1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

‘এটা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়, আমরা তা মানিনা''

মোটর সাইকেলে চালক ছাড়া সঙ্গী বহনে বাংলাদেশ সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে৷ ডিডাব্লিউ-র ফেসবুকে বন্ধুরা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে, বিপক্ষে মতামত জানিয়েছেন যা এখানে তুলে ধরা হলো৷

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এই অবরোধের মধ্যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে নাশকতার প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত৷ সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা ডয়চে ভেলের পাঠক বন্ধুরা সমর্থন করেন কিনা জানতে চাওয়া হয়েছিলো ফেসবুকে৷

‘‘এটা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়, আমরা তা মানিনা'' পাঠক মো.ইমতিয়াজের মতো এরকম মন্তব্যই করেছেন বেশিরভাগ বন্ধু৷ নিষেধাজ্ঞা আরোপ সম্পর্কে ফেসবুক পোষ্টটি দেখেছেন ৪০হাজারেরও বেশি পাঠক ৷ আর লাইক করেছেন দু’হাজারের অধিক৷ এবং মন্তব্যের ঘরে যাদের নাম দেখা যাচ্ছে তাদের সংখ্যা দু’শোর ওপরে৷ ফেসবুকে অন্যদের সাথে শেয়ার করেছেন অনেক বন্ধু৷

মাসুম আরাফাতের মন্তব্য, ‘‘এটা মানা যায়না, যখন যা মনে হয় তাই কী হবে? জনগণেরও মত চাই৷ সবার কাছে তো ১টি করে গাড়ি নাই৷''

মোঃ মনিরুল ইসলাম স্বপন বেশ রসিয়ে লিখেছেন, ‘‘এর পর হবে স্বামী-স্ত্রী রাতে মেলামেশা চলবেনা৷''

দুবাগ ইউিনয়নের পরামর্শ, ‘‘এইসব বাদ দিয়া আলোচনায় বসুন, তাইলে জনগণের উপকার হয়৷''

সোহেল রানার মন্তব্য,‘‘ইহাই বর্তমান সরকারের দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ৷ একগুঁয়ে লোকেরা তাদের প্রকাশ এভাবেই করিয়া থাকেন....৷''

এনায়েত করিম সুমনের তেমন কোনো মতামত নেই ৷ তিনি পত্রিকায় যা দেখেছেন তাই জানিয়েছেন৷ সুমন লিখেছেন, ‘‘ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কিছু প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে যে, সারা দেশব্যাপী জামায়াত শিবির মোটর সাইকেলে নাশকতার রসদ আদান-প্রদান করে, অপারেশন চালায় ও পরিচালনা করে৷ আমার মনে হয় এ কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা৷''

মোশারফ ইসলাম শোহান অনেক দুঃখ করে লিখেছেন, বিয়ে করাটা এইবার বন্ধ করার পালা, হায়রে গণতন্ত্র হায়!!!!

পাঠক মিজানুর রহমান মনে হয় স্ত্রীকে নিয়ে খুব ঘুরে বেড়াতেন মোটর সাইকেলে৷ এই নিষেধাজ্ঞায় তিনি ভাবছেন, এবার তাঁর স্ত্রী'র জন্যও একটি মোটর সাইকেল কিনে ফেলবেন৷

ফেসবুক বন্ধু শাজাহান মিঞা, মাসুম বিল্লাহ এই সিদ্ধান্ত মানেন না৷ রকো এবং এমএ আলমেরও একই মত তাঁরা লিখেছেন, কখনো না!

তাদেরই মতো সৈয়দ ফয়সাল ইসলাম, রাকিব আল জাবেদ, এমএ করিম, সুমন মহিবুল্লাহ, আহ-হাসান শেখ, আরিফ আহমেদও এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন না লিখেছেন৷ রাজিবুল হাসান রাজন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে সরাসরি অদ্ভুত বলে মন্তব্য করেছেন৷ লিখেছেন, অদ্ভুত হাসিনা অদ্ভুত !

অন্যদিকে শাকিল আহমেদের ভিন্ন মত পোষণ করেন , ‘‘এতে ছিনতাই কমবে, ভালো উদ্যোগ৷''

ফেসবুক বন্ধু ফকরুল ইসলাম জানিয়েছে তাঁর মতে, ‘‘খুব ভালো সিদ্ধান্ত, এটা দেশ এবং জনগণের জন্যও ভালো৷''

মো.হাসনাত রীতিমতো খেপে গিয়ে লিখেছেন, ‘এটা নাকি অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে৷' পাঠক মো.আবদুস সালাম এতটাই হতাশ যে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যই করতে চাননা৷

মামুন রশীদ জানিয়েছেন, এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তি মোটর সাইকেলে চড়তে পারবেন না৷ বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়৷ আদেশে বলা হয়, ‘‘লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে সাম্প্রতিককালে কিছু দুর্বৃত্ত মোটর সাইকেল ব্যবহার করে বিভিন্ন যানবাহনে বোমা হামলাসহ ব্যাপক সহিংসতা ও নাশকতা চালাচ্ছে৷ এ ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা রোধে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৯৮৩ সালের মোটর ভেহিকেলস অধ্যাদেশ এর ৮৮ ধারার ক্ষমতাবলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকার সারা দেশে মোটর সাইকেলে চালক ব্যতীত অন্য কোনো যাত্রী বা সঙ্গী বহন নিষিদ্ধ করল৷''

বর্তমান সরকারকে নিয়ে ফেসবুকে খান এনায়েতের মন্তব্য , ‘নিত্য নতুন ফরমুলা পাগল সরকার'৷

মাসুদ সরকারের মতে, রোগের চিকিৎসা না করে রোগীকে মারা হবে৷

রকি মালিথা এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত নন৷ তিনি মনে করছেন বাংলাদেশ সরকার বাঙালির জাতির সাথে এভাবে খেলছে, ঠাট্টা করছে৷

রাকিবুল ইসলাম রাকিব লিখেছেন,, ‘‘বাপের হোটেল মনে করছে নাকি...যা ইচ্ছা তাই করবো..৷''

রাসেল তালুকদার দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বেশ চটে আছেন বোঝা যাচ্ছে৷ তিনি ফেসবুকে তার মন্তব্য ‘‘যখন যেভাবে ইচ্ছে হচ্ছে আর পাগলামি করছে! দেশটা কি কিনে আনছে!????

ওয়াহিদ রেহমান ডয়চে ভেলের ফেসবুকে তাঁর মতামত জানিয়েছেন এভাবে, হাসিনা সরকার পুরাই পাগল হয়ে গেছে, যে কারণ এরকম অদ্ভুত টাইপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ মোটর সাইকেলে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আর ঘোরা যাবেনা বলে মোহাম্মদ রাসেলের অনেকের দুঃখ৷ রুবেল ইসলাম আলীর মতে,‘‘এই সরকার মানুষের কথা ভাবেনা শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবে৷''

কাজি মোহাম্মদ মোজাম্মেল এবং মাহবুবুর রহমান কিছুতেই এই সিদ্ধান্ত মানেন না৷ তবে খান রাহাত রহমান কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন৷ পাঠক মাহবুবুল হকের মতে, এই সিদ্ধান্ত নাকি আগেই নেওয়া উচিত ছিলো৷

জিয়াউর রহমানের ভাষায়, ‘‘সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে সবকিছু করতে বদ্ধপরিকর৷ আর তাদের এই কার্যকলাপে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সাধারণ মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হই৷ এই নিষেধাজ্ঞা ও তেমন বলে মনে করি, আমি এই নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করিনা৷''

জাহেদুল ইসলাম চিন্তিত হয়ে জানিয়েছেন, ‘‘যাদের বউ আছে তারা কী করবে, আমি এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করি না৷''

সামসুল ইসলাম দেশের পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরিই হতাশ৷ লিখেছেন, ‘‘সমর্থন করি না কিন্তু আমাদের কিছুই করার নাই, কারণ এটা বাংলাদেশ৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন