1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

এবোলা প্রতিরোধে যা যা করণীয়

এবোলা ভাইরাস নিয়ে প্রতিটি মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক৷ এ রোগ থেকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই – এ কথা সম্পূর্ণ সত্য না হলেও, এর জন্য প্রয়োজন সতর্কতা৷ জানা যাক বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে৷

Symbolbild - Ebola in Liberia

প্রতীকী ছবি

প্রতিদিন বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিমানের মাধ্যমে চলাফেরা করছে মানুষ৷ যে কোনো জীবানু অসুস্থ রোগীর মধ্যে থেকে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে বিমান আরোহীদের মধ্যে৷ আর সেখান থেকে হাজারো মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে সেই জীবাণু৷ বৃহস্পতিবার এ কারণেই হয়ত যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকার পশ্চামাঞ্চলের দেশ গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে প্রয়োজন না হলে যেতে নিষেধ করেছে৷

এত নিরাপত্তা বা প্রতিরোধের কারণ হলো এই ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন বা উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো আবিষ্কার হয়নি৷ এখন ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৬০ ভাগ৷ আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, শরীর থেকে বের হওয়া অন্য কোনো ধরনের রস থেকে অন্য ব্যক্তি খুব সহজেই সংক্রমিত হতে পারে৷ তবে ‘এয়ার বোর্ন' বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে এই সংক্রমণের ঘটনা এখনো জানা যায়নি৷

ডেল্টা এয়ারলাইন্স ডাকার, সেনেগাল, আক্রা, ঘানা, লাগোস ও নাইজেরিয়ায় চলাচল করে৷ ব্যবসায়িক কারণ দেখিয়ে এরই মধ্যে এয়ারলাইন্সটি ঘোষণা করেছে তারা সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আফ্রিকার এ সব দেশে চলাচল করবে না৷

ইউরোপ

ইউরোপিয়ান বিমানগুলো পশ্চিম আফ্রিকায় চলাচল অব্যাহত রেখেছে৷ এয়ার ফ্রান্স, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং জার্মান বিমান সংস্থা লুফৎহানসা যথাক্রমে প্যারিস, আমস্টারডাম, লন্ডন ও ফ্রাংকফুর্ট থেকে পশ্চিম আফ্রিকায় চলাচল করছে৷ তবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ গত মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, জনস্বাস্থ্য সচেতনতার কথা মাথায় রেখে লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওন থেকে চলাচলকারী সব ফ্লাইট ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে৷

এদিকে লুফৎহানসা একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিমানে থাকাকালীন এবোলা সংক্রমিত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই৷ অন্যদিকে ব্রাসেলসে বিমান ক্রুরা যাত্রীদের দেহের তাপ মাপার জন্য বিশেষ ‘থার্মো স্ক্যান' ব্যবহার করছে৷

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বর্ডার পেট্রোল এজেন্টরা লক্ষ্য রাখছেন, বাইরে থেকে আসা কোনো যাত্রীর দেহে এবোলা ভাইরাস সংক্রমণের কোনো লক্ষণ রয়েছে কিনা৷ এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে তাঁদের পুরোপুরি আলাদা করে ফেলার সব ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে বিমানবন্দরে৷

২০০৩ সালে যখন ‘সার্স' ছড়িয়ে পড়েছিল, বিমানবন্দরগুলোতে এ ধরনের সতর্কব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল৷ সার্সের সংক্রমণে নিহত হয়েছিল ৭৭৪ জন৷

Afrika Ebola Ausbruch in Liberia

এখন পর্যন্ত এবোলা প্রতিরোধী ওষুধ বা টিকা বাজারে আসেনি

জার্মানিতে বিশেষ ব্যবস্থা

জার্মানির সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর ফ্রাংকফুর্ট৷ নানা দেশ থেকে প্রতিদিন লাখো মানুষ আসছেন এখানে৷ তাই বিমানে এবোলা সংক্রমিত রোগী থাকলে তাঁর আসনে লাল স্টিকার দেয়া থাকবে এবং তাঁকে স্বতন্ত্র করে রাখা হবে৷ তাঁর কাছাকাছি অবস্থানকারী যাত্রীদের আসনে হলুদ স্টিকার দেয়া থাকবে৷ বিমানটি অবতরণ করা মাত্রই রোগীকে সরাসরি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে৷

এদিকে, সিয়েরা লিওনের এক অধিবাসী এবোলা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হয়েছিল৷ হামবুর্গের ইউনি-ব্লিনিকুম এপেনডোর্ফে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি৷ রবিবার হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে ঐ রোগী এবোলা আক্রান্ত নয়৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে এবারে এবোলার সংক্রমণে এখন পরযন্ত ৯৬১ জন প্রাণ হারিয়েছে৷ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭৭৯ জন৷

সংক্রমণ

সাধারণত এবোলা ভাইরাস বাতাসে নয়, দেহের তরল পদার্থ রক্ত, বীর্জ, লালা ইত্যাদির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়৷ সরাসরি শারীরিক সংযোগের মাধ্যমে ঘটে থাকে সংক্রমণ৷ যেমন ভাইরাসে আক্রান্ত কারো সেবা করলে৷ এ কারণে হাসপাতালগুলিতে এর বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যায়৷ এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ স্পর্শ করলেও সংক্রমণ হতে পারে৷ ভাইরাসরা বাহকের প্রতিটি সেলেই বিস্তৃত হতে পারে৷ রক্ত ও দেহ নিসৃত রসের মাধ্যমে এবোলা সংক্রমণের সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ৷

উপসর্গ

সাধারণত শরীরের তরল পদার্থ যেমন রক্ত, বীর্জ, লালা ইত্যাদির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হয় এবোলা ভাইরাস৷ ক্ষুদ্র কোনো ক্ষত দিয়েই শরীরে ঢুকে পড়তে পারে এই ভাইরাস৷ আক্রান্ত হওয়ার চার থেকে ১৬ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণগুলি দেখা যায়৷ আক্রান্তরা জ্বর, শরীর কাঁপুনি, মাথাব্যথা, পেশিব্যথা, অরুচি এসব উপসর্গের কথা বলেন৷ দুই থেকে ২১ দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি দুর্বল হতে থাকে৷ অভ্যন্তরীণ রক্তপাত হয়৷ বিশেষ করে পেট ও অন্ত্রের নালী এবং প্লীহা ও ফুসফুস আক্রান্ত হয়, যা ভুক্তভোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়৷

12.08.2014 DW Deutschland Heute Ebola

ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৬০ ভাগ

কোনো ওষুধ নেই

এখন পর্যন্ত এবোলা প্রতিরোধী ওষুধ বা টিকা বাজারে আসেনি৷ রোগীকে উপসর্গগুলি কমানোর ওষুধ দেয়া হয়৷ বিগত বছরগুলিতে এই ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বের করার জন্য বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে৷ কিন্তু মানবদেহে প্রয়োগ করার অনুমোদন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি৷

এপিবি/ডিজি (এপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন