1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ওয়াজারিস্তানে লাখো মানুষ গৃহহীন, মানবেতর জীবনযাপন

পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তান অঞ্চল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে লাখো মানুষ৷ তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় খুঁজতে যে দিকে দু’চোখ যায়, সেদিকেই ছুটছেন এ সব মানুষ৷

default

গৃহহীনদের মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার শিশু এবং ১ লাখ ১০ হাজার নারী: ইমরান খান

এই সব গৃহহীন মানুষদের জন্য পাকিস্তান সরকার কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না বলে অভিযোগ মানবাধিকার কর্মীদের৷ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এ পর্যন্ত উত্তর ওয়াজিরিস্তান ছেড়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ৷ এর মধ্যে অনেকেই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন৷ এ মাসের প্রথম দিকে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে ঘর ছাড়া শুরু করেন তাঁরা৷

বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি

২৩শে জুন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় মানুষদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য তাদের জঙ্গি দমন অভিযান স্থগিত করে৷

Pakistan Massenflucht aus Nord-Waziristan vor Offensive gegen Islamisten

তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় খুঁজতে যে দিকে দু’চোখ যায়, সেদিকেই ছুটছেন এসব মানুষ

তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরো বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা৷ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, এরই মধ্যে কয়েক'শ স্থানীয় ও বিদেশি জঙ্গিদের হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে তারা৷

পাকিস্তানের এক মানবাধিকার কর্মী ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘গত কয়েক বছরের মধ্যে উপজাতীয় ঐ এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছে৷ সেনা অভিযানের নামে যা হচ্ছে তা রীতিমত মানবাধিকবার লঙ্ঘণ, কারণ মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, নেই খাবার৷ তাই ঐ সব এলাকার মানুষের দারিদ্র্য চরমে পৌঁছেছে৷''

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এক শরণার্থী জানান, ‘‘যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁরাই অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছেন৷ কিন্তু অনেকেই নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চান না৷ নিজের ঘর আঁকড়ে পরে থাকেন৷''

পাকিস্তানের অন্যতম রাজনীতিবিদ ইমরান খান বলেন, ‘‘ওয়াজিরিস্তানে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে৷ সেখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ৷

গৃহহীনদের মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার শিশু এবং ১ লাখ ১০ হাজার নারী৷ তাঁদের হাতে বেশি পয়সা নেই, যা দিয়ে গাড়ি করে নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন তাঁরা৷ তাই পায়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাঁদের৷'' খান তাই পাকিস্তান সরকারকে শরণার্থীদের ত্রাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন৷ প্রসঙ্গত, ইমরান খানের দল তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনায় বরাবরই কাজ করে যাচ্ছে৷

ইসলামাবাদভিত্তিক সাংবাদিক মাতিউল্লাহ জান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এটা গণমাধ্যমের দায়িত্ব৷ তাদের উচিত ওয়াজিরিস্তান ছেড়ে যাঁরা পালিয়ে এসেছেন তাঁরা কী অবস্থায় আছেন, তা তুলে ধরা৷ এটা সত্যিই লজ্জাজনক যে এই ইস্যুটির চেয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুগুলো বড় বেশি প্রাধান্য পায় গণমাধ্যমে৷''

তবে এটাও সত্যি যে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে সমর্থন করেন পাকিস্তানের বেশিরভাগ মানুষ৷ স্থানীয় সাংবাদিক মোহসীন সাঈদের কথায়, ‘‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এই অভিযানে আমার পুরোপুরি সমর্থন রয়েছে৷ কেননা এই জঙ্গিরা যে কোনো সময় শহরে ঢুকে হামলা চালাতে পারে এবং সেরকম হলে, তখন তাদের হাত থেকে কেউ-ই রেহাই পাবে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়