1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

‘ওরাও মানুষ, আর মানুষ মানুষের জন্যে'

কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প হাতিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার৷ আমাদের ফেসবুকে সরকারের এই পরিকল্পনার পক্ষে বিপক্ষে নানা মত উঠে এসেছে৷

রোহিঙ্গাদের কষ্টে সমব্যাথী পাঠক সামসুল হকের মন্তব্য, ‘‘ওরাও মানুষ, আর মানুষ মানুষের জন্যে৷ বাঙালিরাও অনেক দেশে আছে, কীভাবে তা সবাই জানেন৷'' সরকারের প্রতি সামসুল হকের পরামর্শ, ‘‘বিপদে যাকে আশ্রয় দিলেন তাকে কেন বনবাসে পাঠাবেন! তাকে তার নিজের স্থানে কীভাবে ফিরিয়ে দেয়া যায়, কূটনৈতিকভাবে সে চেষ্টা করা উচিত৷''

পাঠক সাখাওয়াত উল্লার মনে করেন, ‘‘সরকারের এই সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত৷ এর চেয়ে বরং মায়ানমারের উপর চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে হবে৷''

নিজের দেশের জনসংখ্যা আরো বেড়ে যাওয়ার ভয়ে চিন্তিত রুবেল৷ তার মন্তব্য, ‘‘রোহিঙ্গাদের এমন জায়গাতে সরিয়ে নেয়া উচিত যাতে তারা পরবর্তীতে কোনোক্রমে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব না পেতে পারে৷ জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ দেশে তাদের এতটুকু জায়গা দেয়াই অনেক বেশি৷''

মোঃ আব্দুল জব্বার ভাল মতে, ‘‘এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে ভালো, তবে পরে মায়ানমারের অবস্থা ভাল হলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আবার পাঠিয়ে দিতে হবে৷''

পাঠক রোজা কিন্তু এ ব্যাপারের সরকারের সাথে একমত নয়৷ আরস শয়ন শীল অর্ণব বলছেন যেখানে আছে রোহিঙ্গারা আপাতত ওইখানে থাক..৷

তৌহিদুর রহমানের মতে এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারটি ঠিক হয়নি, অন্যভাবে ব্যবস্থা করা যেতো ৷ তবে কীভাবে, তার কোনো সমাধান দেননি তিনি৷

অন্যদিকে পাঠক সালাউদ্দিন কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘এটা অবশ্যই একটা ভালো উদ্যোগ৷ মানুষ মানুষের জন্য৷ তাদের এই দুর্দিনে একটু সাহায্যের হাত বাড়ালে মানবতাই উপকৃত হয়৷ বাংলাদেশের অনেক মানুষও তো অ্যামেরিকাসহ অনেক দেশে অবৈধভাবে গিয়ে পরে বৈধ হচ্ছে৷'' তবে তার পরামর্শ হলো, ‘‘হাতিয়ার মতো দেশের যে সমস্ত এলাকা জনবসতিশূণ্য, সে সব এলাকা নির্বাচন করে ওদেরকে সরিয়ে নিতে হবে৷''

হাই সাদাত মনে করছেন,‘রোহিঙ্গাদের হাতিয়ায় সরিয়ে নিলে এক সময় হাতিয়া আমাদের হাত থেকে চলে যাবে৷''

বাংলাদেশিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দিহান শেখ সজীবের পরামর্শ, এই বিষয়ে বাংলাদেশিদের মতামত নিরপেক্ষ হবে না, তাই আন্তর্জাতিকভাবে মতামত নেওয়ার ব্যবস্থা করলে ভাল হয়৷'' আর আহমেদ সাঈদ এ ব্যাপারের জাতিসংঘের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷

সরকারের এই পরিকল্পনাকে নিয়ামুল ইসলাম সমর্থন করেছেন এবং এর কারণও তিনি জানিয়েছেন এভাবে, ‘‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু ক্রাইম এবং মাদক পাচারের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে তারা বেইমানি করেছে৷ তাই এই ব্যবস্থা নেয়াকে আমি সমর্থন জানাই৷''

জসিম উদ্দিন নিজের দেশে ক্রাইম বেড়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত৷ তাই তিনি এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, ‘‘সরকার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কি করে নিতে পারে, ভেবে অবাক হই৷ জলদস্যুর অত্যাচারে জেলে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা এমনিতেই অতিষ্ঠ৷ এদেরকে সেখানে পাঠালে তারা যে সেই কাতারে নাম লেখাবে না, তার কি গ্যারান্টি আছে? যেহেতু তাদের কোনো কাজ করার বৈধতা নেই৷ তাই তারা অবৈধ পথে যেতেই পারে, তাই নয় কি ?''

রোহিঙ্গাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো ভেবে আরাফানুর রহমান আনন্দিত৷ তার আশা সরকার এদের পাশে থাকবে৷

ডয়চে ভেলের পুরনো বন্ধু অসিত কুমার দাস মিন্টুর মতে, সরকারের এই উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করলেও তাঁর মতে এর স্থায়ী সমাধান দরকার৷

ইবনে মিজান প্রামাণিক সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন৷

কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার৷ কক্সবাজারের বন্ধু ছবি বড়ুয়া খুসি রোহিঙ্গারা তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাবে তাই৷

সুমন হাসান, আলি ও আরো অনেক পাঠকের মতো সবুজ হাসনাতও চান রোহিঙ্গারা মায়ানমারে ফিরে যাক৷

পাঠক শাহ আজিজ নিজের দেশের শান্তি নষ্ট হবার ভয়ে শঙ্কিত৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘আরেকটি জঙ্গি আখড়া তৈরির শুভ সূচনা যেমনটি হয়েছিল উখিয়া সীমান্তে৷ গুম করার ভাল জায়গা হবে, আমরা লেবানন হয়ে যাব৷ কার বুদ্ধিতে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত৷''

মাসুদ শরীফ বলছেন, ‘‘এ সরকারের কাছ থেকে এর চাইতে কম নোংরামি আশা করিনি৷ তারা মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করছে না৷''

একদিকে নিজের দেশের সমস্যা আবার অন্যদিকে মানবিকতা৷ সবদিক ভেবে ফেসবুক বন্ধু নিলা লিখেছেন, ‘‘মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া উচিত৷ তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে বাংলাদেশ জনভারাক্রান্ত একটি দেশ৷ মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশে ১৬ কোটি লোকের বাস৷ সেইখানে আবার অতিরিক্ত লোক আশ্রয় দেওয়া সত্যিই কঠিন ব্যাপার৷ তাছাড়া অতিরিক্ত লোকের মৌলিক অধিকার ....৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন