1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘এবার অন্তত সরকার সঠিক দায়িত্বটি পালন করুক'

ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর কিছু মন্তব্যকে ঘিরে তোলপাড় চলছে৷ হজ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয় এবং টক শো-র বক্তাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি৷ এ নিয়েই আজকের ব্লগওয়াচ৷

ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যান৷ রবিবার একটি হোটেলে হজ, তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের টক শো-র বক্তাদের সম্পর্কে তাঁর করা কিছু বিরূপ মন্তব্যের কারণে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে দেশ-বিদেশে৷ এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কার ও গ্রেফতার দাবি করে দু দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম৷ সরকারের পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস৷ লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্তের খবরও আসতে শুরু করেছে মিডিয়ায়৷

সামহয়্যারইন ব্লগে আহমেদ রশীদ লিখেছেন, ‘ধর্মপ্রিয় মুসলমানরা ক্ষুব্ধ : প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কঠিন শাস্তি কাম্য'৷ নিউইয়র্কে করা লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য তুলে ধরার আগে তিনি লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র৷ এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে ধর্মকে কটাক্ষ করে কেউ আজ পর্যন্ত রেহাই পায়নি৷ মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী যে কথা বললেন তা অনেক মুসলমান সহ্য করতে পারছেনা৷

Biswa Ijtema Bangladesch

ব্লগারের দাবি,‘ কুলাঙ্গারকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কার করে দ্রুত শাস্তি দেওয়া হোক’

... সকলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে চেয়ে আছেন এবং তিনি দেশে এসে অবশ্যই তার শাস্তির ব্যবস্থা করবেন৷ হজ্জ মুসলিমদের ধর্মের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর সাথে জড়িত স্বয়ং আল্লাহ সোবহানাতাআলাও তাঁর প্রেরিত অসংখ্য নবী ও রাসূল৷ অতীতে যাঁরা এ কাবাকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছে তারা অনেক কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হয়েছে৷ অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ কুলাঙ্গারকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কার করে দ্রুত শাস্তি দেওয়ার জন্য দেশবাসী আশা করে৷''

আহমেদ শরীফের বর্ণনায়, ‘‘ যাঁরা অংশ নেন তাঁদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী৷ সেই সঙ্গে বলেছেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী, এর চেয়ে বেশি হজ ও তাবলিগ বিরোধী৷' .. মতবিনিময় অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়- টকশোর আলোচকদের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা টকশোয় যায়, তারা টকম্যান, টকমারানি৷ এদের সঙ্গে চুতমারানিদের কোনো পার্থক্য নেই৷ নিজেদের কোনো কাজ না থাকায় তারা সারা দিন ক্যামেরার সামনে গিয়ে বিড়বিড় করে৷''

সামহয়্যারইন-এর ব্লগারের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘‘হজ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ... হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়৷ হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে৷ এদের কোনো কাজ নেই৷ এদের কোনো প্রোডাকশন নেই৷ শুধু রিডাকশন দিচ্ছে৷ শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে৷ অ্যাভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ লোক হজে যায় আর প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে খরচ করে আসে তাহলে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়৷''

সজীব ওয়াজেদ জয় প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্যও তুলে ধরেছেন আহমেদ শরীফ৷ সেখানে লতিফ সিদ্দিকীকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন? জয় ভাই কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়৷ তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ারও কেউ নন৷''

সামহয়্যারইন ব্লগেই মোঃ গালিব মেহেদী খাঁনের লেখাটির শিরোনাম, ‘‘সরকার অন্তত সঠিক দায়িত্বটি পালন করুক৷'

Sajeeb Ahmed Wazed Young Global Leaders of the World Bangladesch

‘জয় ভাই কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়৷’

তাঁর মতে, ‘‘সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে করা বিরূপ মন্তব্য আওয়ামীলীগ হজম করবে না বৈধতা দেবে সেটা আওয়ামীলীগের ব্যাপার৷ এ নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই৷ কিন্তু মহানবী (সঃ) কে অসম্মান করে কথা বলা, বিশেষ করে ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি পবিত্র হজ্ব নিয়ে করা লতিফ সিদ্দিকির ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যকে মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই৷''

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন লিখেছেন, ‘‘হেফাজত কর্তৃক যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নাস্তিক বলে অপবাদ দেয়া হয়েছিল তখন আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম৷ কারণ তিনি ধর্মভীরু বলেই আমরা জানি আর তিনি স্বয়ং এবং তার দল কর্তৃকও সেটাই প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে৷ আজ তারই নেতৃত্বাধীন সরকারের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হয়ে লতীফ সিদ্দিকি কী করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশের মন্ত্রী হয়ে এমন কথা বলেন? ব্যক্তি লতিফ সিদ্দিকি তার বিশ্বাস নিয়ে থাকুন৷ কিন্তু মন্ত্রী পদ মর্যাদায় থেকে এ ধরনের উস্কানিমূলক কথা বলাটা নিশ্চয়ই দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়৷ এবার অন্তত সরকার সঠিক দায়িত্বটি পালন করুক৷''

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন