1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ওয়ান ওয়ার্ল্ড ফর্মুলার খোঁজে বিজ্ঞানীরা

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির রহস্য ভেদ করতে বিজ্ঞানীরা নানা পথে এগোনোর চেষ্টা করছেন৷ অতীতের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ‘মিসিং লিংকগুলি ভরাট করার উদ্যোগ নিচ্ছেন৷ সবচেয়ে বড় আশা জেনিভার লার্জ হেড্রন কোলাইডার৷

আমাদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির রহস্য কী? আজকের এই অবস্থা কী ভাবে হলো? আলো কেন সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার গতিতে চলে? সেটা ১০ লাখ কিলোমিটারও তো হতে পারতো! এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে পদার্থবিদদের চাই এমন এক তত্ত্ব, যা সব প্রাকৃতিক শক্তির হদিশ দেয়৷ আলব্যার্ট আইনস্টাইনও প্রায় ৩০ বছর ধরে তার সন্ধান করেছেন, কিন্তু সফল হননি৷

এই লক্ষ্যের আরও কাছে আসতে চান গবেষকরা৷ তার জন্য তাঁরা লার্জ হেড্রন কোলাইডার নামের পার্টিকেল অ্যাকসিলারেটর যন্ত্রটিকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে তা অদূর ভবিষ্যতে শক্তি উৎপাদন করতে পারে৷ এমনটা আগে কখনো সম্ভব হয়নি৷ তার মাত্রা এত বেশি হবে, যে নতুন পার্টিকেল সৃষ্টি হবে, যা আমাদের কাছে এতকাল অপরিচিত ছিল৷ গত শতাব্দীতে পদার্থবিদরা ম্যাটার বা পদার্থের কাঠামোর আরও গভীরে প্রবেশ করেছেন৷

Claudius Ptolemy Universum

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির রহস্য কী?

আমাদের চারিপাশে যা কিছু আছে, তাকে বেরিয়নিক ম্যাটার বলা হয়৷ কয়েকটি মাত্র উপাদানের সাহায্যে পদার্থবিদরা তার ব্যাখ্যা দিতে পারেন৷ এই স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুযায়ী দুই ধরনের পার্টিকেল রয়েছে৷

প্রথমটি ম্যাটার বা পদার্থ সৃষ্টি করে৷ দ্বিতীয়টি এমন পার্টিকেল দিয়ে তৈরি যা শক্তি বহন করে৷ কিন্তু এই স্ট্যান্ডার্ড মডেল কিন্তু সব প্রশ্নের জবাব দিতে পারে না৷ যেমন ডার্ক ম্যাটার কী, তা এতে জানা যায় না৷ তাছাড়া এতে এমন কোনো পার্টিকেলের উল্লেখ নেই, যা অভিকর্ষ বহন করে৷ তাই পদার্থবিদদের এই তত্ত্বের সম্প্রসারণ করতে হয়েছে৷ প্রত্যেকটি পার্টিকেলের জন্য সহযোগী স্থির করতে হয়েছে, যার নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷ এদের বলা হয় সুপার-সিমেট্রিক পার্টিকেল৷

পদার্থবিদরা এলএইচসি-তে এমন সুপার-সিমেট্রিক পার্টনার পার্টিকেল খুঁজতে চান৷ সফল হলে তাঁরা এক সার্বিক তত্ত্বের আরও কাছে এগোতে পারবেন৷ কিন্তু একে কেন ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ফর্মুলা' বলা হয়? হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুডরিড মোরগাট পিক বলেন, ‘‘কারণ এমন ফর্মুলা তৈরি হলে তা প্রকৃতির সব শক্তির বর্ণনা দিতে পারবে৷ এমনকি যে সব বিষয়ের ফর্মুলা ভাবাই কঠিন, তাও এতে স্থান পাবে৷ হয়ত আমরা একে ল্যাগব়্যাংজিয়ান পার্টিকেল মডেলে আনতে পারি৷ তবে বিষয়টি ঠিক সে রকম নয়৷ সেটা হবে পার্টিকেলগুলির মধ্যে সব রকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মৌলিক উৎস৷ যাকে ‘থিয়োরি অফ এভরিথিং' বলা চলে, যা সব সম্ভাব্য শক্তির ব্যাখ্যা দিতে পারবে৷''

ব্রহ্মাণ্ডে মোট চারটি শক্তি রয়েছে৷ সবচেয়ে পরিচিত হলো অভিকর্ষ৷ যে কোনো পদার্থের মাস বা ভর থাকলেই এই শক্তি কাজ করে৷ যে কোনো দূরত্বেই তা ঘটে৷ অভিকর্ষ ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ফর্মুলা' নস্যাৎ করে দেয়৷

আইনস্টাইন তাঁর ‘থিয়োরি অফ রিলেটিভিটি'-তে এর ক্রিয়ার বর্ণনা করেছেন৷ ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শক্তিও যে কোনো দূরত্বেই কাজ করে৷ এই শক্তি আবার অণু-পরমাণুর গঠনও স্থির করে৷ বাকি দুটি শক্তি পরমাণুর মৌলিক স্তরে কাজ করে৷ স্ট্রং নিউক্লিয়ার পাওয়ার পরমাণুর কেন্দ্রীয় অংশ ধরে রাখে৷ আর উইক নিউক্লিয়ার পাওয়ার তেজস্ক্রিয় ভাঙন প্রক্রিয়া বর্ণনা করে৷ ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ফর্মুলা'-র কাজ হবে এই সব শক্তিকে একত্র করা৷

‘বিগ ব্যাং'-এর পর যখন ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি হলো, তখন সব মৌলিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ ছিলো৷ সে সময়কার অবস্থা ঠিক কেমন ছিল, আজকের তত্ত্ব তার বর্ণনা দিতে পারে না৷ সৃষ্টির সেই রহস্য ভেদ করতে হলে পদার্থবিদদের তখনকার শক্তিগুলিকে আবার একত্র করতে হবে৷

এক্ষেত্রে ‘স্ট্রিং থিয়োরি' সবচেয়ে উপযুক্ত তত্ত্ব হতে পারে৷ কারণ এই তত্ত্ব অনুযায়ী সবকিছুই অতি ক্ষুদ্র স্ট্রিং বা সুতা দিয়ে তৈরি৷ কিন্তু কেউ কোনোদিন সেগুলি দেখতে পাবে না৷ সহযোগী পার্টিকেল তত্ত্ব যদি প্রমাণ করা সম্ভব হয়, তাহলে তা ‘স্ট্রিং থিয়োরি'-কেও জোরালো করবে৷ কারণ সেটি ঠিক একই ভাবনার ভিত্তিতে গড়া৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক