এর্দোয়ানের পরামর্শে বিভক্ত জার্মানির তুর্কি সম্প্রদায় | জার্মান নির্বাচন ২০১৭ | DW | 23.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি-তুরস্ক

এর্দোয়ানের পরামর্শে বিভক্ত জার্মানির তুর্কি সম্প্রদায়

জার্মান নির্বাচনে ‘তুরস্কের শত্রুদের’ ভোট না দিতে জার্মানিতে বসবাসরত তুর্কি সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ান৷ তাঁর এই আহ্বানে বিভ্রান্ত তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান ভোটাররা৷

কোলনের কয়েপস্ট্রাসেকে বিবেচনা করা হয় ম্যুলহাইম জেলায় বসবাসরত তুর্কি সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে৷ সোমবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা গেলো দৈনন্দিন ব্যবসাবাণিজ্যের নানা চিত্র৷ দোকানে দোকানে পণ্য সরবরাহ করছে ট্রাক, দোকানগুলো তাদের দরজা খুলছে, খদ্দের এবং কর্মীরা চুলের দোকানের সামনে বসে কফি খাচ্ছেন৷ একে অপরের সঙ্গে অল্প মশগুল মানুষগুলোর কাছে এর্দোয়ান সম্পর্কে জানতে চাইলে সাড়া পাওয়া গেলে বেশ কম৷

শুরুর দিকে কিছুটা অনীহা থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তফা বিহান এক পর্যায়ে জার্মান নির্বাচন নিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্টের মন্তব্য নিয়ে নিজের মতামত জানালেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা তাঁর জন্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক৷ আমি যদি সিডিইউ, এসপিডি বা সবুজ দলকে ভোট না দেই, তাহলে কাকে ভোট দেবো? মুক্ত গণতন্ত্রীদের? নাকি এএফডিকে?'' 

কোলনের ম্যুলহাইমে বসবাসরত অধিবাসীদের চল্লিশ শতাংশই জার্মান বংশোদ্ভূত নন, এবং তাঁদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ তুর্কি বংশোদ্ভূত৷ জার্মানি এবং তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে মন্দা দেখা দেয়ায়, তাদের অনেকের মধ্যে আনুগত্যের বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে৷ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো অবনতির দিকে যায় যখন প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান তুর্কি সম্প্রদায়কে সিডিইউ, সিএসইউ বা সবুজ দলকে ‘তুরস্কের শত্রু' আখ্যা দিয়ে তাদের ভোট দিতে নিষেধ করেন৷ বরং এমন দলকে ভোট দিতে বলেন যেটির কোন ‘তুরস্ক বিরোধী' নীতি নেই৷

এই বক্তব্যে অবশ্য সন্তুষ্ট হননি বিহান৷ তিনি বলেন, ‘‘এর্দোয়ান হয়ত সত্য বলছেন, কিন্তু এটা তিনি আরো কূটনৈতিক উপায়ে বলতে পারতেন৷'' তুরস্ক এবং জার্মানির মধ্যকার বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মতবিভেদ দূরে ঠেলে সামনে আগানোর পথ বেছে নিতে হবে৷''

ম্যুলহাইমের আরেক বাসিন্দা, সেদাত ইলডিরিম, সোজাসাপ্টাই তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনে তাঁর অনধিকার চর্চা করা উচিত নয়৷ তিনি স্বাভাবিক নন৷''

তবে ম্যুলহাইমের সবাই যে তুর্কি প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে একই ধরনের মতামত প্রকাশ করেছেন তা নয়৷ নিজে কুর্দি হলেও হাকান বি. জানিয়েছেন, তিনি তাঁর প্রসিডেন্টের কথাই শুনবেন৷ তিনি বলেন, ‘‘একজন তুর্কি বংশোদ্ভূত কুর্দি হিসেবে আমি আমার প্রেসিডেন্টের কথাই শুনবো৷ আমি খুঁজে দেখবো কোন দল তুরস্ককে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে এবং ন্যাটোকে জোটসঙ্গী মনে করে৷ আমি সেই দলকেই ভোট দেবো৷''

প্রতিবেদন: ক্রিস্টফ রিকিং/এআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন