1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

এবার পেটানো হলো শিক্ষিকাকে, গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা

নারায়ণগঞ্জে শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে ওঠ-বস করানোর পর ধামরাইয়ে লাঞ্চিত হলেন এক প্রধান শিক্ষিকা৷ শিক্ষিকাকে মারধর করায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তবে দু'জন শিক্ষকেরই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে৷

Symbolbild Ehrenmorde Gewalt gegen Frauen

প্রতীকী ছবি

পুলিশ ইতিমধ্যে ঐ আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করলেও, দলের লোকজন শিক্ষিকাকে নাকি অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে৷ নারায়ণগঞ্জেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা শ্যামল কান্তি ভক্তকে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে৷ ফলে আক্রান্ত হওয়া শিক্ষকরা নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তো আর চুপ করে থাকা যাবে না৷ আমাদের প্রতিবাদ করতেই হবে৷ তাদের বিচার চাইতে হবে৷ তবে বিচার হলেও পরবর্তীতে তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আবারও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে৷ আমাদের সমাজে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা প্রভাবশালীদের মধ্যে শিক্ষকদের সম্মান করার প্রবণতা একেবারেই নেই, যা সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না৷ তারপরও আমি বলব, সব কিছু মাথায় রেখেই আমাদের প্রতিবাদ করে যেতে হবে৷''

জানা গেছে, ধামরাইয়ের ১১নং পশ্চিম সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফৌজিয়া ইয়াসমিন গত শনিবার স্কুলের অফিস কক্ষটি পরিবর্তন করেন এবং অন্য একটি কক্ষকে অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন৷

অডিও শুনুন 01:39

‘সব কিছু মাথায় রেখেই আমাদের প্রতিবাদ করে যেতে হবে’

এ নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিজ নাসিমা ও আক্তার হোসেনের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়৷ বিষয়টি নিয়ে দুই সহকারী শিক্ষিকা বুধবার স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ ফজলুল হক ও সহ-সভাপতি আবদুল মালেককে স্কুলে ডেকে আনেন৷ এ সময় আবদুল মালেক অফিস কক্ষ পরিবর্তন নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন৷ শুধু তাই নয়, এক পর্যায়ে শিক্ষিকাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন তিনি৷

প্রত্যক্ষদর্শী একজন শিক্ষক জানান, ফৌজিয়া ইয়াসমিন প্রতিবাদ করলে উত্তেজিত হয়ে তাঁকে মারতেও যান আবদুল মালেক৷ ভয়ে ফৌজিয়া ইয়াসমিন দৌড়ে স্কুলের টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নেন৷ কিন্তু সেখান থেকেও দুই শিক্ষিকার সহযোগিতায় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয়৷ তারপর তাঁকে মারধর শুরু করেন আবদুল মালেক৷ এতে শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন৷ পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে৷ এ ঘটনায় ফৌজিয়া ইয়াসমিন বুধবার ধামরাই থানায় সাধারণ ডায়েরি ও বৃহস্পতিবার মামলা করেন৷ পরে ঐ দিন বিকেলে সূত্রাপুরের নিজ বাড়ি থেকে আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করে ধামরাই থানা পুলিশ৷

ফৌজিয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘‘সহ-সভাপতির হাত থেকে বাঁচতে আমি ভয়ে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলাম৷ কিন্তু সেখান থেকে বের করে এনে মারধর করা হয় আমায়৷ আর এখন আবদুল মালেক গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে আমাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে৷ আমি এর বিচার চাই৷''

ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷''

এদিকে শ্যামল কান্তি ভক্ত জানান, তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছনার ঘটনার পর এমপি-র এপিএস বিশ্বজিৎ তাঁর কাছে হাসপাতালে এসে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানো, স্কুলে পুনর্বহাল করাসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়৷ তাতেও কাজ না হওয়ায় তাঁকে ভয় দেখানো হয়৷ এমপি নিজে তাঁকে হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ভয় দেখিয়ে বলেন যে, তাঁর কথা না শুনলে সাত খুনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে৷ এ সব ভয়ের মুখে তখন তিনি বিশ্বজিতের আনা একটা কম্পিউটারে কম্পোজ করা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হন৷

শ্যামল কান্তি ভক্ত জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই এমপি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন৷ বৃহস্পতিবারও যোগাযোগ করেছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘এমপি আমাকে বলছেন, আপনি বাঁচেন আর যেন আমিও বাঁচি৷ আপনি সাধারণ শিক্ষক, গরিব মানুষ৷ আমার কথা শোনেন, আপনি বাঁচবেন৷''

শ্যামল কান্তি ভক্ত এমপি সেলিম ওসমানের পদত্যাগ দাবি করে জানান, এমপি-র প্রশাসনে প্রভাব খাটানোর সুযোগ না থাকলে তিনি হয়ত খানিকটা নিরাপদে থাকবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়