1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

এশিয়ার চোখ শুধু ইউরোপীয় ফুটবলের দিকে

বর্ধিষ্ণু দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলি যার প্রমাণ৷ এশিয়ার ফ্যানরা ওয়েন রুনি বা লিওনেল মেসিকে নিয়ে পাগল; রুনি-মেসির নাম-আঁকা জার্সি কেনেন, ইউরোপীয় ক্লাবগুলির প্রাক-মরশুম শুভেচ্ছা সফরে স্টেডিয়াম ভরিয়ে ফেলেন৷ কিন্তু স্বদেশি?

default

নিজে দেশের খেলার চেয়ে আর্সেনালের ম্যাচ দেখতে ভিয়েতনামের দর্শকরা বেশি সংখ্যায় স্টেডিয়ামে গেছেন

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটি প্রতিবেদনে প্রথমেই দেশি-বিলিতির তুলনা করা হয়েছে৷ সম্প্রতি হ্যানয়ে এশিয়া কাপের কোয়ালিফায়ারে ভিয়েতনাম মুখোমুখি হয় হংকং-এর সঙ্গে৷ ভিয়েতনাম জেতে পর্যন্ত ৩-১ গোলে৷ তা-তে কি হয়েছে? মাঠে দর্শকসংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়ায়নি, গেটকিপাররা প্রায় টিকিট চেক না করে ঐ মুষ্টিমেয় দর্শকদের মাঠে ঢুকতে দিয়েছে৷

গত জুলাই মাসে কিন্তু স্টেডিয়ামের দৃশ্য ছিল অন্যরকম, যে স্টেডিয়ামের ওপর জাতীয় হিরো হো চি মিনের প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছে৷ আর্সেনাল এসেছিল ভিয়েতনাম জাতীয় একাদশকে তুলোধোনা করতে, যাকে বলে কিনা ‘ফ্রেন্ডলি' ম্যাচে৷ সে খেলায় ছেলেবুড়ো, কাচ্চাবাচ্চা সহ গোটা পরিবার, সবাই ভেঙে পড়েছিল আর্সেনালকে দেখতে৷ অনেকের অঙ্গেই ছিল আর্সেনালের জার্সি৷ এশিয়ার ঐ এক ট্যুরেই আর্সেনাল কত কামিয়েছিল, সেটা না হয় না –বলাই রইল৷

Champions League Manchester United - Bayern München

ইন্দোনেশিয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর নামধারী ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়

ফুটবলে বৈষম্য

কিন্তু কেন? এশীয় ফ্যানরা এত স্বদেশবিমুখ কেন? তার কারণ, এশিয়ান ফুটবল হলো ম্যাচ-ফিক্সিং, অযোগ্য প্রশাসন আর দুর্নীতির এক মার্কামারা সংমিশ্রণ৷ পুলিশের পক্ষে এই সব আন্তঃ-দেশীয় অপরাধীচক্রের জটিল যোগসূত্র ভেদ করা প্রায় অসম্ভব৷ ক্লাব ও জাতীয় দলের কর্মকর্তারা প্রায়শই অক্ষম এবং দুর্নীতিপরায়ণ৷ রেফারির ভুলভ্রান্তি, মাঠে যেমন দর্শক তেমনই খেলোয়াড়দের মারমুখিতা – এ সব যদি বা সামলানো গেল, তো রয়েছে লিগের কাঠামোয় বারংবার নানা খামখেয়ালি পরিবর্তন৷ এত প্রতিবন্ধক পার হয়ে এশীয় ফুটবল আন্তর্জাতিকতার মোহনায় পৌঁছাবে কি করে?

তাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দাদের সংখ্যা প্রায় দক্ষিণ অ্যামেরিকার সমান-সমান হলেও, এই ৬২ কোটি মানুষের এলাকা থেকে কোনো দল ১৯৩৮ সাল যাবৎ বিশ্বকাপে যায়নি৷ এশিয়া কাপেও এবার থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া তাদের ছ'টি ম্যাচের সব ক'টিতে হেরেছে, দু'টি দল মিলে গোল করেছে সাকুল্যে ন'টি৷ সিঙ্গাপুর আর ভিয়েতনাম মাত্র একটি করে কোয়ালিফায়ারে জিতেছে৷ এমতাবস্থায় হানয়ের স্টেডিয়াম ভরবে কোন দুঃখে – কিংবা কোন আনন্দে?

Fußball Europa League Finale Chelsea Benfica Lissabon

মিয়ানমারে চেলসির নামে বাজারে একটি হুইস্কি চলে

রোজগারপাতি

অথচ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একটা বর্ধিষ্ণু এলাকা৷ যেমন সাবলীল তার অর্থনীতি তেমনই বর্ধিষ্ণু তার ফুটবল ফ্যানরা, যাঁরা তাঁদের প্রিয় খেলার জন্য দু'হাতে খরচ করতে দ্বিধা করেন না৷ ঠিক সেদিকটার ওপরেই নজর পড়েছে ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর৷ আর্সেনাল ছাড়া প্রিমিয়ার লিগের আরো ছ'টি ক্লাব এ বছর প্রাক-মরশুমে এশিয়া সফর করেছে৷ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর জার্সি স্পন্সর করে যে সব কোম্পানি, তাদের এক-তৃতীয়াংশ বস্তুত এশীয়৷ বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ছে: ইন্দোনেশিয়ায় যেমন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর নামধারী ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায় তেমন মিয়ানমারে চেলসির নামে বাজারে একটি হুইস্কি চলে৷

দল গড়ার আগে শরীর গড়া

তবে ইউরোপীয় ক্লাবগুলির একটা ভালো প্রভাবও রয়েছে৷ তারা এই এলাকায় বিভিন্ন ফুটবল অ্যাকাডেমিতে বিনিয়োগ করেছে৷ মুশকিল এই যে, তা-তে এশীয় ফুটবলে ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট বা যুব বিকাশের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না: স্কুলে যেমন ফিজিকাল এডুকেশন বা শরীরচর্চার ক্লাস নেই, তেমনই অধিকাংশ স্কুলের কোনো ফুটবল দলই নেই৷

আর একটি নতুন সমস্যা হলো এই যে, ক্লাবের মালিকরা আফ্রিকা কিংবা ল্যাটিন অ্যামেরিকা থেকে প্লেয়ার আমদানি করে সেই ফাঁকটা ভরাতে চাইছেন৷ এই ভাড়াটে প্লেয়াররা শরীর-স্বাস্থ্যে এশীয়দের চেয়ে ভারী এবং বড়, কাজেই তারা স্থানীয় প্লেয়ারদের ওপরে ওঠার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ অথচ ফুটবলের ভিত্তিই হলো স্কুলে – মালয়েশীয় দলের সাবেক কোচ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পিটার ভেলাপ্পন সেটা ভালো করেই জানেন৷ তিনি বলেন:

‘‘হালে একাধিক এশীয় দেশ বাড়ি তৈরি করতে চাইছে, তবে ছাদ থেকে কাজ শুরু করে – অর্থাৎ বিদেশ থেকে প্লেয়ার আমদানি করে৷ সে বাড়ি যে ধসে পড়বে, তা-তে আশ্চর্য কি?''

এসি/ডিজি (এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন