1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ

গ্যাসের দামবৃদ্ধির পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়াতে যাচ্ছে সরকার৷ পিডিবি বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে৷ বিদ্যুৎ বিতরণকারী অন্য সংস্থা বা কোম্পানিগুলোও মূল্যহার বাড়ানোর প্রস্তাব প্রায় চূড়ান্ত করেছে৷

দুই সপ্তাহের মধ্যে সবগুলো কোম্পানির দামবৃদ্ধির প্রস্তাব এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা পড়বে৷ তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকার যে বিদ্যুতের দাম বাড়াবে তা আগেই বোঝা গিয়েছিল৷ এখন সেটা বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে৷ যারা গ্যাস ব্যবহার করেন না তারাও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন৷ সরকার আসলে জনগণের উপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে৷''

অডিও শুনুন 01:37

‘সরকার যে বিদ্যুতের দাম বাড়াবে তা আগেই বোঝা গিয়েছিল’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিইআরসি এবং পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট) বিদ্যুতের গড়ে খুচরা মূল্য ৬ টাকা ৭৩ পয়সা৷ গত বৃহস্পতিবার ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি৷ ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধিসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম অন্তত ৭ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করতে চায় সংস্থাটি৷ অর্থাৎ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে৷ আগামী ১ এপ্রিল থেকেই নতুন পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার কার্যকর করার অনুরোধ করা হয়৷

এর আগে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া বর্তমান মূল্যহার সমন্বয়ের সময় পিডিবি ২২ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করলেও বিইআরসি গড়ে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করেছিল৷ বিদ্যুৎ বিতরণকারী ছয়টি সংস্থা ও অন্য কোম্পানিগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নতুন প্রস্তাবে তারা বিদ্যুতের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন৷ আর বিইআরসি'র সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের দাম বাড়লেও তেলের দাম কমায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ছে না৷

তবে এ খাতের উন্নয়নে ও সরকারের নির্দেশনার কারণে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বা ৩৩-৩৫ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে৷ আগামী আগস্ট মাস থেকে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷

বিইআরসির সদস্য সচিব ফয়জুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসলেই তো আর বাড়বে না৷ এরজন্য প্রক্রিয়া আছে৷ কারিগরি কমিটি মূল্যায়ন করবে এবং গণশুনানির আয়োজন করা হবে৷ এছাড়াও আরো কিছু পদক্ষেপ আছে৷ সার্বিকভাবে মূল্য সমন্বয় হতে আরো বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে৷''

অডিও শুনুন 00:58

‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসলেই তো আর বাড়বে না’

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সময় বিইআরসির এক মূল্যায়নেই বলা হয়েছে তেলের দাম কমায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় কমেছে ৩৪ পয়সা৷ আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে দুই ধাপে গ্যাসের মূল্য বাড়বে ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ৷ এর ফলে প্রতি ইউনিটে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে ৩৪ পয়সা৷ অর্থাৎ সার্বিকভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ে পড়বে না৷ গ্যাসের দাম বাড়ায় যে খরচ বাড়বে, তেলের দাম কমায় তা মিটে যাবে৷ আর তেলের দাম আরো কমানোর সুযোগ সরকারের হাতে রয়েছে৷

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতারা বলে আসছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো অন্যায্য হয়েছে৷ এখন বিদ্যুতের যে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাও অযৌক্তিক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়