1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ঐতিহাসিক চিত্রকলার ডিজিটাল মেকওভার!

ভেলাসকেজ কিংবা রুবেন্সের মতো স্বনামধন্য ঐতিহাসিক চিত্রকরদের ছবি নিয়ে ডিজিটাল খেলা করেন ইটালির শিল্পী দাভিদ কেইওলা, কম্পিউটারের স্ক্রিনে৷ এ যেন অতীত আর বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধন৷

এমন সব প্রাকৃতিক দৃশ্য, যা নিজে থেকেই ভেঙে-গড়ে মুছে যায়; অথবা এমন সব সুবিশাল স্ক্রিন, যাতে ঐতিহাসিক শিল্পকলার কোনো সুপরিচিত চিত্রপটকে ‘ডিকন্সট্রাক্ট' করা হয়৷ ইটালির দাভিদ কেইওলা এই সব শিল্পকর্মের স্রষ্টা৷

রোমের একটি শিল্পী পরিবারে জন্ম৷ ৩৪ বছর বয়সি দাভিদ কেইওলা সারা জীবন ধরে নানা বিশ্বখ্যাত ছবি দেখে আসছেন৷ অতি কম বয়সেই তাঁর কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচয় হয়৷ তবে প্রাচীন রোমও যেন কোথাও একটা রয়ে গিয়েছে তাঁর মধ্যে৷ ভিজুয়াল আর্টিস্ট দাভিদ কেইওলা বলেন, ‘‘আমার কাছে ঐতিহাসিক শিল্পকলা হলো সৌন্দর্য আর পূর্ণাঙ্গতার প্রতীক, যা আমরা বহুবার দেখেছি, বহুবার পর্যবেক্ষণ করেছি৷ আমার প্রচেষ্টা হলো, এ ধরনের একটি পুরনো শিল্পকর্মকে নতুনভাবে দেখার পন্থা আবিষ্কার করা৷''

ক্লাসিক থেকে বিমূর্ত

স্পেনের সুবিখ্যাত চিত্রকর দিয়েগো ভোলাসকেজের টানে কেইওলা যে শুধু মাদ্রিদের মুজিও দেল প্রাদোতে গিয়েছেন, এমন নয়৷ বরং ঐ মিউজিয়ামের ডিজিটাল ডোমেনেও তাঁর গতিবিধি৷ ২০০৯ সাল যাবৎ প্রাদো ভেলাসকেজের ১৪টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যানভাসকে হাই রেজোলিউশন ফরম্যাটে ইন্টারনেটে দিয়েছে৷ গুগল ইত্যাদি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে আজ ভেলাসকেজের ‘লাস মেনিনাস'-এর মতো ছবি ডিজিটাল আঙ্গিকে উপভোগ করা সম্ভব৷ সেই ছবিটাই ছিল কেইওলা'র এই অ্যানিমেশনের ভিত্তি৷

কেইওলা বললেন, ‘‘স্বভাবতই এভাবে আদত শিল্পী ও তাঁর শিল্পকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে৷ এটা ছবিটির প্রতি আমার ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রতিফলনও বটে, আবার সমাজ আজ যেভাবে সব কিছু ডিজিটাল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখে, তার প্রতিফলন – কিভাবে আমরা জগৎকে অন্যভাবে দেখতে শিখছি, ফলে পরিচিত শিল্পকর্মকেও অন্য চোখে দেখছি৷''

ভিডিও দেখুন 04:33

ইটালির শিল্পী দাভিদ কেইওলা-র শিল্পকর্ম

ওলন্দাজ চিত্রকর পেটার পল রুবেন্সের ‘ব্যাঘ্রশিকার' ছবিটিকে একটি বিমূর্ত ছবিতে পরিণত করেছেন কেইওলা৷ বিশেষভাবে সৃষ্ট প্রোগ্রামের সাহায্যে কেইওলা ছবিগুলির প্যারামিটার নির্ধারণ করে, নিজস্ব অ্যালগরিদম দিয়ে তা নতুনভাবে মাপজোক করে অন্তর্নিহিত জ্যামিতিক কাঠামোগুলোকে উন্মোচন করেন – যার ফলে এই কিউবিস্ট এফেক্ট সৃষ্টি হয়৷ ক্লাসিক্যাল আর্ট যেন ডিজিটাল নান্দনিক আর প্রযুক্তির সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে৷

অযান্ত্রিক

কেইওলা'র ভাষ্যে, ‘‘প্রযুক্তির সাথে আমার সম্পর্ক ঠিক যান্ত্রিক নয়, বরং একটা সহযোগিতার মতো৷ আমিএমন সব ‘টুল' সৃষ্টি করতে ভালোবাসি, যেগুলোর সঙ্গে একটা আদানপ্রদান সম্ভব৷ প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করা যেন নিজেই এক ধরনের আবিষ্কার বা আবিষ্কারের প্রক্রিয়া৷ প্রযুক্তি শুধু কোনো ধারণাকে ফুটিয়ে তোলার জন্যই নয়, বরং সেই ধারণাকে আকৃতি দেওয়ার, সেই ধারণার সঙ্গে সংলাপের একটা সুযোগ৷''

মাদ্রিদের ‘ফ্যাকটুম আর্টে' স্টুডিওতে জন্ম নিচ্ছে দাভিদ কেইওলা'র সর্বাধুনিক ভাস্কর্য৷ বার্লিন, মস্কো, নিউ ইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস, সর্বত্র তাঁর একক প্রদর্শনী হয়েছে৷ ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল আর্টের বিভিন্ন ফেস্টিভালে তিনি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন৷ ক্রমেই তাঁর কাজ রক্ষণশীল গ্যালারি ও মিউজিয়ামগুলোর কাছেও কদর পাচ্ছে৷ কেইওলা বললেন, ‘‘ফাকটুম-এর মজা এই যে, এরা যেমন আধুনিক প্রযুক্তিকে স্বাগত জানায়, তেমনি এই ডিজিটাল ফ্যাব্রিকেশন পাইপলাইনের সঙ্গে প্রথাগত অঙ্কণ পদ্ধতিকে মেলাতে জানে ফ্যাকটুম৷ যেন দু'টোর একটা সংমিশ্রণ তৈরি হয়৷''

দাভিদ কেইওলা শুধু ভাস্কর্য আর প্রিন্ট নিয়েই ব্যস্ত নন৷ তিনি ইভেন্ট নিয়েও কাজ করেন৷ তাঁর পরের প্রকল্প হলো বার্লিনে – রোবোটরা লাইভ মূর্তি গড়বে! ডিজিটাল আর অ্যানালগের পরস্পরবিরোধিতা মুছে যাবে৷ দাভিদ কেইওলা'র শিল্পকর্ম আমাদের যুগের সেই বৈশিষ্ট্যকেই তুলে ধরছে: কিভাবে রিয়্যাল আর ভার্চুয়্যালের মধ্যে পার্থক্য ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়