জোট হওয়ায় কিছুটা বেকায়দায় এবং দলিত পার্টি মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি৷ সংখ্যালঘু ভোট, দলিত ভোট ও উচ্চবর্ণের ভোট ভাগাভাগি হবে৷ সব দলই একে অপরের ভোট ব্যাংকে থাবা বসাতে চাইবে৷ ভোট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিজেপিকে আটকাতে মুসলিম ভোট যাবার সম্ভাবনা বহুজন সমাজ পার্টির ঝুলিতে৷

ভোট বিশেষজ্ঞ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী অবশ্য ডয়চে ভেলেকে বললেন অন্যকথা৷ ওনার মতে, কংগ্রেস বড্ড বেশি পরিবার-কেন্দ্রীক হয়ে পডছে৷ দলের ভবিষ্যতের পক্ষে সেটা শুভ নয়৷ দলের অনেক প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা আছেন, সবাইকে ডিঙিয়ে নিজের ছেলে-মেয়েকে দিয়ে সোনিয়া গান্ধী যেভাবে দল পরিচালনা করতে চাইছেন, তাতে অন্য অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর তাঁর আস্থাহীনতাই প্রকাশ পাচ্ছে৷ সম্ভবত এরই পরিণামে কংগ্রেস বিভিন্ন রাজ্যে মাথা তুলতে পারছে না৷ রাহুল গান্ধী এখনও পর্যন্ত দলের প্রকৃত মুখ হতে পারেননি৷ সপা-কংগ্রেস জোট হওয়ায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে নিয়ে নাচানাচি করারও সময় আসেনি৷ পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনি ফলাফলের পরই তা বোঝা যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়