এখনো ভুয়া পরিচয়ে বাড়িভাড়া নিতে পারে জঙ্গিরা! | বিশ্ব | DW | 12.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

এখনো ভুয়া পরিচয়ে বাড়িভাড়া নিতে পারে জঙ্গিরা!

পশ্চিম নাখালপাড়ায় তিন ‘জঙ্গি' নিহত হয়েছে৷ র‌্যাব বলছে, নিহতরা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল৷ হোলি আর্টিজান হামলার দেড় বছর পরও ভুয়া পরিচয়ে বাড়িভাড়া নেয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন?

default

ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ঢাকার পশ্চিম নাখালপাড়ার রুবি ভিলা'র পঞ্চম তলায় তিন ‘জঙ্গি' নিহত হন৷ এর আগে মধ্যরাত থেকে র‌্যাব সদস্যরা জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে রাখে৷ র‌্যাব বলেছে, ‘‘জঙ্গিরা আমাদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে গুলি ছোড়ে৷ আমরাও পাল্টা গুলি ছুড়ি৷ ভোররাতে তারা নিহত হয়৷ তাদের কক্ষে অবিস্ফোরিত আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক পাওয়া গেছে৷''

র‌্যাব এখনো নিহতদের নাম পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি৷ তবে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ ব্রিফিংয়ে জানান, ‘‘নিহতরা জেএমবি'র সদস্য এবং তারা গুরুত্বপূর্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছিল৷'' তিনি আরো জানান, ‘‘ছয় তলা বাড়িটির পঞ্চম তলায় তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে৷ পঞ্চম ও ষষ্ঠ এই দুই ফ্লোরে মেস করে ভাড়াটিয়ারা থাকেন৷ সবক'টি ফ্ল্যাট মিলিয়ে ২০ জনের মতো থাকতো সেখানে৷ এর মধ্যে পঞ্চম তলার জঙ্গিরা যে ফ্ল্যাটে ছিল, সেখানে সাত জন ছিল৷ তিন জঙ্গি ছাড়া বাকিরা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়৷ তিন জঙ্গি একটি কক্ষে থাকতো৷''

Bangladesch Dhaka - Sicherheitskräfte fanden sieben Schädel und weiteres in einem Versteck

ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘‘গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাহিদ নামের এক জঙ্গি বাড়িটি ভাড়া নেয়৷ ভাড়া নেওয়ার সময় জানিয়েছিল, সে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে৷ দুই ভাইসহ সে একটি কক্ষে থাকার কথা বলে বাসায় ওঠে৷ ৪ জানুয়ারি জাহিদ একা বাসায় উঠেছিল৷ ৮ তারিখ বাকি দুইজন আসে৷ বাসা ভাড়া নেয় একটি ন্যাশনাল আইডি কার্ড ব্যবহার করে৷ সেটাকে আমরা ভুয়া বলে সন্দেহ করছি৷ তারা অন্য কারুর আইডি কার্ড ফটো কপি করে সেখানে প্রকৃত আইডিধারীর নাম মুছে দিয়ে জাহিদ নাম বসিয়ে দেয়৷''

জঙ্গিদের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহারের বিষয়টি নতুন নয়৷ গত বছরের ৮ মার্চ মিরসরাই পৌর এলাকার একটি বাসায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃংখলা বাহিনী৷ সেই বাড়িটি জঙ্গিরা ভাড়া নিয়েছিল কাপড় ব্যবসায়ী পরিচয়ে৷ ভাড়াটিয়া যে জাতীয় পরিচয়পত্রটি ব্যবহার করেছিল, তা ছিল নকল৷

১৬ মার্চ  সীতাকুণ্ডে সন্ধান পাওয়া জঙ্গি আস্তানার জন্য বাসা ভাড়া নেয়া হয়েছিল একই কৌশলে৷ ব্যবহার করা হয়েছিল ভুয়া এনআইডি৷ তাদের এনআইডি যাচাই করতে গিয়েই পুলিশ জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পয়৷ ঢাকার  উত্তরার আশকোনা, সিলেটের আতিয়া মহল ও মৌলভীবাজারে জঙ্গিরা নিজেদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল এবং তাদের এনআইডিও ছিল ভুয়া৷ কুমিল্লার কোটবাড়িতে রনি ও খালেদ নামে দুই জঙ্গি কাপড় ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসা  ভুয়া এনআইডি দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিল৷ গত বছরের জুলাইয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে আটক জেএমবি নেতা আইয়ুব আলী ও তার স্ত্রী সেখানে বাসা ভাড়া নিয়েছিল ডিস ব্যবসায়ী পরিচয়ে৷

অডিও শুনুন 01:23
এখন লাইভ
01:23 মিনিট

‘পুলিশ এনআইডি পরীক্ষা না করলে ভাড়াটিয়ার তথ্য তেমন কাজে আসেনা’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এর আগে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এবং নীলক্ষেত এলাকা থেকে ভুয়া ন্যাশনাল আইডি প্রস্তুতকারক চক্রের সদস্যদের আটক করেছি৷ ওই চক্রটি প্রকৃত ন্যাশনাল আইডি কার্ড থেকে ইচ্ছে মতো ছবি ও ঠিকানা পাল্টে দিয়ে যত খুশি তত ভুয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড বানাতে পারে৷ এরকম আরো অনেক চক্র আছে বলে সন্দেহ করি৷ স্ক্যান করে অথবা ফিচারগুলো নকল করে ভুয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড বানানো এখন প্রযুক্তিগতভাবে খুবই সহজ৷ তবে এগুলো ভেরিফাই করলে সহজেই নকল ধরা পড়ে৷ বাড়িওয়লারা আমাদের কাছে এলে আমরা তা করে দিতে পারি৷''

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভির জোহা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যারা বাসা ভাড়া দেন তারা ভাড়াটিয়ার এনআইডি'র ফটোকপি এবং তথ্য ফর্ম থানায় পাঠান৷ থানার কাজ হলো তাৎক্ষণিকভাবে ওই এনআইডি আসল না নকল তা পরীক্ষা করা৷ সেটা যদি তারা না করেন, তাহলে এই ভাড়াটিয়ার তথ্য নেয়া তেমন কোনো কাজে আসে না৷ আর এটা পরীক্ষা করে দেখা খুবই সহজ৷ এনআইডি'র ওয়েবসাইটেই তা করা যায়৷''

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘শুধু এনআইডি নয়, ভাড়াটিয়া তথ্যের সঙ্গে ফোন নম্বার এবং ছবিও থাকে৷ এই ফোন নাম্বার এবং ছবি দিয়েও এখন একজনের প্রকৃত নাম ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়৷''

অডিও শুনুন 02:10
এখন লাইভ
02:10 মিনিট

‘শিগগিরই ডাটাবেজটি ব্যবহার উপযোগী করতে পারব’

এ বিষয়ে এনআইডি প্রকল্পের মহাপরিচালকসহ আরো দু'একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে ফোন করে তাঁদের পাওয়া যায়নি৷

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ নাগারিকরা সরাসরি এনআইডি ভেরিফাই করতে পারেন না৷ অনেকের কাছেই প্রক্রিয়াটি জটিল মনে হয়৷ তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরাকারের ৮২টি প্রতিষ্ঠান এটা ভেরিফাই করতে পারে৷ আর কেউ যদি আবে,ন করেন, তাহলে এনআইডি প্রকল্প থেকেও ভেরিফাই করানো সম্ভব৷

হোলি আর্টিজান হামলা, অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের পরই ডিএমপি'র উদ্যোগে ঢাকায় ভাড়াটিয়াদের তথ্য নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়৷ কিন্তু বাড়ি এবং ভাড়াটেদের তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ডিএমপি৷ এসব তথ্য দিয়ে একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার কথা৷  গত ২০ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার ১৯ লাখ ৬ হাজার ৮৯৯টি পরিবারের তথ্য ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে৷ ডিএমপির উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘প্রতিনিয়তই রাজধানীতে নগরিকরা বাসা পরিবর্তন করেন৷ নতুন মানুষ আসেন৷ আবার কেউ রাজধানী ছেড়ে চলে যান৷ তাই প্রতিনিয়তই নতুন তথ্য আসছে৷ আমরা আশা করছি, শিগগিরই এই ডাটাবেজটি ব্যবহারোপযোগী করতে পারব৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও