1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘এটাই ইটালির শেষ ভূমিকম্প নয়'

ইটালির ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে৷ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন কম্পন বিচ্ছিন্ন নয়৷ গোটা দেশের ভূতাত্ত্বিক কাঠামো অত্যন্ত নাজুক৷ ফলে অতীতের মতো আবার বড় আকারের ভূমিকম্প ঘটতে পারে৷

ইটালির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বুধবার ভোররাতের ভূমিকম্পের ফলে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়ছে৷ রিশটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬.২৷ মৃতের সংখ্যা প্রায় আড়াই'শ৷ ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ উদ্ধারকর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেছেন৷

ভিডিও দেখুন 02:35

উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে সংগ্রাম করে জীবিত অবস্থায় মানুষজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ ভূমিকম্পের প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যায় ১০ বছরের এক বালিকাকে উদ্ধার করা হয়৷

বিশেষ করে আমাত্রিচে ও আকুমোলি গ্রামে ধ্বংসলীলা চোখে পড়ার মতো৷ সেখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন৷ শহরটি কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে মেয়র জানিয়েছেন৷ এক খাদ্য উৎসব উপলক্ষ্যে অনেক পর্যটকও সেখানে এসেছিলেন৷ ইটালির প্রধানমন্ত্রী মাটেও রেনসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, এই কষ্টের কোনো সীমা নেই৷ তিনি সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেন৷

বুধবারের ভূমিকম্প একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না৷ ব্রিটেনের ডারহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ওয়াল্টার্স সংবাদ সংস্থা এপি-কে বলেন, ইটালির কেন্দ্রস্থলে অ্যাপেনাইন পাহাড়ি এলাকা পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত৷ ২০০৯ সালে প্রায় নব্বই কিলোমিটার দক্ষিণে লাকিলা শহরে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল৷ মার্কিন জিওলজিকাল সার্ভে জানিয়েছে, বুধবারের ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ঘটেছে৷ ফলে ধ্বংসের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে৷

ঘনঘন কম্পন সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অনেক বিশেষজ্ঞ অভিযোগ করেন৷ ভবিষ্যতেও এমন বিপর্যয় ঘটবে, এ বিষয়ে তাঁদের মনে সন্দেহ নেই৷ সেই অঞ্চলের বাড়িঘর ও বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য আরও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে৷ ইটালির জিওলজিকাল ইনস্টিটিউট-এর কর্মকর্তা ফাবিও তর্তোরিচি সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে বলেন, গড়ে ১৫ বছর অন্তর রিশটার স্কেলে ৬.৩ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রত্যাশা করা যেতে পারে৷ তাই প্রতিরোধ ও মানুষের সুরক্ষার জন্য আরও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত৷

২০০৮ সালে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইটালির ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় মাত্র ১৪ শতাংশ ভবন নিরাপত্তার মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়েছে৷ সে বছরই এই মানদণ্ড আরও বাড়ানো হয়৷ কিন্তু বেশিরভাগ বাড়িঘরই অরক্ষিত থেকে গেছে৷ জাতীয় বিমা সংগঠনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পৌরসভা এমন এলাকায় অবস্থিত৷

বিপর্যস্ত অর্থনীতির কারণে ইটালির সরকারের পক্ষে নিরাপত্তা বাড়াতে বিশাল অঙ্কের ব্যয় করা সম্ভব নয়৷ তাছাড়া প্রাচীন বাড়িঘর নিরাপদ করে তোলার উদ্যোগ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষও বটে৷

এসবি/ডিজি (এপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন