1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

এয়ারএশিয়া কী ধরনের সংস্থা?

ফ্লাইট কিউজেড৮৫০১-এর ধ্বংসাবশেষ, এমনকি যাত্রীদের লাশ পাওয়া যেতে শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান উপকূলে৷ বিমানবাহিনীর একটি সার্চ প্লেন সাগরের তলায় দুর্ঘটনায় পতিত বিমানটির ‘‘ছায়া’’ দেখেছে৷

কিন্তু কে এই ‘‘এয়ারএশিয়া বেরহাদ''? বিমান পরিবহণ সংস্থাটির মুখ্য কার্যালয় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে৷ এটা একটা কম খরচের এয়ারলাইন এবং এশিয়ার সবচেয়ে সফল এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে পড়ে৷ এয়ারএশিয়া গ্রুপের আটটি অ্যাফিলিয়েট আছে, তাদের মধ্যে থাই, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্স এয়ারএশিয়া, সেই সঙ্গে এয়ারএশিয়া জাপান, ‘জেস্ট' ও এক্স, এই তিনটি৷ এয়ারএশিয়ার উড়াল যায় এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে প্রায় ৮০টি দেশে৷

ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১ চালাচ্ছিল ইন্দোনেশিয়া এয়ারএশিয়া, যার ৪৯ শতাংশ মালিকানা মূল কোম্পানির৷ এটি হবে চলতি বছরে তৃতীয় বিমান দুর্ঘটনা, যা-তে কোনো মালয়েশীয় বিমান পরিবহণ সংস্থা বা তার শাখা কোম্পানি সংশ্লিষ্ট৷ বিশেষ করে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০ উড়ালটি গত মার্চ মাস যাবৎ নিখোঁজ৷

AirAsia Airbus 320-200 vermisst 30.12.2014 Radar

এইখানে হারিয়ে গিয়েছিল বিমানটি...

কালিমান্তানের কাছে এয়ারএশিয়ার যে বিমানটির খোঁজ চলেছে, সেটি একটি এয়ারবাস এ-৩২০-২০০৷ এমএইচ৩৭০ ছিল একটি বোয়িং ৭৭৭, যা কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাবার পথে উধাও হয়৷ তবে সবচেয়ে ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটে সম্ভবত গত জুলাই মাসে, যখন মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ১৭ উড়ালটি ইউক্রেনের উপর দিয়ে যাবার সময় ভূপাতিত হয়৷ এই বিমানটিতে ছিলেন ২৯৮ জন আরোহী; নিখোঁজ বোয়িংটিতে ২৩৯ জন আরোহী; এবং সদ্য দুর্ঘটনায় পতিত এয়ারবাসটিতে ১৬২ জন আরোহী৷

সূচনা

এয়ারএশিয়া কোম্পানির পত্তন হয় ১৯৯৪ সালে, মালয়েশিয়ার সরকারি মালিকানার কনগ্লোমারেট ডিআরবি-হাইকম এয়ারএশিয়া-র প্রতিষ্ঠাতা৷ ২০০১ সালে মিউজিক ইনডাস্ট্রির প্রাক্তন কর্মকর্তা টোনি ফের্নান্ডেজ কোম্পানিটিকে কেনেন মাত্র এক রিঙ্গিট বা ১৫ সেন্ট মূল্যে, কেননা বাজারে এয়ারএশিয়ার ঋণের পরিমাণ তখন প্রায় এক কোটি দশ লক্ষ ডলার৷ মালয়েশীয়-ব্রিটিশ শিল্পপতি ফের্নান্ডেজ দশ বছরের মধ্যে কোম্পানিটিকে আবার জিইয়ে তোলেন এই স্লোগান দিয়ে: ‘‘নাও এভরিওয়ান ক্যান ফ্লাই'' – ‘এখন সবাই বিমানে চড়তে পারে'৷

AirAsia Airbus 320-200 vermisst 30.12.2014 Angehörige

নিখোঁজ যাত্রীদের শোকাহত স্বজনেরা...

ব্যবসার নীতি

এয়ারএশিয়া-র ব্যবসা করার ধরন অন্যান্য বাজেট এয়ারলাইন্সের মতোই৷ কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী তাদের ‘লো-কস্ট ফিলজফি'-র ফোকাস হলো তিনটি মুখ্য স্ট্র্যাটেজির উপর: প্রথমত, ‘হাই এয়ারক্রাফ্ট ইউটিলাইজেশন' বা বিমানগুলিকে যতোদূর সম্ভব আকাশে রাখা, ঘন, ঘন উড়াল, গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই আবার প্রত্যাবর্তন৷ দ্বিতীয়ত, ভাড়া কম কিন্তু কোনো বিশেষ সুযোগসুবিধা কিংবা পরিষেবা থাকবে না – যেমন ‘ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার'-দের জন্য এক্সট্রা মাইলেজ থাকবে না; উড়াল চলাকালীন খাবার-দাবার কিংবা পানীয় কিনতে হয়, ফ্রি-তে পাওয়া যায় না৷ তৃতীয়ত, নন-স্টপ ফ্লাইং – অর্থাৎ স্বল্প কিংবা মাঝারি পাল্লার উড়ালে বিমান মাঝপথে কোথাও নামে না৷

লাভের ব্যবসা?

২০১৪ সালের তৃতীয় কোয়ার্টারে এয়ারএশিয়া গ্রুপের প্রাক-কর মুনাফা ছিল ৭৬ লক্ষ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ তার আগের বছরের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি৷ মোট আয়ও বেড়েছে তিন শতাংশ৷ কোম্পানির কর্মীসংখ্যা আজ ১৫ হাজার৷ তারা বিশ্বের সবচেয়ে কম খরচের এয়ারলাইন্স বলে এয়ারএশিয়া-র দাবি, প্রত্যেক সিট ও কিলোমিটার প্রতি কোম্পানির খরচ নাকি তিন ডলার ৬৭ সেন্ট৷

কী ধরনের প্লেন

কোম্পানির দূরপাল্লার উড়ালগুলি চলে এয়ারএশিয়া এক্স-এর তাঁবে৷ চার ঘণ্টার বেশি সময়ের উড়ালের জন্য এয়ারবাস এ-৩৩০ বিমানগুলি ব্যবহার করা হয়৷ নয়ত এয়ারএশিয়া-র বিমানবহরের অধিকাংশ বিমান হল এয়ারবাস এ-৩২০ জেটলাইনার, যা-তে ১৮০ জন অবধি যাত্রী ধরে৷ এয়ারএশিয়ার বহরে বর্তমানে ১৫০টি এয়ারবাস এ-৩২০ আছে এবং আরো ২০টি ফরমায়েশ করা হয়েছে৷ এয়ারএশিয়া-র বিমানবহর এ অঞ্চলের তরুণতম বহরগুলির মধ্যে গণ্য: বিমানগুলির গড় বয়স তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে৷

সেফটি রেকর্ড

ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১-এর আগে এয়ারএশিয়া ও তার আঞ্চলিক শাখা কোম্পানিগুলির সেফটি রেকর্ড বা নিরাপত্তার খতিয়ান ছিল ভালোই৷ এয়ারএশিয়ার কোনো বিমান এর আগে দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়নি অথবা যাত্রীদের প্রাণহানি ঘটেনি৷ ২০১৩ সালে এয়ারএশিয়া মোট এক কোটি ১৩ লক্ষ যাত্রী পরিবহণ করে৷

ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১-এর জন্য দুই ইঞ্জিনের এয়ারবাস এ-৩২০-২০০ নিয়োগ করা হয়৷ এয়ারএশিয়া বিমানটি এয়ারবাস সংস্থার কাছ থেকে ডেলিভারি পায় ২০০৮ সালে৷ সে'যাবৎ বিমানটি প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার উড়ালে মোট ২৩ হাজার ঘণ্টা আকাশে ছিল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন