1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

এমনিতে সব মানুষই কি ‘খারাপ'?

কয়েকদিন পরপরই হত্যা, নিষ্ঠুরতার খবর৷ এত যারা নিষ্ঠুরতা ছড়ায় তাদের তো সবাই খারাপই বলে৷ যারা মানুষ মেরে আনন্দ পায় তাদের অসুস্থ বলায় এক ধরণের যুক্তিও আছে৷ তবে সবার ভেতরেই কি একটা খারাপ মানুষ বাস করে?

দু'দিনের মধ্যে দু'টি বড় হামলা চালালো তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট' বা আইএস৷ প্রথমটিতে বৈরুতে হত্যা করা হলো ৪৪ জনকে, দ্বিতীয়টিতে মারা গেছে ১২৯ জন৷ জঙ্গিবাদ বিরোধী, মানবতাবাদী সব মানুষই এসব হামলার নিন্দা করেছেন৷ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে ঘৃণাও জানিয়েছেন অনেকে৷ এমন হামলার রাজনৈতিক কারণ নিশ্চয়ই আছে৷ কিন্তু মানুষ হত্যা করে ক্ষমতা দেখানো কেমন রাজনীতি? নিরস্ত্র নিরীহদের হত্যায় কিসের বাহাদুরি? তাতে আবার কিসের আনন্দ? মানুষ কখন, কেন এমন কাজেও আনন্দ পায়? সেই আনন্দ কেমন মানসিকতা প্রকাশ করে?

এ সব প্রশ্নের অনেক রকম উত্তর হতে পারে৷ নানা জনের ব্যখ্যা নানা রকমের হবে এটাই স্বাভাবিক৷ ডয়চে ভেলে তাই এর রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যখ্যা জানতে না চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক ব্যখ্যা জানার চেষ্টা করেছে৷ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছিল সাইকোথেরাপিস্ট ইওয়াখিম বাউয়ারের কাছে৷ তিনি জানালেন, গাড়ি বোমা, বন্দুকের গুলি, আত্মঘাতী বোমা বা শিরশ্ছেদ করে যারা মানুষ মারে তারা স্বভাবে একেবারে ভিন গ্রহের মানুষ নয়৷ প্রতিটি সমাজেই এ ধরণের মানুষ আছে৷

বলতে গেলে সব মানুষের মধ্যেই থাকে আক্রমণাত্মক এক চেতনা যা সাধারণত সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তবে বিশেষ সময়ে বা পরিস্থিতে তা প্রকাশ পায়৷ সিগমুন্ড ফ্রয়েডের দর্শনেও এ বিষয়টির উল্লেখ আছে বলে জানিয়েছেন ইওয়াখিম বাউয়ার৷

‘পেইন ব্যারিয়ার – অন দ্য অরিজিন অফ ডেইলি অ্যান্ড গ্লোবাল ভায়োলেন্স' নামের একটি গ্রন্থের রচয়িতা ইওয়াখিম বাউয়ার আরো জানালেন, মস্তিষ্কের কোনো অংশ সহিংসতায় প্রণোদনার আশা জাগায় কিনা, বিজ্ঞানীরা তা-ও গবেষণা করে দেখেছেন৷ দেখা গেছে, গড়পড়তা মানুষের ক্ষেত্রে তা হয় না৷ তবে বিশেষ কারণে কারো কারো মস্তিষ্কে এমন হয় বলেও দেখা গেছে৷

কেন সহিংসতাতেও আনন্দ পেতে চায় মানুষ? ব্যখ্যাগুলো খুব সাধারণ৷ কখনো কখনো মানুষ বাহবা পাওয়ার আশায়ও এমন করে৷ বিশেষত এমনটি তারাই বেশি করে যাদের জীবনে বিশেষ কোনো দুঃখ, হতাশা, বঞ্চনার কষ্ট বা ব্যর্থতা আছে৷ এ সব যে নতুন কোনো আবিষ্কার নয়, তা ইওয়াখিম বাউয়ারও জানেন৷ যে কোনো অপরাধীরই অপরাধে জড়নোর কারণ সন্ধান করে এমন কোনো-না-কোনো বিষয় তুলে এনে লেখালেখি হয় প্রচুর৷

ইউরোপ থেকে যারা সিরিয়ায় গিয়ে যু্দ্ধে অংশ নিচ্ছেন তাদের বিষয়েও এমন কোনো না কোনো কারণের কথা বলা হয়ে থাকে৷ বাবা-মায়ের অনাদরে বড় হওয়া, লেখাপড়ায় ভালো না করা, সমাজে সংখ্যালঘু হওয়ায় অধিকার বঞ্চিত হওয়া – এমন বিষয়ও উঠে আসে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে৷ ইওয়াখিম বাউয়ার জানান, যে কোনো কারণে নিজের পরিবেশেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন বা অবমাননার শিকার মনে হলেও মানুষ সহিংসতার পথ ধরতে পারে৷

প্রিয় পাঠক, সহিংসতার মধ্যেও কি মানুষ আনন্দ পেতে চায়? নীচের মন্তব্যের ঘরে জানিয়ে দিন আপনার মতামত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়