1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

এবার আলজেরিয়ায় সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু

মিশরের পর এবার আলজেরিয়ায় সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হলো৷ রাজধানী আলজিয়ার্সে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে৷ দেশটিতে ১৯৯২ সাল থেকে জরুরি আইন বলবৎ থাকার কারণে যে কোন ধরণের বিক্ষোভ সেখানে নিষিদ্ধ৷

default

প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফলিকা গত ১৯ বছর ধরে ক্ষমতায়

এদিন প্রায় ২ হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হন আলজিয়ার্সে৷ বিক্ষোভরত লোকজনের ওপরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে৷ বিরোধী রাজনীতিকসহ গ্রেপ্তার করে বেশ কয়েকজনকে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা এই খবর দিলেও, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ঠিক কতজন আহত হয়েছে তা জানা যায় নি৷ জরুরি আইনের কারণে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ হওয়া স্বত্ত্বেও, প্রতিবাদকারীরা বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা আগেই করেছিল এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই শনিবারে এগুতে থাকে৷ তবে সমাবেশের ঘোষণা আগে দিলেও কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেনি৷ আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৩০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানীতে৷ দাঙ্গা পুলিশ চেষ্টা করছে সেখানে যেন মিশরের মতো কোন বিপ্লব না ঘটে৷

প্রথমে টিউনিশিয়া এবং গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিশরে গণবিক্ষোভের পরেই, আলজেরিয়াতে এই বিক্ষোভের সূচনা৷ আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ওরানের এই বিক্ষোভের ডাক আগেই দেওয়া হয়৷ মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পতনের একদিন পরেই এই বিক্ষোভ শুরু হলো আলজেরিয়াতে৷

আলজেরিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ যেন বিক্ষোভে অংশ নিতে না পারে সেজন্য রাজধানীতে আসার রেল ও বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফলিকা গত ১৯ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন৷

আলজিয়ার্সে এই বিক্ষোভ আয়োজনে সহায়তা করেছে ‘লিগ ফর হিউম্যান রাইটস' নামে একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী৷ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের চড়াও হবার ঘটনা সম্পর্কে এই গোষ্ঠীর নেতা মুস্তফা বৌখাচি বলেন, ‘‘আমি এটা দেখে দুঃখিত যে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সরকার প্রচুর পুলিশ নামিয়েছে৷ যা আলজেরিয়ার ভাবমুর্তির জন্যে ভালো নয়৷'' আলজিয়ার্সের কেন্দ্রস্থলে, মে ওয়ান চত্বরে বিক্ষোভকারীদের একটা ছোট অংশ সমবেত হন এবং ‘‘বুতেফলিকা নিপাত যাক'' বলে স্লোগান দেয়৷ অনেকে এই সময়ে পত্রিকার কপিকেই প্ল্যাকার্ড হিসেবে নাড়তে থাকেন৷ যেখানে শিরোনাম ছিল মুবারকের পতন৷

শুক্রবারে মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পদত্যাগ এবং গত মাসে টিউনিশিয়ার সরকার পতনের ঘটনা আরব বিশ্বে কাঁপন ধরিয়েছে এবং এর পরে কোন অঞ্চল, এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে৷ তবে আলজেরিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে সেটা বিশ্ব অর্থনীতিতে দুর্ভোগ বয়ে আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন৷ কারণ এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: জাহিদুল হক