1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

এডিএইচডি রোগীরা সবসময় অন্যজগতে থাকে

এডিএইচডি রোগের কথা কি কখনও শুনেছেন? শিশুদের এই রোগ হয়ে থাকে৷ এর ফলে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না৷ সবসময় তাদের মনে হয়, তারা যেন স্বপ্নের কোনো জগতে আছে৷ বড়রাও এতে আক্রান্ত হতে পারে৷

বছরখানেক আগের কথা৷ স্কুলে বারবার সমস্যায় পড়ছিল নিকলাস৷ ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছিল না, মন সবসময় অন্য জায়গায় পড়ে থাকতো৷ সে এত অস্থির অবস্থায় থাকতো যে মাঝেমধ্যে চেয়ার থেকে পড়ে যেত৷ ঐ সময় সম্পর্কে এখন আর ভাবতে চায় না নিকলাস৷ শিক্ষকদের কাছে সে ছিল সমস্যা সৃষ্টিকারী একজন এবং সেজন্য তাকে শাস্তিও দেয়া হতো৷ শেষে একদিন নিকলাস অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসক ডাকতে হয়েছিল৷

সমস্যার কারণ এডিএইচডি (অ্যাটেনসন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসওর্ডার)৷ এটি মস্তিষ্কের মনোযোগ সংক্রান্ত এক অসুস্থতা৷ এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের তাদের মন সামলাতে বেগ পেতে হয়৷ নিকলাসও সবসময় তার স্বপ্নের জগতে চলে যায়৷ শিক্ষকদের কথা শোনার চেয়ে সে উত্তেজনাপূর্ণ কিছুর অভিজ্ঞতা নিতে কিংবা রহস্য গল্পে ডুবে যেতে পছন্দ করে৷ এডিএইচডি আক্রান্ত শিশুদের কাছে বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার জগতটা বেশি আনন্দদায়ক৷

অধ্যাপক মিশায়েল শুলটে-মার্কভোর্ট নিকলাসের চিকিৎসা করেন৷ তিনি তাঁর রোগীর মাথার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এডিএইচডি রোগীদের মনের ভেতরটা উত্তেজনায় ভরা৷ তারা বেশ মনোযোগী হয়৷ তবে একটা কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারে না৷ কারণ হঠাৎ করে নতুন কিছুর আবির্ভাব হলে তারা আবার সেই কাজটায় লেগে যায়৷''

এডিএইচডি যে শুধু আক্রান্ত শিশুদের জন্য সমস্যা তা নয়৷ বাবা-মা ও শিক্ষকরাও শিশুদের অদ্ভুত আচরণের কারণে সমস্যায় পড়েন৷ তবে এই অসুস্থতাকে বাগে আনার উপায় আছে৷

অধ্যাপক শুলটে-মার্কভোর্ট বলেন, ‘‘এডিএইচডি চিকিৎসার শুরুতে রোগী সম্পর্কে তথ্য জানতে হবে৷ বাবা-মা আর শিক্ষকদের বুঝতে হবে যে, শিশুরা যে মনোযোগী হচ্ছে না, তার জন্য তাঁরা দায়ী নয়৷ একেকটা দিন শিশুরা কীভাবে কাটাবে, সেই পথ তাদের দেখিয়ে দিতে হবে৷''

অবসর সময়ে সে তাঁর অতিরিক্ত শক্তি নিঃশেষ করতে পারে৷ চারপাশে ঘুরে বেড়ানোর কারণে স্কুলে সে স্থির হয়ে বসতে পারে৷ চিকিৎসার ফলে নিকলাস তার মাথায় আসা চিন্তাগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি বাছাই করে শুধু সেগুলোতে মনোযোগ দিতে পারে৷ চিকিৎসা ও স্কুল পরিবর্তনের কারণে সে এখন কার্যকরভাবে দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে পারছে৷

জেডএইচ/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক