1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘এতদিন পর হলেও ছেলে হত্যার বিচার পেয়েছি’

‘‘...আমি এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম৷ এখন রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই৷’’ টেলিফোনে ডিডাব্লিউ-কে এক নিশ্বাসে কথাগুলো বললেন বিডিআর-এর তত্‍কালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের মা সৈয়দা মনিকা খাতুন৷

২০০৯ সালের ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় জওয়ানদের এক বিদ্রোহে নৃশংস ও বর্বরোচিতভাবে খুন করা হয় শাকিল আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী নাজনীন শাকিল শিপুকে৷ বিডিআর জওয়ানদের এই বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন৷ মঙ্গলবার এক রায়ে আদালত এই হত্যাযজ্ঞের অপরাধে ১৫২ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে৷

মঙ্গলবারের ঐ রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে আলিয়া মাদ্রাসা ও নবকুমার ইনস্টিটিউট মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজির হয়েছিলেন হত্যাকাণ্ডের শিকার সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী ও স্বজনরা৷ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা সকলেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন৷ সবার একই দাবি, ‘রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই'৷ সাংবাদিকদের কাছেও তাঁরা এভাবেই তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ তাঁদেরই একজন বিডিআর-এর তত্‍কালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের মা সৈয়দা মনিকা খাতুন৷ ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় নিজের বাড়িতেই থাকেন তিনি৷ তাঁর কথায়, ‘‘এতদিন পর হলেও ছেলে হত্যার বিচার পেয়েছি৷ এখন রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই৷''

কারো কারো কণ্ঠে অবশ্য ছিল আরো ব্যাপক ক্ষোভ৷ নিহত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এনশাদ ইবনে আমিনের স্ত্রী রাজিনা মতিন বলেন, ‘‘আমরা এতদিন এই রায়ের জন্য অপেক্ষা করেছি৷

Bangladesch: Soldaten in Handschellen treffen vor dem Gericht in Dhaka ein

রায়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অভিযুক্তদের

দরকার হলে আরও অপেক্ষা করবো৷ তারপরও এর কার্যকারিতা দেখে যেতে চাই৷'' মেজর মোহাম্মদ সালেহ-র স্ত্রী নাসরিন আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা পেছনের ঘটনাটি জানতে চাই৷ কারা, কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, আমরা সে বিষয়ে এখনও কিছুই জানি না৷ আমাদের পেছনের কারণ জানাতে হবে৷ বিশেষ করে, আমার স্বামীকে কে কে খুন করেছে আমি তাদের নাম জানতে চাই৷'' লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু মুছা মো.আইয়ুব কায়সারের স্ত্রী মুশরাত জাহান জানান, ‘‘অতি দ্রুত ভালো একটা সমাধান চাই৷ এই রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয়, সেজন্য আমরা অপেক্ষা করবো৷''

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার কর্নেল সামসুল আরেফিনের স্ত্রী হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘‘রায় যদি কার্যকর না হয়, তাই রায় নিয়ে আগাম কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই না৷ কেননা রায় যদি কার্যকর না হয়, তাহলে আমাদের আক্ষেপের আর শেষ থাকবে না৷ তাই রায় যথাসময়ে কার্যকর করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি৷'' কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী নেহরীন ফেরদৌসি বলেন, ‘‘আমরা এ রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই৷ রাষ্ট্রের কাজ রাষ্ট্র করেছে৷ আমরা আজ সেই বিচারের রায় দেখতে এসেছি৷ প্রতিক্রিয়া এমন কিছু নেই৷ আমাদের সবার চাওয়া, যেন দ্রুত এ রায় কার্যকর হয় এবং দোষীরা শাস্তি পায়৷''

তবে সব আসামির মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বিদ্রোহী জওয়ানদের গুলিতে প্রাণ হারানো শিশু হৃদয় হোসেনের বাবা রাজা মিয়া বেপারী৷ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি এই রায়ে কোনোভাবেই সন্তুষ্ট নই৷ আমি সব অভিযুক্তের ফাঁসি চাই৷''

Bangladesch Meuterei

বিশেষ আদালত কক্ষ

ঐ বিদ্রোহে জওয়ানদের গুলিতে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে একজন হৃদয় হোসেন (১২)৷ রাজা মিয়ার চার সন্তানের মধ্যে হৃদয় একজন হলেও তাঁকে নিয়েই স্বপ্ন ছিল পরিবারের৷ রাজা মিয়া বলেন, ‘‘বড় ছেলেটি ছেলে প্রতিবন্ধী৷ হৃদয়ই ছিল আমাদের প্রধান অবলম্বন৷ পড়াশোনার পাশাপাশি সে আমার কাঁচামালের ব্যবসাতেও সহযোগিতা করত৷'' সেদিন বেসামরিক ব্যক্তিদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো তিনজনের মধ্যে অন্য দুই বেসামরিক ব্যক্তি হলেন – বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পড়ুয়া তারেক আজিজ সজীব (২০) ও রাজমিস্ত্রি আমজাদ আলী (৪৮)৷

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার গভীর চক্রান্তের মাধ্যমে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে৷ পিলখানার বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্যায় ও বানোয়াট মামলায় জড়িয়ে সাড়ে চার বছর ধরে কারাগারে আটক করে রেখেছে৷ বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সরকারি ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর জন্যই রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলকভাবে পিন্টুকে শাস্তি দেয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই প্রহসনের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি৷'' মঙ্গলবার বিকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন৷

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘‘এই ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতারা জড়িত ছিল এমন সংবাদ পরিবেশন করেছে দেশি-বিদেশি অনেক গণমাধ্যম৷ কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ আমলে না নিয়ে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে রাজনৈতিক কারণে সাজা দেয়া হয়েছে৷''

One year after BDR mutiny

নিহতদের আত্মীয় স্বজন

অপরদিকে রায়ের পর নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘২০০৯ সালের ঐ ঘটনার পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ইন্ধন জুগিয়েছে৷ এ ঘটনা ঘটানোর জন্য ৪০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে৷''

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে বিডিআর-এর সাবেক মহাপরিচালক ফজুলুর রহমান ও অন্যান্য সহযোগী কর্মকর্তাদের মধ্যে ৪০ কোটি টাকা ‘বণ্টন' করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ কামরুলের ভাষায়, ৫ কোটি টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা ‘বিভিন্ন পর্যায়ে' দেয়া হয়েছে সেসময়৷ তাঁর কথায়, ‘‘২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল৷ তবে সেদিন সফল না হওয়ায় পরের দিন ঐ ঘটনা ঘটানো হয়৷''

এসব তথ্যের উত্‍স সম্পর্কে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিএনএন টেলিভিশন তাদের ওয়েবসাইটে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে৷ গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকাতেও তা প্রকাশ করা হয়েছে৷ এ সংবাদের সূত্র ধরে তদন্ত করেই ঘটনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন