1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

এভাবেই চালিয়ে যান, পোপ ফ্রান্সিস!

নিজের জন্মভূমি ল্যাটিন অ্যামেরিকা সফরে গিয়ে পোপ ফ্রান্সিস মুখে কোনো রাশ টানছেন না৷ সেখানকার শাসক শ্রেণির বিবেক জাগিয়ে তোলার চেষ্টাও করছেন তিনি৷ এটিকে ইতিবাচক প্রবণতা বলেই মনে করেন আসট্রিড প্রাঙে৷

হওয়ার কথা ছিল ধর্মীয় সফর৷ কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস তেমনটা হতে দিলেন না৷ আসলে ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে তিনি কোনো বিভাজন হতে দেন না, সেটা চানও না৷ এটাই ল্যাটিন অ্যামেরিকার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে৷ কারণ সেই অঞ্চলের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক শিকড় ছাড়া ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে দৈনন্দিন বেঁচে তাকার সংগ্রামের মেলবন্ধন ঘটানো কঠিন৷ অবশেষে এই পোপ তাঁর প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতাসীন শ্রেণির বিবেক জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন৷ ইকুয়েডর, বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে – পোপ যে তিনটি দেশ সফর করছেন, সেখানে এর অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল৷

কূটনৈতিক, অথচ স্পষ্ট ভাষা

পোপ ফ্রান্সিস তাঁরা বার্তা জোরদার করতে অতীতের ক্ষত জাগিয়ে তুলছেন৷ গত শতাব্দীর সত্তর ও আশির দশকে সামরিক শাসনের যুগে পুরো ল্যাটিন অ্যামেরিকা একটা গণ কারাগারে পরিণত হয়েছিল৷ পোপ সেই কালো অধ্যায়ের উল্লেখ করেছেন৷

ইকুয়েডরের রাজধানী কিটো-তে সমাজ ও রাজনীতি জগতের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় পোপ বলেন, ‘‘আমাদের এমন আইন প্রয়োজন, যা সংলাপের ‘স্পিরিট' ও বিভিন্ন অবস্থানের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়ে প্রণয়ন করা হয়৷

Bolivien Santa Cruz Papst Franziskus Messe

সান্তাক্রুজে পোপ ফ্রান্সিস

নিপীড়ন ও মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে, মুক্তির অধিকার খর্ব করে এককালে আমাদের অঞ্চল ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল৷ এই মর্মান্তিক স্মৃতি জাগিয়ে রাখতে হবে৷''

পোপ এমনভাবেই বার বার সবাইকে বিস্মিত করেন৷ আসলে তিনি ধর্মের মহিমা ও পরিবারের উপর হুমকি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু তারপর তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘মূল্যবান স্বাধীনতা' নিয়ে ভাষণ দিলেন৷ ইকোয়েডরের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেটা সরকারের জন্য স্পষ্ট ভর্ৎসনা বৈকি৷

ইকোয়েডরের বিরোধী পক্ষের জন্য এই সব কথা ছিল মলমের মতো আরামদায়ক৷ কয়েক সপ্তাহ ধরে হাজার হাজার মানুষ কিটো-র রাজপথে নেমে প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন৷ ২০১৩ সালে সংবাদ মাধ্যমের অধিকার খর্ব করে যে আইন পাশ করা হয়েছিল, তাঁরা তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন৷

Deutsche Welle Astrid Prange De Oliveira

আস্ট্রিড প্রাঙে, ডয়চে ভেলে

ভয় ও আত্মসংযম

বলিভিয়ায়ও সংবাদ মাধ্যমের গলা টিপে ধরার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বেড়ে চলেছে৷ পোপের সফরের আগেই স্থানীয় মিডিয়া সংগঠন আর্চবিশপের কাছে একটি চিঠি পেশ করেছিল৷ তাতে তাঁরা পোপ ফ্রান্সিস-এর উদ্দেশ্যে তাঁর সফরের সময় সংবাদ মাধ্যমের উপর বেড়ে চলা নিয়ন্ত্রণ, তথা ভীতি ও আত্মসংযমের পরিবেশের বিরুদ্ধে মুখ খোলার আবেদন জানিয়েছেন৷

পোপ ফ্রান্সিস নিজেও ক্যাথলিক জগতে ভীতি ও আত্মসংযমের পরিবেশের কথা বিলক্ষণ জানেন৷ ল্যাটিন অ্যামেরিকায় ক্যাথলিক সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ভ্যাটিকানকে অতীতের আদর্শে ফিরে যাবার ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ পোপ এল সালভাদোরের প্রাক্তন আর্চবিশপ অস্কার রোমেরো-র অনুরাগী হিসেবে পরিচিত, যিনি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছিলেন৷

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট কোরেরা-ও রোমেরো-র ভক্ত৷ ৩৫ বছর আগে হত্যার পর চলতি বছরের মার্চ মাসে রোমেরো-কে ‘বিয়াটিফাই' করা হয়৷ ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক হিসেবে কোরেয়া-র কাছে ‘তাঁর নিজের' পোপের কাছ থেকে সংলাপ ও সহিষ্ণুতার বিষয়ে এমন পাঠ অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়