1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

এসএমএস করেই তালাক দেওয়া যাচ্ছে জর্ডানে, শঙ্কিত সমাজ

সম্প্রতি জর্ডানে বেড়ে চলেছে এসএমএস এর মাধ্যমে তালাক দেওয়ার প্রবণতা৷ আর ব্যাপারটা সেখানে ‘ইলেক্ট্রনিক ডির্ভোস’ নামে বেশ পরিচিত৷ গত বছরে এইভাবে প্রায় ৪৫০ টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে৷

default

এসএমএস করে তালাক দেওয়া হচ্ছে হামেশাই

এসএমএস করে তালাক দেওয়া বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ খুলেছেন ‘ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট' এর ফতোয়া বিভাগের প্রধান এবং জর্ডনের প্রাক্তন ধর্ম বিভাগের মন্ত্রী ইব্রাহিম কিলানি৷ কিলানি জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক আইন বিভাগের ডিন বা প্রধান পদে রয়েছেন৷ জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে তিনি জানান, ‘‘তালাকের অবশ্যই কাগজপত্র থাকা উচিৎ যা নিশ্চিত করবে কোন স্বামী কেন তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছেন৷ এবং তিনি যখন তালাক দিচ্ছেন সেই মুহূর্তে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন কিনা৷'' কিলানির দৃঢ় বিশ্বাস, এই ধরণের তালাক সামাজিক সন্ত্রাসের পর্যায়েই পড়ে৷ আর সৃষ্টিকর্তা কোন অবস্থাতেই এই ধরণের অপ-পদ্ধতি মেনে নেবেন না৷

আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে আধুনিক, কল্যাণকর এবং গতিময় করে তোলার জন্য, তবে আধুনিকতার নামে প্রযুক্তির অপব্যবহার হতে থাকলে তা সত্যিই চিন্তারই বিষয়৷ তবে সৌদি আরব সহ কিছু ইসলামি দেশে তালাকের বিষয়ে নারীদের কথা বলার কোন সুযোগ রাখা হয়নি৷ সম্পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র পুরুষকেই৷ ফলে আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন এক তালাক পদ্ধতি ব্যবহার করে চলেছে পুরুষরা৷ যা শুধু একটি মোবাইল ফোন হাতে থাকলেই করা সম্ভব৷

মোবাইলের সাহায্যে ‘ইলেক্ট্রনিক ডির্ভোস' এর কড়া সমালোচনা করেছে জর্ডানের সুশীল সমাজ এবং জর্ডান নারী ইউনিয়ন (জেডাব্লিউইউ)৷ জেডাব্লিউইউ এর চেয়ারপার্সন নাদিরা সামরোখ ডিপিএকে বলেছেন, এই পদ্ধতিতে যেসব তালাকের ঘটনা ঘটেছে তা বাতিল এবং অকার্যকর করতে হবে৷ তিনি বলেন, জর্ডানের আইনে কোন বিয়ে আদালতে রেজিস্ট্রেশন করার সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই উপস্থিত থাকতে হয়৷ আর তাই এই একই আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদও একইভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা৷ অর্থাৎ, এই ইলেক্ট্রনিক ডির্ভোস-এর আসলে কোন আইনগত ভিত্তিই নেই৷

জর্ডানের মহিলা সমাজের প্রতিনিধি নাদিরা সামরোখের মতে, অনেক সময় পারিবারিক বা অন্য কোনরকম চাপের মুখে পড়ে কিংবা রাগের বশে কেউ কেউ তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার মত গুরুতর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন৷ আর তখনই তাঁরা এসএমএস এর মাধ্যমে তাঁদের স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দেন৷ এক্ষেত্রে বোঝাই যাচ্ছে যে, ওই স্বামী ভদ্রলোক পুরো ব্যাপারটা নিয়ে একবার অন্তত ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার সুযোগ থেকে তাঁর স্ত্রীকে যেমন বঞ্চনা করছেন, তেমনই বঞ্চিত করছেন তিনি নিজেকেও৷ এবং হঠকারী এই সিদ্ধান্তে বঞ্চিত হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ পরিবারও৷

এই সমস্ত কারণেই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাঁরা এইসব এসএমএস পাঠিয়ে তালাক দিয়েছেন, সেই সময় সত্যিই কোনরকম মানসিক চাপের সম্মুখীন তাঁরা ছিলেন কিনা৷ তাছাড়া আইনের মাধ্যমেও এই পদ্ধতিতে তালাক দেওয়ার প্রচলন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷

প্রতিবেদক : আসফারা হক

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়