1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

এবার জুয়ার দরজা খুলছে জাপান

সব ঠিক থাকলে ২০২০ সালের অলিম্পিকের সময় জাপানের টোকিও ও ওসাকায় প্রথমবারের মতো খোলা হচ্ছে ক্যাসিনো, যে বাজারের দখল নিতে নড়ে চড়ে বসেছেন দুই মার্কিন বিলিয়নেয়ার৷

জুয়ার বৈধতা না থাকায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জাপান ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের কাছে এতোদিন অধরাই ছিল৷ ব্রোকাররা বলছেন, ম্যাকাও ও যুক্তরাষ্ট্রের পর জাপান হতে পারে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জুয়ার আখড়া, যেখান থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলরা মুনাফা তুলে নেয়া সম্ভাব৷

ক্যাসিনো ব্যবসাকে বৈধতা দিতে চলতি বছরই নতুন আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন জাপানি আইনপ্রণেতারা৷ ফলে এ ব্যবসার রাঘব বোয়ালরা টোকিও ও ওসাকায় ক্যাসিনো খোলার অনুমতি পেতে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নেমেছেন৷

শিকাগোর আবাসন ব্যবসায়ী নেইল ব্লুমের নজর জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র ওসাকার দিকে৷ অর্থ-বাণিজ্যের সাময়িকী ফোর্বসের হিসাবে, পেনসিলভানিয়া, শিকাগো ও নায়াগ্রা ফলসে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো ব্যবসা সামলাচ্ছেন ৭৬ বয়সি এই ধনকুবের৷

অন্যদিকে লাস ভেগাসের ‘গেইমিং টাইকুন' শেলডন অ্যাডলেসন আগ্রহী টোকিওর বাজার নিয়ে৷ লাস ভেগাস স্যান্ডস কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী হিসাবে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের জুয়ার ব্যবসা সামলাচ্ছেন অশীতিপর এই বৃদ্ধ৷

রাশ গেইমিংয়ের প্রধান নেইল ব্লুম মনে করেন, ওসাকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শিকাগোর মতোই উদার৷ ক্যাসিনো খুলে দ্রুত জমিয়ে ফেলার সব সম্ভাবনাই ওসাকার রয়েছে৷

Baden in Geldscheinen Symbolbild Eurojackpot

জুয়ার আসর থেকে অর্থ আয়ের স্বপ্ন দেখেন অনেকে (ফাইল ফটো)

তার মতে, টোকিওর পরিস্থিত তুলনামূলকভাবে অনেক কঠিন৷ সেখানে অনুমতি বের করে ক্যাসিনো খোলা এবং ব্যবসা করে ভালো লাভ তুলে আনতে অনেক বেশি অর্থ ও সময় বিনিয়োগ করতে হবে৷

ওসাকায় ক্যাসিনো খোলার আগ্রহ অ্যাডলেসনেরও রয়েছে৷ তবে টোকিওতে ১ কোটি ৩২ লাখ মানুষের বাজার তার কাছে অনেক বেশি লোভনীয় বলে মনে হচ্ছে৷ ইতোমধ্যে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, অনুমতি পেলে জাপানের রাজধানীতে ক্যাসিনো সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে ১০ বিলিয়ন ডলার খাটাতেও তিনি রাজি৷

মরগ্যান স্ট্যানলির সাম্প্রতিক এক প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, জাপানে ক্যাসিনো খুলতে কম করে হলেও ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে নামতে হবে৷ আর তাতে বছরে লাভের সম্ভাবনা ২০ শতাংশের কম৷ অবশ্য ম্যাকাও, সিঙ্গাপুর ও লাস ভেগাসে ক্যাসিনো চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে জাপানের বিষয়ে যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী অ্যাডলেসনের স্যান্ডস কর্পোরেশন৷

এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জর্জ তানাসিজেভিচ বলেন, ‘‘আমাদের সামর্থ্য নিয়ে আমাদের কোনা ভুল ধারণা নেই৷ শেয়ার হোল্ডারদের খুশি রাখার মতো লাভ আমরা তুলে আনতে পারব৷''

টাকার খেলা

চারদিকে অনেক টাকার গল্প শোনা গেলেও নেইল ব্লুম মনে করেন, চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারেই ওসাকায় ক্যাসিনো খুলতে পারবেন তিনি৷ তাছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান জাপানি কোনো কোম্পানির সঙ্গে মিলে যৌথ উদ্যোগে ক্যাসিনো খুললে সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো৷ এ বিষয়ে ব্লুমেরও খুব একটা আপত্তি নেই৷

২৮ লাখ মানুষের শহর ওসাকায় গত এপ্রিলে পরিচালিত এক জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা ক্যাসিনোর পক্ষে৷ এ শহরের গভর্নর ইচিরো মাৎসুই আশা করছেন, যে কোম্পানিই ওসাকায় ক্যাসিনো খুলুক, তারা পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ তো করবেই, পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসার স্বার্থেই রেলওয়ে অবকাঠামোর উন্নয়ন করবে৷

অবশ্য টোকিও কর্তৃপক্ষের মনোযোগ ২০২০ সালের অলিম্পিকের ওপরই পুরোপুরি নিবদ্ধ৷ ক্যাসিনো নিয়ে খুব বেশি নড়াচড়া এখনো তাঁদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না৷ এ ব্যবসার অনুমতি পেতে কি করতে হবে – সে বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা টোকিওর গভর্নর ইয়োইচি মাসুজো এখনো দেননি৷

জেকে/ডিজি (রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন