1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘এত বছর পরেও শোক কাটেনি'

নাৎসি আমলের ইহুদি নিধনযজ্ঞে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আজও ন্যায্য বিচারের আশা ছাড়েন নি৷ তাঁদের আইনজীবী টোমাস ভাল্টার ডয়চে ভেলে-র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অস্কার গ্র্যোনিং-এর বিরুদ্ধে মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন৷

৯৩ বছর বয়স্ক অস্কার গ্র্যোনিং নাৎসি আমলের কুখ্যাত আউশভিৎস নিধন শিবিরের ‘অ্যাকাউন্টেন্ট' হিসেবে পরিচিত৷ ১৯৭৭ সালেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিলো৷ দীর্ঘ তদন্তের পর ১৯৮৫ সালে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়৷ এতকাল পরে আবার নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো কেন? নাৎসি আমলে যারা ভয়াবহ অন্যায়ের শিকার হয়েছিলেন, তাঁরা ও তাঁদের বংশধরদের আইনজীবী টোমাস ভাল্টার ডয়চে ভেলে-র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার নানা দিক মূল্যায়ন করেছেন৷

এ প্রসঙ্গে টোমাস ভাল্টার প্রথমেই ২০১১ সালে মিউনিখে জন ডেমইয়ানইয়ুক-এর বিরুদ্ধে মামলার কথা মনে করিয়ে দেন৷ ততদিন পর্যন্ত জার্মানির বিচার ব্যবস্থায় শুধুমাত্র নাৎসি আমলের নিধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর সুযোগ ছিলো৷ ভাল্টার-ই সেই মামলায় আদালতের অবস্থান বদলাতে সমর্থ হয়েছিলেন৷ ফলে সরাসরি যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও এই হত্যাযজ্ঞে সহায়তার অভিযোগও সমান গুরুত্ব পায়৷ তাছাড়া এ ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে শুধু ইহুদি নিধনযজ্ঞ নয়, আউশভিৎস-এ হাঙ্গেরীয় ইহুদিদের ডিপোর্টেশন-এর নির্দিষ্ট অপরাধ বিবেচনা করা হচ্ছে৷ এই সময় প্রায় ৩ লক্ষ হাঙ্গেরীয় ইহুদিকে হত্যা করা হয়৷

টোমাস ভাল্টার জানালেন, এমন এক প্রেক্ষাপটেই অস্কার গ্র্যোনিং-এর বিরুদ্ধে দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে৷ প্রথমত বন্দিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ার আওতায় গ্র্যোনিং ইহুদিদের অর্থ সংগ্রহ করে হিসেবনিকেশ করে বার্লিনে নিয়ে আসেন৷ তাঁর দ্বিতীয় দায়িত্ব ছিল, আউশভিৎস-এ বন্দিদের আনার পর বাছাই পর্ব সারা৷ অর্থাৎ ট্রেন থেকে তাদের সুটকেস, জামাকাপড়, মৃতপ্রায় মানুষ ও মৃতদেহ সরিয়ে ফেলা৷

অতীতে ডেমইয়ানইয়ুক-এর মতো অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি সরাসরি হত্যাযজ্ঞে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ কিন্তু অস্কার গ্র্যোনিং-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম হবে বলে টোমাস ভাল্টার মনে করেন৷ কারণ গ্র্যোনিং ইহুদি নিধনযজ্ঞ বা আউশভিৎস-এ নিজের উপস্থিতি মোটেই অস্বীকার করছেন না৷ শুধু নিজের ভূমিকাকে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা হিসেবে মানতে প্রস্তুত নন তিনি৷ ফলে এই বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তি ও তিন লাখ মানুষের হত্যাযজ্ঞে সহায়তার অপরাধ শিকার করতে তিনি কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়৷ হয়তো নৈতিকভাবে তিনি তাঁর দায় মেনে নেবেন, যা মোটেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়৷ জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত মামলা চলার কথা৷ তার মধ্যে তিনি হয়তো অপরাধ স্বীকারও করতে পারেন৷ এমনটা হলে ইতিহাস সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন টোমাস ভাল্টার৷

Thomas Walther

টোমাস ভাল্টার

টোমাস ভাল্টার যাঁদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁদের মধ্যে একজনের ৮, অন্য আরেকজনের ৯ জন ভাইবোন ছিল৷ আউশভিৎস-এ পৌঁছনোর পর বাবা-মা সহ তাঁদের সবাইকে হত্যা করা হয়৷ ঘণ্টা-দুয়েকের মধ্যে একটি বড় পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল৷ মাত্র ১৪ বছর বয়স্ক এক সদস্য বেঁচে রইলো৷ এমন মর্মান্তিক পরিণতি কল্পনা করাও কঠিন৷ এভাবে এতকাল আগে যাঁরা পরিবারের প্রায় সব সদস্যদের হারিয়ে এখনো বেঁচে আছেন, তাঁদের দুঃখ-কষ্টের মাত্রা আজও একচুল কমেনি৷ তাঁদের কাছে অপরাধীর শাস্তি বড় বিষয় নয়৷ তাঁরা চান, জার্মানির এক আদালতে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অস্তিত্ব স্বীকার করা হোক – তাঁদের নাম, পরিচয়, ছবি তুলে ধরা হোক৷ তাঁরা যেন তাঁদের মর্যাদা ফিরে পান৷ জার্মানির বিচার ব্যবস্থা নিহতদের পরিবারবর্গের কণ্ঠ শুনুক, এটা তাঁদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ এমনকি অভিযুক্তের সঙ্গেও একটা সংলাপ গড়ে উঠতে পারে৷

টোমাস ভাল্টার এ প্রসঙ্গে জার্মানির বৃহত্তর সমাজের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরেন৷ সংবাদ মাধ্যম শুধু দায়িত্ব পালন করছে না, বিষয়টিকে যথাযথ মর্যাদা দিচ্ছে৷ যারা এতদিন পর নাৎসি আমলের অপরাধ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেছিলেন, তাঁদের মধ্যেও অনেকে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারছেন৷ ইহুদি নিধন শিবিরের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় তাঁদের সংশয় দূর হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন টোমাস ভাল্টার৷ বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের মধ্যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে৷ টোমাস ভাল্টার নিজে বিভিন্ন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন৷ উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকেই তিনি নাৎসি আমলের অপরাধ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন