1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

এমন এক ছবি কি দেখানো উচিত?

তুরস্কের উপকূলে এক শিশুর মৃতদেহের মর্মান্তিক ছবি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে৷ ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফ ছবিটি দেখানোর সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে একটি সংবাদভাষ্য লিখেছেন৷

সমুদ্রসৈকতে একটি শিশুর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ এক বীভৎস দৃশ্য, যা গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া থেকে পলায়নের অসহায় ও মারাত্মক চিত্র তুলে ধরে৷ দিনের পর দিন সিরিয়ায় যা ঘটে চলেছে, এটা তারই একটি মুহূর্তের প্রতিফলন৷ এই ছবির মধ্যে সেই গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটে ওঠে৷ এই ছবি দেখলে আবেগ ধরে রাখা যায় না৷ এই ছবি দেখলে মনের মধ্যে কষ্ট ও সহানুভূতি আমাদের নীরব করে দেয়৷ এই ছবি আমাদের অসহায়তা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে৷ এই ছবি আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করে, আমাদের হতবাক করে দেয়৷ এই ছবি দেখলে আমাদের সবার মনে হয় – শুধু এ বছর নয়, গোটা দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবি এটি৷ গত কয়েক মাস ধরে যা কিছু আমাদের নাড়া দিচ্ছে, স্পর্শ করছে, ক্রোধ ও বিরক্তি জাগিয়ে তুলছে, এই ছবি সেই সব আবেগের অভিব্যক্তি৷

Alexander Kudascheff DW Chefredakteur Kommentar Bild

আলেক্সান্ডার কুডাশেফ, প্রধান সম্পাদক, ডয়চে ভেলে

এটি সত্যি একটি বীভৎস ছবি৷ এমন এক ছবি কি দেখানো উচিত? আমরা, মানে ডয়চে ভেলের কি এই ছবি দেখানো উচিত? ছবিটি না দেখানোর অনেক যুক্তিগ্রাহ্য ও নৈতিক কারণ রয়েছে৷ এখানে মৃত শিশুটির মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে৷ সংবাদ মাধ্যম হিসেবে এ ক্ষেত্রে সংযম দেখানোর যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ আমরা ছবিটি দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ খবরটিকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা, ওয়েবসাইটের ক্লিক বাড়ানোর জন্য বা টেলিভিশন অনুষ্ঠানের দর্শক টানতে নয়৷ আমরা ছবিটি দেখাচ্ছি, কারণ সেটি আমাদের মন স্পর্শ করেছে৷ আমরা ছবিটি দেখাচ্ছি, কারণ নিষ্পাপ এই শিশুর ছবি গোটা শরণার্থী ট্র্যাজেডিকে একটা প্রতীক দিচ্ছে৷ এই শিশুটির ভবিষ্যতের স্বার্থেই তার বাবা-মা জীবন বিপন্ন করে যাত্রা শুরু করেছিলেন৷ সেই যাত্রা সমুদ্রেই শেষ হয়ে গেছে৷ আমরা ছবিটি দেখাচ্ছি, কারণ সেটি আমাদের সবাইকে ঝাঁকিয়ে দিয়েছে৷ সম্পাদনা বিভাগের মিটিং-এর সময় চিন্তায় ডুবে গিয়ে নীরব হয়ে পড়েছিলাম৷ কষ্ট ও মৃত্যু আমাদের মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে৷ আমরা ছবিটি দেখাচ্ছি, কারণ আমরাও সেই বেদনা অনুভব করছি৷ সাংবাদিকতায় ব্যস্ত দৈনন্দিন কাজের মাঝেও ছবিটি আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়