1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

এভাবেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশ

ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়ায় কেনাকাটা করতে গিয়ে নারীরা প্রায়ই দোকানীদের লাঞ্ছনার শিকার হন৷ অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পান না৷ কিন্তু চাইলেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়৷ 

Symbolbild Protest gegen Vergewaltigungen in Indien (picture-alliance/AP Photo/Saurabh Das)

প্রতীকী ছবি

এ ধরনের লাঞ্ছনা বা হয়রানির শিকার হলে কী কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা-ই জানিয়েছেন সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ইমরান৷

তাঁর ফেসবুক পাতায় এক তরুনীর লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেছেন তিনি৷ ইমরান লিখেছেন, ‘‘মাকে নিয়ে গাউছিয়াতে শপিং করতে গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী৷ একটি দোকানে জিনিস দেখার পর পছন্দ না হওয়ায় মেয়েটি অন্য দোকানে যেতে চাইলে ঐ দোকানী বাজে ভাষায় তাদের লাঞ্ছিত করে৷ এমন ব্যবহারে স্কুল শিক্ষিকা মা এবং মেয়েটি হতভম্ব হয়ে যায়৷ দোকানীর দুর্ব্যবহার এবার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, মারতে উদ্যত হয়৷ লোকটার পক্ষ নেয় অন্য দোকানীরা৷ মা-মেয়েকে শুনতে হয়, ‘মাইয়া মানুষ হইয়া ঝগড়া করেন ক্যান? চুপচাপ মাথা নিচু কইরা কাইটা পড়েন!''

ভুক্তভোগী তরুনী এর প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন৷ কিন্তু কীভাবে, কার কাছে যাবেন বুঝতে পারছিলেন না৷ তারপর ফেসবুকের জনপ্রিয় গ্রুপ ‘জাস্টিস ফর উইমেন'- এ একটা পোস্ট দিয়ে জানতে চাইলেন, ‘‘নিউমার্কেট এলাকায় কেউ যদি দুর্ব্যবহার করে, তাহলে কোথায়-কিভাবে অভিযোগ করতে হবে?''

পোস্টটি আব্দুল্লাহ আল ইমরানের চোখে পড়ে৷ তাঁর মনে পড়ে যায় নিউ মার্কেট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজমুন নাহারের কথা৷ যিনি এর আগে হাতিরপুলে সিএনজি অটোরিক্সায় একটি হয়রানির ঘটনার নাগরিক প্রতিবাদের সময় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন৷ তখনই ইমরানকে তাঁর মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলেছিলেন, প্রয়োজনে অন্য কাউকেও নাম্বারটি দিয়ে তিনি সাহায্য করতে পারেন৷ পুলিশ কর্মকর্তা নাজমুন ইমরানকে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে এই এলাকায় কোনো অনিয়ম চোখে পড়লেই যেন তাকে জানান৷ 

গাউসিয়ায় এক তরুনীর লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনাটিও ইমরান ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে জানান৷ পরে ওই তরুনী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন৷ পাশাপাশি ইমরান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ডিএমপির এক অতিরিক্ত কমিশনারকেও ঘটনাটি জানিয়ে রাখেন৷

তরুনীর সেই অভিযোগের জেরে ঐ দোকানীকে আটক করে পুলিশ৷  অপরাধীকে সোজা চালান করে দেয়া হয় আদালতে৷ 

নিজের ফেসবুক পাতায় পুরো ঘটনাটিই লিখেছেন ইমরান৷ পাশাপাশি জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ কোনো অন্যায়ের শিকার হলে ‘নাজমুন নাহার, সহকারী কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, নিউ মার্কেট সার্কেল, ঢাকা' বরাবরে কীভাবে অভিযোগ পত্র লিখতে হবে৷

সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘‘নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিনিয়ত অনিয়ম-দুর্ভোগের শিকার নারীদের মধ্যে যারা অন্যায়ের সত্যি সত্যিই প্রতিবাদ করতে চান, তারা আমাদের দেখিয়ে দেয়া এই আইনি পথটি অনুসরণ করতে পারেন৷ মনে রাখবেন, আপনার প্রতিবাদটি অন্য কেউ এসে করে দিয়ে যাবে না৷ শুরুটা অন্তত আপনাকেই করতে হবে৷ এই দেশে কিছু হয় না বলে যারা পাশ কাটিয়ে যান, যারা প্রতিবাদের বদলে প্রতিনিয়ত অন্যায়কে মেনে নেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, নিজের জায়গা থেকে একটুখানি আওয়াজ তুলুন৷ জনারণ্যে শুরুতে সেই আওয়াজ বড় ক্ষীণ আর বেমানান ঠেকলেও ধীরে ধীরে দেখবেন আরো শহস্র আওয়াজ আপনার দিকে ছুটে আসছে৷ গণমানুষের সম্মিলিত সেই আওয়াজের সামনে দাঁড়ায়, এমন অপশক্তি কোথায়?''

দোকানীকে আটকের ভিডিওটি ধারণ করে রবিবার  সন্ধ্যায় ফেসবুক পাতায় পোস্ট করেন সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ইমরান৷ এ পর্যন্ত ভিডিওটি ৩ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে৷ ৯ হাজার বার শেয়ার হয়েছে৷ আর কমেন্ট পড়েছে অন্তত ১৬ হাজার৷

এ.এস সফিক ভিডিওটি শেয়ার করে ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘ আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের যা অবস্থা, তাতে এমন সাহসী উদ্যোগ এবং প্রতিবাদে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে নারী অধিকার ও স্বাধীনতা! ওয়েল ডান ইমরান ভাই৷''

লেখাটি পোস্ট করার পর অনেক নারী চাকুরিক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হলে কী করতে হবে জানতে চেয়েছেন৷ ইমরান তাদের পরামর্শও দিয়েছেন৷ অনেকেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন৷ব্লগার আরিফ জেবতিক লিখেছেন, ‘‘ইমরান তোমার জন্য গর্ব হচ্ছে৷''

অনেক মেয়েই সেখানে শেয়ার করেছেন নিজেদের নিগৃহীত হওয়ার নানা ঘটনা৷ 

আকরামুল হক ফেসবুকে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার নাজমুন নাহারের দারুন সহযোগিতার কথা৷ লিখেছেন, ‘‘এভাবেই বদলাবে আমাদের দেশ৷''

মন্টি মনি লিখেছেন, ‘‘স্যালুট ভাইয়া, আমরা মেয়েরা প্রায়ই এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হই, তারা সংখ্যায় বেশি থাকায় প্রতিবাদের ইচ্ছেটা ভেতরে ভেতরে খুব পোড়ায়৷ নিজের সম্মান নিয়ে কোনো অপরাধ না করেও মাথা নিচু করে দাঁতে দাঁত কামড়ে চলে আসা ছাড়া কোনো কিছুই করার থাকে না৷ আপনার এই পোস্ট দেখে অনেক শান্তি পেলাম৷''

আরিফ খান লিখেছেন, ‘‘এই মেয়েটির মতন আপনিও সচেতন হন৷ আপনার নিজের অধিকার নিজেই আদায় করতে শিখুন৷''

জয় ব্রায়ান লিখেছেন, ‘‘একদিন দেশটা এভাবেই পুরো বদলে যাবে৷ একা একা বদলে যাবে না৷ বদলাতে হবে আমাদেরই৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়